Home ব্যাকুল হৃদয়ের প্রনয়িনী ব্যাকুল হৃদয়ের প্রনয়িনী পর্ব ১০+১১+১২

ব্যাকুল হৃদয়ের প্রনয়িনী পর্ব ১০+১১+১২

ব্যাকুল হৃদয়ের প্রনয়িনী পর্ব ১০+১১+১২
তানিশা ভট্টাচার্য্য

-“তো গানটা কেমন লাগলো আপনার ম্যাম?”
-“অনেক সুন্দর ভাইয়া।”
আর্ভিক এতক্ষণ হাসিমুখে তানভীর দিকে তাকিয়ে ছিল, কিন্তু ‘ভাইয়া’ শব্দটা কানে যেতেই তার মুখ গম্ভীর হয়ে যায়। সে এক ধাক্কা দিয়ে তানভীকে কোল থেকে বিছানায় ফেলে দিল। নীলাদ্রি আর ঋষি এতক্ষণ তাদের দুজনের খুনসুটি গুলো দেখছিল কিন্তু হঠাৎ আর্ভিকের এমন ব্যবহারে তারা দুজনেই হতভম্ব হয়ে যায়। তানভী বিছানায় পড়ে গিয়ে কান্না মিশ্রিত কন্ঠে আর্ভিককে বলে

-“ভাইয়া আমাকে ফে……”
তানভীর কথাটা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই তার গালে আর্ভিকের শক্ত হাতের একটা থাপ্পর এসে পড়ে। তাল সামলাতে না পেরে সে বিছানা থেকে নিচে পড়ে যায় এবং গাল চেপে ধরে কান্না করতে থাকে। আর্ভিকের এমন কাণ্ডে ঋষি আর নীলাদ্রি আর্ভিককে বলে

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

-“ভাইয়া কি করছো। বোনুকে মারলে কেন তুমি!!”
-“আর্ভিক Are you crazy? কেন মারলি মেয়েটাকে!”
কারোর কথাই যেন আর্ভিকের কানে গেল না,সে রাগান্বিত চোখে তানভীর দিকে তাকিয়ে রইল। আর্ভিকের মা উপর থেকে কান্না শব্দ পেয়ে দেখতে আসেন। তিনি এসে দেখেন যে তানভী বামগাল চেপে ধরে কান্না করছে। তিনি তাড়াতাড়ি তানভীর কাছে যান এবং তার গালে থেকে হাতটা সরিয়ে দেখেন গালে পাঁচটা আঙুলের দাগ পড়েগেছে। তিনি তানভীকে কোলে নিয়ে আর্ভিকের কাছে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করেন

-“সিনু, এসব কি ধরনের অসভ্যতামী কেন মেরেছিস ওকে ?”
আর্ভিক তখনও নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে রইলো। আর্ভিকের মা তানভীকে কোলে নিয়ে নিচে চলে গেলেন। নিচে এসে তানভী তার বাবার কাছে গিয়ে বলে
-“বাবা বাড়ি চলো।”
-“কেন মামনি,কি হলো? আর তুমি কান্না করছ কেন।”
আর্ভিকের মা তানভীর বাবাকে সবকিছু বললেন। রুদ্র বাবু সবকিছু শুনে বললেন

-“তানভী নিশ্চয়ই কোনো দুষ্টুমি করেছে সেই জন্যই হয়তো আর্ভিক মেরেছে, আর্ভিককে এই বিষয় নিয়ে বকাবকি করবে না কেউ ।”
তারপর তিনি তানভীর দিকে তাকিয়ে বললেন
-” চলো মামনি বাড়ি চলো।”
এরপর রুদ্র বাবু তানভীকে নিয়ে বাড়ি চলে গেলেন।

-“ভাইয়া, তানভী তো কিছুই করেনি তাহলে তুমি ওকে কেন মারলে?”
-“হ্যাঁ ঋষির সাথে আমিও একমত তুই কেন মারলি মেয়েটাকে শুধু শুধু”
-“ও আমাকে ভাইয়া ডাকবে কেন”
কথাটা অত্যন্ত গম্ভীর কণ্ঠে আর্ভিক বলল। আর্ভিকের এমন কথায় নীলাদ্রি বলল
-“তানভীর থেকে তুই ৮ বছরের বড় আর্ভিক , তোকে ভাইয়া বলবে না তো কি বলবে? তাছাড়া ঋষি ওকে বোনু বলে আঙ্কেল আন্টি ওকে নিজের মেয়ের মত দেখে তাহলে তোকে ভাইয়া ডাকলে তোর প্রবলেমটা কোথায়‌।”

-“তুই বুঝবি না নীল”
-“বুঝবোনা বলেই তো তোর কাছে বুঝতে চাইছি। বোঝা আমাদেরকে তানভী কে কেন মারলি তুই?”
আর্ভিক একবার ঋষি আর নীলাদ্রির দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতে শুরু করে
-“তানভীকে আমি কখনোই না আমার বোনের চোখে দেখি আর না কখনো বোন বলে মানি, তানভী আমার প্রনয়ের প্রণয়িনী। হ্যাঁ, সে আমার ব্যাকুল হৃদয়ের প্রনয়িনী। আমার বেঁচে থাকার একমাত্র কারণ, আমি আর্ভিক তানভীকে ছাড়া পুরোই অস্তিত্বহীন।”
আর্ভিককের এমন কথা শুনে নীলাদ্রি ও ঋষি যেন আকাশ থেকে পড়ল।
-“ভাইয়া তুমি তানভীকে…”

-“হ্যাঁ ঋষি আমি তানভীকে নিজের প্রাণের থেকেও বেশি ভালোবাসি। ওকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারব না। তোরাই বল প্রিয় মানুষের মুখে ভাইয়া ডাক শুনতে কার ভালো লাগে বল! আজ ওর গায়ে আমি হাত তুলেছি যতটা না ওর লেগেছে তার চেয়ে শত কোটি গুণ আমার লেগেছে।”
আর্ভিক একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল তারপর আবার বলা শুরু করল
-“বড়মা মারা যাওয়ার আগে তানভীর পুরো দায়িত্ব আমার উপর দিয়ে যায়। সেদিন থেকেই নিজের কাছে নিজে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই যে, যাই হয়ে যাক না কেন তানভীকে আমি সব সময় নিজের করে রাখবো। সব বিপদ আপদ থেকে আগলে রাখবো, ওর উপর কোন বিপদ আসার আগে সেটা যেন আমার উপর দিয়ে যায়। কিন্তু…কিন্তু আজ আমি ওর গায়ে হাত তুললাম আমার কলিজা পুড়ে যাচ্ছে নীল..!”
শেষের কথাগুলো বলার সময় আর্ভিকের কণ্ঠস্বর কেঁপে যায় সে আর কিছু বলতে পারেনা কান্নায় ভেঙে পড়ে। ঋষি আর নীলাদ্রি দুজনে আর্ভিককে সান্ত্বনা দিতে দিতে বলে
-“ভাইয়া তুমি শান্ত সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।”

-“দাদাভাই তারপর কি হলো?”
-“তারপর। তারপর আর কি হবে আর্ভিকের ঐরকম ব্যবহারে তানভী চৌধুরী নিবাসে আসা বন্ধ করে দিল। সেটা সহ্য করতে না পেরে আর্ভিক পড়াশোনার জন্য ক্যালিফোর্নিয়াতে চলে গেল।”
নীলাদ্রি একটু থামল তারপর আবার বলা শুরু করল
-“শারীরিকভাবে ক্যালিফোর্নিয়াতে থাকলেও মানসিকভাবে আর্ভিক এখানেই ছিল। সারাটাক্ষণ ঋষিকে দিয়ে তানভীর খোঁজ নেওয়া থেকে শুরু করে সমস্ত রকম দায়িত্ব পালন করে গেছে। তানভীকে তার নয় বছরের জন্মদিনে একটা গিটার ও গিফট করেছিল। এই সব কিছুই আমি আর ঋষি ছাড়া কেউ জানে না।”

-“দাদাভাই একটা কথা জিজ্ঞাসা করব!?”
-“হুম বল”
-“বড়মা টাকে?”
-“বোনু আমার খুব খিদে পেয়েছে মাকে গিয়ে বল আমাকে খাবার দিতে”
মেঘাদ্রির কথাটা একেবারে এড়িয়ে গেল নীলাদ্রি। মেঘাদ্রি সেটা ভালোমতোই বুঝতে পারলকিন্তু কিছুই বলল না।

প্রায় ১০ মিনিট ধরে দরজায় ধাক্কা দিয়ে যাচ্ছে ঋষি, তোজো তার পাশে নীরব দর্শকের মতো দাঁড়িয়ে আছে। কিছুক্ষণ পর আর্ভিক এল সেখানে তাকে আসতে দেখে ঋষি আর তোজো দুজনেই সরে গেল। ঋষি বলল
-“ভাইয়া অনেক চেষ্টা করলাম দরজা খুলল না। তাছাড়া ভিতর থেকে কোনো আওয়াজ ও আসছে না।”
আর্ভিক শীতল দৃষ্টিতে ঋষির দিকে তাকিয়ে জোরে ডাকল
-“তানভী!”
এতক্ষণ ধরে তানভী রুমে ঘুমাচ্ছিল আর্ভিকের হঠাৎ এমন ডাকে সে ঘুম থেকে উঠে পড়ে। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে দুপুর ১:৩০ বাজে। তারপর তাড়াতাড়ি করে এসে দরজাটা খুলে দেয়। দরজা খোলার আওয়াজে ঋষি আর তোজো দুজনেই অবাক নয়নে আর্ভিকের দিকে তাকিয়ে রইল। আর্ভিক তানভীর দিকে তাকিয়ে তোজো কে উদ্দেশ্য করে বলল

-“তোজো, বড়মা কাছে থেকে খাবারটা নিয়ে আয়।”
আর্ভিকের কথা মতো তোজো চলে গেল। এরপর আর্ভিক তানভীর পাশে কাটিয়ে রুমের মধ্যে ঢুকে বিছানায় বসল। তারপর তানভীকে চোখের ইশারায় অপর দিকে বসতে বলল। ততক্ষণে তোজো খাবারের প্লেট এনে আর্ভিককে দিয়ে চলে গেল। তানভী বিছানায় বসতে বসতে বলল

-“আ..আ..আমি খাব না। খিদে নে… ”
পুরো কথা শেষ করতে পারল না তানভী আর্ভিকের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দেখে চুপ হয়ে গেল। আর্ভিক লক্ষ্য করল তানভীর চোখদুটো ফোলা ও লাল হয়ে আছে, অতিরিক্ত কান্নার দরুন এমন হয়েছে। মাথার চুল গুলো এলোমেলো হয়ে আছে। আর্ভিক এক লোকমা ভাত তার মুখে দিয়ে দিল। তানভী ও কোনো কথা না বলে চুপচাপ সব খেয়ে নিল। তানভী কে খাইয়ে দিয়ে আর্ভিক রুম থেকে বেরিয়ে গেল।

বিকালবেলা রুদ্রবাবুরা সবাই বাড়ি চলে গেলেন। কিন্তু আর্ভিকের মা তানভীকে যেতে দেননি। রাতের বেলা খাবার শেষ করে সবে মাত্র রুমে এসেছে তানভী হঠাৎ তার চোখ গেল বিছানার উপর রাখা একটা ছোট্ট কাগজের উপর। সে এগিয়ে গিয়ে ওটা তুলে নিল। তাতে লেখা ছিল,

𝐌𝐲 𝐃𝐞𝐚𝐫,
𝐁𝐥𝐮𝐞 𝐁𝐢𝐫𝐝
ছাদে আসুন….
তানভী লেখাটা পড়ে ভাবল, কাগজটা এখানে কে রাখল। ছাদে যাওয়াটা কি ঠিক হবে। এসব ভাবতে ভাবতে সে ছাদে পৌঁছে গেল। ছাদের দরজাটা খোলা মাত্রই রাশি রাশি গোলাপের পাপড়ির বর্ষণ হল তার ওপর। একটু সামনে এগোতেই সে দেখতে পেল সারা ছাদ মোমবাতির আলোয় আলোকিত আর ছাদের মাঝ বরাবর ফ্লোরে নানারকমের ফুলের পাপড়ি দিয়ে লেখা

”𝐈 𝐚𝐦 𝐒𝐨𝐫𝐫𝐲 𝐌𝐲 𝐁𝐥𝐮𝐞 𝐁𝐢𝐫𝐝” লেখা গুলোর চার পাশে প্রদীপ দিয়ে সাজানো। হঠাৎ কেউ গিটারে সুর তুলে গাইতে লাগল
“Tera hi saath maangna, teri hi baanh thaamna
Mujhe jaana nahi kahin tere bina
Tu mujhse phir na roothna, kabhi kahin na chhootna
Mera koi nahi yahan tere siva…”

তানভী এবার দেখতে পেল ছাদের একটা কর্নারে হেলান দিয়ে আর্ভিক গিটার নিয়ে গান গাইছে। তার পরনে ছিল একটা লাল আর কালো চেক শার্ট হাতা গোটানো, বুকের কাছে দুটো বোতাম খোলা গলায় সোনার চেন আর তাতে ইংরেজি “𝐓” অক্ষরের একটা লকেট।গাঢ় বাদামী রঙের ট্রাউজার পরা। তার এলোমেলো চুল গুলো কপালে এসে পড়েছে আর হালকা বাতাস এসে ছুঁয়ে দিচ্ছে সেগুলো কে।
মোমবাতির আলোয় আর্ভিকের মুখটা অসম্ভব মায়াবী লাগছে। তানভী ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সে দিকে। আর্ভিকের এমন আচরণে তানভীর আর্ভিকের প্রতি জমে থাকা সব রাগ-অভিমান বরফের মতো গলে জল হয়ে গেল। হঠাৎ সে আনমনে ডেকে ওঠে

-“আর্ভিক ভাই!”
তানভীর কথায় গান থামিয়ে আর্ভিক এগিয়ে আসে তার দিকে। তানভী মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে তার আসার দিকে। আর্ভিক তানভীর অনেকটা কাছে এসে ঘোর লাগা কন্ঠে বলল
-“এই ভাবে তাকাবেন না মিস, আমি ভিতর থেকে এলোমেলো হয়ে যাচ্ছি, যদি কিছু হয়ে যায় দোষ কিন্তু আমার একার হবে না।”
আর্ভিকের কথায় তানভী সম্ভিত ফিরে পেল। সে লজ্জায় মাথা নিচু করে নিল। তা দেখে আর্ভিক মুচকি হাসল। তারপর তার স্বভাব সুলভ গম্ভীর কন্ঠে বলল
-“অনেক রাত হয়েছে, রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পর।”

চন্দ্রালোকিত রাতের শেষে সূচনা হয়েছে এক রোদ ঝলমলে দিনের। জানালা ভেদ করে সূর্যের আলো এসে পড়ে তানভীর মুখে,এতে তার ঘুম ভেঙে যায়। এবার সে উঠে বসে কালকের রাতের ঘটনা গুলো মনে করতে লাগলো এবং মুচকে মুচকে হাসতে লাগল। তারপর ওয়াশরুমে চলে গেল ফ্রেশ হতে।

সকালে খাবার টেবিলে বসে ব্রেকফাস্ট করছিলেন তানভী আর অভিক সাহেব। ঋষির কলেজে আজ প্রজেক্ট জমা দেওয়ার ডেট থাকায় সে তাড়াতাড়ি খেয়ে বেরিয়ে গিয়েছে। কিছুক্ষণ পর আর্ভিক রেডি হয়ে এসে তানভীর সামনে থাকা চেয়ারটা টেনে নিয়ে বসল। তাকে দেখে অভিক সাহেব বললেন
-“কোথাও বেরোবে নাকি?”
-“হুমম”
আর্ভিক স্বভাব সুলভ গম্ভীর কন্ঠে উত্তর দিল। আর্ভিকের মা তার প্লেটে খাবার দিচ্ছিলেন তখন অভিক সাহেব আবারও বললেন

-“তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে”
-“হুমম বলো শুনছি”
এই বলে একটুকরো পরোটা ছিঁড়ে মুখে দিল আর্ভিক। অভিক সাহেব বললেন
-“এখন থেকে সব কয়টা কোম্পানির সমস্ত দায়িত্ব তোমাকে নিতে হবে। আর তোমাকে সাহায্যের জন্য ঋষি থাকবে। আশা করি এতে তোমার কোনো আপত্তি নেই।”
আর্ভিক যেন আগে থেকেই জানত যে তার বাবা এমন কিছুই বলবে। তাই সে স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই বলল
-“না, আমার কোনো আপত্তি নেই।”
আর্ভিকের উওরে অভিক সাহেব স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন, তারপর খাওয়া শেষ করে উঠে গেলেন। অভিক সাহেব চলে যাওয়ার পর আর্ভিক তানভীর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করল

-“কোন স্ট্রিম নিয়ে পড়বি ?”
এতক্ষণ আপনমনে খাচ্ছিল তানভী আর্ভিকের প্রশ্ন শুনে সে জিজ্ঞাসা করল
-“আমাকে বলেছেন!?”
-“উমম, তাই তো মনে হচ্ছে।”
-“Commerce”
-“Good! অ্যাডমিশন কোন স্কুলে হয়েছিস?”
-“এখনও হয়নি বাবা বলেছে পরশু দিন একটা স্কুলে নিয়ে যাবে”
-“২০ মিনিট সময় দিচ্ছি খাওয়া শেষ করে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে আয়”
আর্ভিকের কথার কোনকিছুই বুঝলো না তানভী। তাই সে জিজ্ঞাসা করল

-“কেন কোথায় যাব”
-“Two minutes are up. You have only eighteen minutes. এই সময়ের মধ্যে রেডি হয়ে না এলে আমি নিজেও জানি না যে কী করব তোর সাথে।”
আর্ভিকের এমন ঠান্ডা হুমকিতে তানভী ঘাবড়ে যায়। তার প্লেটে থাকা পরোটার অবশিষ্ট অংশটা দুহাতে মুখে পুরে বেসিনে হাত ধুয়ে রুমের উদ্দেশ্য দৌড় দিল। সেটা দেখে আর্ভিক নিঃশব্দে হাসল। ১০ মিনিট মতো সময় নিয়ে রেডি হয়ে নিচে নামলো তানভী। তাকে দেখে আর্ভিক বললো

-“বাইকের কাছে গিয়ে দাঁড়া আমি আসছি”
আর্ভিককের কথা মতো তানভী চুপচাপ গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সেখানে। কিছুক্ষণ পর আর্ভিক এসে তানভীর সামনে একটা হেলমেট এগিয়ে দিল তারপর নিজেও হেলমেট পরে বাইকে উঠল। কিন্তু তানভী পড়েছে মহা বিপদে সে জীবনে কখনো বাইকে ওঠেনি কারণ তার কোথাও যাওয়ার হলে সে তার বাবার Four-wheeler করে যেত। তাই সে হেলমেট ঠিকঠাক করে পড়তে জানে না। আর্ভিক ব্যাপারটা বুঝতে পেরে তানভীকে হেলমেটটা পড়িয়ে দিয়ে বাইক স্টার্ট দিল।

প্রায় ৩০ মিনিট পর আর্ভিক বাইক থামাল একটা বিশাল বড় স্কুলের সামনে। এটা কলকাতার নামকরা এক প্রাইভেট স্কুলের মধ্যে একটি। আর্ভিক তানভীকে নীচে নামতে বলল, তারপর দুজনে স্কুলের ভিতরে গেল। ১৫ মিনিট হয়ে গেল তানভী স্কুলের অফিস রুমের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আর্ভিক অফিস রুমের ভিতরে প্রিন্সিপালের সাথে কথা বলছে। কিছুক্ষণ পর আর্ভিক বেরিয়ে এসে বলল
-“চল, ড্রেসের মাপটা দিতে হবে”
সেখান থেকে চলে গেল ড্রেসের মাপ দিতে। সেখানে গিয়ে দেখল একজন পুরুষ কর্মচারী ড্রেসের মাপ নিচ্ছিল আর্ভিক আর তানভীকে দেখে সে তাদের দিকে এগিয়ে এলো। আর্ভিক ভ্রু কুঁচকে বলল

-“মাপ নেয়ার জন্য কোন মহিলা কর্মচারী নেই? ওনাকে ডাকুন।”
আর্ভিকের কথা শুনে পুরুষ কর্মচারীটা একজন মহিলা কর্মচারীকে ডেকে আনলো তারপর সেই মহিলাটি তানভীর ড্রেসের মাপ নিয়ে নিল। এর মধ্যে আর্ভিক লাইব্রেরী থেকে বই গুলো সব নিয়ে এল। তারপর সেখান থেকে তানভীকে নিয়ে কলেজস্ট্রিটে একটা বইয়ের দোকানে গেল। সেখানে আর্ভিক কয়েকটা দরকারি বই দেখছিল, আর তানভী একটা করে উপন্যাসের বই দেখছিল আবার জায়গা মতো রেখে দিচ্ছিল। আর্ভিক ব্যাপারটা বেশ খেয়াল করল, তারপর তানভীর কে বলল

-“বারবার তুলছিস আর রাখছিস কেন, যেগুলো ভালো লাগছে নিয়ে নে।”
-“ন..না না নেব না কিছু।”
আর্ভিক একবার তানভীর দিকে তাকিয়ে পুনরায় কাজে মনোযোগ দিয়ে বলল
-“ঠিক আছে, বাইকের কাছে গিয়ে দাঁড়া আমি আসছি।”
আর্ভিকের কথা মতো তানভী চলে গেল। আর্ভিক দোকানের এক কর্মচারীকে ডেকে তানভীর দিকে ইশারা করে দেখিয়ে বলল

-“ওই মেয়েটা যে বই গুলো হাতে নিয়ে দেখছিল ওই গুলো সব প্যাক করে দিন।”
দোকানের কর্মচারী তার কথা মতো সব বই গুলো প্যাক করে দিল। আর্ভিক সেগুলো নিয়ে তানভীর কাছে গেল তারপর সেগুলো তার হাতে দিয়ে বলল

ব্যাকুল হৃদয়ের প্রনয়িনী পর্ব ৭+৮+৯

-“সামনে পরীক্ষা, তাই ভুলেও যেন এখন এগুলো না পড়া হয়।”
তানভী হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ল তবে মনে মনে বেশ খুশি হল কারণ তার পছন্দের বই গুলো সব কিনে দিয়েছে আর্ভিক।
-“উঠে বস!”
গাড়ি স্টার্ট দিতে দিতে বলল আর্ভিক। তানভীও চুপচাপ গিয়ে বসল। তারপর তারা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিল।

ব্যাকুল হৃদয়ের প্রনয়িনী পর্ব ১৩+১৪