Home নেশাক্ত প্রহর (মিহি সিজন ২) নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১০

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১০

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১০
রূপন্তী সরকার

শুভ্র এতোক্ষণ যেই মেয়েটা কে বকা দিলো সেই মেয়েটা শুভ্রর তিন নাম্বার প্রেমিকা। শুভ্র এক সাথে তিনটা মেয়ের সাথে রিলেশন করলেও তিন নাম্বারটাকে সব থেকে বেশি ভালোবাসে। প্রথম দুই প্রেমিকার নাম নেহা আর দিয়া। আর তিন নাম্বারটার নাম জ্যোতি। শুভ্র নেহা আর দিয়ার সাথে টাইমপাস করলেও জ্যোতি কে সত্যিই খুব ভালোবাসে। তবে ও জ্যোতিকে খুব প্যারা দেয়। বাহিরে বের হলে বকা দেয় কোনো ছেলের সাথে কথা বললে বকা দেয়। জ্যোতি শুভ্র কে ওতো পাত্তা দেয় না কিন্তু মনে মনে শুভ্রকে অনেক ভালোবাসে। শুভ্র জতির কাছে গিয়ে বললো
” তোকে বারণ করার পরেও এই ভর দুপুরে বাহিরে বের হয়েছিস কেনো?”
জ্যোতি রেগে বললো

“বেশ করেছি। তুই যখন দুই ডলানির সাথে ডলাস তখন আমি কিছু বলি? আমিও এখন থেকে সবার সাথে প্রেম করবো”
শুভ্র রাগি চোখে বললো
“তোর মুখ ভেঙে দিতে আমার খুব কষ্ট হবে পাখি।”
শুভ্রোর কথা শুনে, হটাৎ জ্যোতি কান্না শুরু করে দিলো, সেটা দেখে শুভ্র দুহাতে জ্যোতি কে নিজের সাথে জড়িয়ে নিয়ে বললো
” কাঁদছো কেনো?”
জ্যোতি কিছু বললো না। ওর খুব কষ্ট হয় শুভ্র কে নেহা আর দিয়ার সাথে দেখলে। কিন্তু কখনো শুভ্র কে বলতে পারে নি “তুমি শুধু আমার” কখনো অধিকার নিয়ে শুভ্রকে কিছু বলতে পারে নি। শুভ্র জ্যোতি কে বললো
” এক মিনিটের মধ্যে কান্না ওফ করো পাখি আমি উল্টা পাল্টা কিছু করে ফেলবো”
জ্যোতি দুচোখ মুছে চলে গেলো। শুভ্র জ্যোতি ওড়নার আচল ধরে হেটে হেটে গেলো।

ইয়াশফাকে রিদ স্কুলে ভর্তি করাবে বলে ড্রাইভারকে দিয়ে সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে এসে রেখে দিয়েছে কিন্তু ভর্তি করাইতে নিয়ে যাওয়ায় হচ্ছে না। সে নিজেই ভর্তি করাইতে নিয়ে যাইতে পারতো কিন্তু এই কাজ নিজের না করে ছেলেকে করাবে বলে ওয়েট করছে।
তবে তার গুনুধর ছেলে যা ঘারত্যারা নিয়ে যাবে না সেটা বেশ ভালোই জানে। কিন্তু রিদ ও কম যায় না ছেলেকে প্যারা না অব্দি তার শান্তি নেই। রিদ ইয়াশফার কাছে গিয়ে বললো
“এটাম বোম তুমি স্কুলে ভর্তি হতে চাও না?”
ইয়াশফা হেসে বললো

“চাই তো বাবা”
রিদ মুচকি হেসে বললো
“দাড়াও তোমার খারাপ বরকে বলি তোমাকে ভর্তি করে দিয়ে আসবে”
ইয়াশফা মুখ কালো করে বলো
“বাবা আমি আপনি আমাকে ভর্তি করতে নিয়ে চলুন”
রিদ জোড়ে হেসে ইয়াশফার কানে কানে বললো
“তুমি দেখবা আমি ওকে কিভাবে জ্বালাবো?”
ইয়াশফা বললো “কিভাবে?”
রিদ কিছু না বলেই ঋষভের কাছে চলে গেলো। পিছি পিছু ইয়াশফা ও গেলো। ঋষভ ফোনে কারো সাথে কথা বলছিলো রিদ কে দেখে তারাহুরো করে কল কেটে দিলো। রিদ বললো
“যাও তোমার বউকে স্কুলে ভর্তি করে দিয়ে আসো”
ঋষভ থতমত খেয়ে বললো

“পারবো না আমি”
রিদ আড়চোখে ইয়াশফার দিকে তাকিয়ে বললো
“তোমার বউ তোমার কোনো দায়িত্ব নেই? ওকে পড়াশোনা শিখাবে না?”
ঋষভ ইয়াশফার দিকে তাকিয়ে বললো
“ও বউ না আমার আমি মানি না ওকে। তুমি ভর্তি করাও আমি পারবো না।”
রিদ শয়তানি হাসি দিয়ে বললো
“ঠিক আছে বউ মানতে হবে না অন্তত বোন মনে করে মেয়েটা কে ভর্তি করিয়ে দাও। চিন্তা করো না তোমার বোনকে আমি ভালো ছেলের সাথে বিয়ে দিবো”
ঋষভ চুপ করে রইলো৷ মুখ কালো করে বললো
“আমার একটাই বোন আর সেটা রুহি”
রিদ হেসে বললো

“আজকে থেকে তোমার দুটো বোন।”
ঋষভ কোনো কথা না বলে স্থান ত্যাগ করলো। ইয়াশফা বোকার মতো রিদ আর ঋষভের দিকে চেয়ে রইলো। সব কিছু ওর মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যেই রুহি আসলো ইয়াশফার কাছে। রুহির সাথে ইয়াশফার তেমন কথা হয় নি এখনো অব্দি। ইয়াশফা রুহি কে বললো
“ভালো আছো ননদীনি রায় বাঘিনী?”
রুহি হাসতে হাসতে বললো
“আলহামদুলিল্লাহ। তাহলে তুমি মানো আমার ভাই তোমার জামাই?”
ইয়াশফা অবাক চোখে তাকিয়ে বললো
“লে বাবা জামাই কে জামাই মানবো না তো কি ভাসুর মানবো? আমার তো উনার সাথেই বিয়ে হয়েছে। হতে পারে সে একটা জলহস্তী তাই বলে কি আমার জামাই না?”

রুহি ইয়াশফার কথা শুনে হাসতে হাসতে শেষ। এই মেয়েটা এতো পাকা কিভাবে? ঋষভের থেকে রুহি গুনে গুনে ৩ বছরের ছোট। সে হিসাবে ইয়াশফার থেকে রুহি ৯ বছরের বড়ো। রুহির কাছে ইয়াশফাকে বেশ মজার লেগেছে। রুহি ইয়াশফা কে আরো কিছু প্রশ্ন করলো ইয়াশফা ও রুহি কে উত্তর দিলো। মাঝখান থেকে রিদ ওর দুই মেয়ের মিল থেকে মিটিমিটি হেসে চলে গেলো। আজকে খুব চুমুর ক্রেভিং উঠেছে। রিদ তাড়াতাড়ি মিহির কাছে গেলো। গিয়েই টুপটুপ করে কয়েকটা চুমু খেয়ে নিলো। মিহি রান্না করছিলো। রিদের এমন আক্রমণ বুঝে উঠতে পারে নি। মিহি কটমট করে রিদের দিকে তাকিয়ে বললো
“ভালো হবা না তুমি?”
রিদ বললো

“না ভালো হয়ে কি হবে? ভালো হলে কি দুটো চুমু বেশি দিবা? যদি দাও তাহলে ভালো হবো প্রমিজ”
মিহি নিজের কপালে থাপ্পড় দিলো। রিদের হঠাৎ একটা শয়তানি বুদ্ধি মাথায় আসলো। রিদ দেখতে চাইছিলো ইয়াশফা কে মিহি কেমন চোখে দেখে। রিদ মিহিকে বললো
“আমি এটাম বোমের বিয়ে দিবো”
মিহি রিদের দিকে তাকিয়ে বললো
“তুমি কি পাগল? ও আমার ঘরের লক্ষি আমি কেনো আমার ঘরের লক্ষী কে অন্য কাউকে দিয়ে দিবো?”
রিদ বুঝলো মিহি তার মানে ইয়াশফাকে মেনে নিয়েছে। রিদ বললো
“তোমার ছেলেতো ঘরের লক্ষি কে মানছে না”
মিহি কিছু বললো না। ও জানে ঋষভ কেমন। মিহি রিদ কে দুই গ্লাস দুধ দিয়ে বললো
“যাও রুহি আর ইয়াশফা কে দিয়ে এসো।”

রিদ মিহির কথামতো ওর দুধ নিয়ে রুহি আর ইয়াশফার কাছে গেলো। রুহি মায়ের ভয়ে ধকধক করে সব টুকু দুধ খেয়ে ফেললো কিন্তু ইয়াশফা দুধ দেখে ঝেড়ে দৌড়। দুধ দেখলে ওর গা গুলিয়ে উঠে। বমি বমি পায়। রিদ দুধ নিয়ে ইয়াশফার পেছন পেছন ছুটছে। যেকরেই হোক ইয়াশফা কে দুধ খাওয়াতে হবে নাহলে মিহি রিদ কে মেরে বাড়ি থেকে বের করে দিবে। বুরো বয়সে বউ ছাড়া থাকতে পারবে না। রুহি রিদ আর ইয়াশফার কান্ড দেখে হাসছে। রিদ কিছুতেই ইয়াশফা কে দুধ খাওয়াতে পারে নি ইয়াশফা পুরো চৌধুরী বাড়ি রিদ কে দৌড়ে নিয়েছে। রিদ এক পর্যায়ে থেমে গেলো। এই বয়সে এমন দৌড়ানো যায়? এই বাচ্চা মেয়ে ওকে এভাবে নাকানিচুবানি খাওয়াচ্ছে বাপরে। রিদ না পেরে নিজেই সব দুধ খেয়ে নিলো। এরপর মিহির কাছে গিয়ে বললো ইয়াশফা দুধ খেয়েছে।

রিদ গিয়ে ইয়াশফা মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে ভর্তি করিয়ে দিয়েছে নমব শ্রেণিতে। ঋষভ কে এতো করে বলার পরেও ঋষভ যায় নি। তার ছেলে পাক্কা বেয়াদব। আগামীকাল থেকে ও স্কুলে যাবে।
ঋষভ সকাল থেকেই খুব ডিস্টার্ব হয়ে আছে। কোনো জায়গায় শান্তি পাচ্ছে না। হঠাৎ করে রাগ লাগছে মনে হচ্ছে জিনিসপত্র ভাঙচুর করতে পারলে শান্তি লাগতো৷ ঋষভের চোখ গেলো দেওয়ালের এক পাশে টাঙিয়ে রাখা গিটারের দিকে। গিটার নিয়ে ছাঁদে চলে গেলো। রাগে হাত পা কাঁপছে কেনো রাগ হচ্ছে জানা নেই। একটা গানের লিরিক্স অনুযায়ী গিটারে টুং টুং শব্দ তুলে গান বাজাতে লাগলো।

❝kabhi chup chup
rahe…kabhi jid pe aa jaye
bas 1 tareeka doondhe
jisse tujhko paa jaye
kabhi tujh bin jee loonga
…kabhi mar jaonga mein
tujhse 100 batein kerta haie…
khud ko barmayein…re man mera….
Maane na mann mera❞

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৯

ও চোখ বন্ধ করে গিটার বাজাচ্ছে কিন্তু চোখের সামনে ওর আর ইয়াশফার বিয়ের কাহিনি চোখের ভেসে উঠছে। বিরক্তিতে চোখ খুলে ফেললো। চোখ খুলে দেখতে পেলো ইয়াশফা ওর দিকে গোল গোল চোখে তাকিয়ে আছে…

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ১১