প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৭১
সাইয়্যারা খান
খালি হাতে বাসায় ফিরেছে হেমন্ত। এসেছে থেকে সরাসরি দেখা হয়েছে বাবার সাথে। স্বাভাবিক ভাবেই তাকে এড়িয়ে যেতে চাইলো হেমন্ত কিন্তু প্রশ্নের মুখে পড়ে একটু থামতে হলো।
“বাচ্চারা কোথায়?”
“পৌষের বাসায়।”
উত্তর দিতে গিয়ে হেমন্তের যেমন শান্তি লাগলো ঠিক তেমনই কষ্ট লাগলো। ওটা সত্যিই পৌষের বাড়ী। হেমন্তের পৌষের বাড়ী ওটা৷ পাগলটা ঘুমিয়ে ছিলো বিঁধায় হেমন্ত আসতে পেরেছে নাহয় জেগে থাকলে এখন দেখা যেতো নিজের বউ বাচ্চাসহ হেমন্ত ঐ বাসায় আছে। তৌসিফ বেশ কয়েকবার বলেছে শ্রেয়াকে নিয়ে কিছুদিন ওখানে থাকতে। হেমন্ত রাজি হয় না। এসব কথা তৌসিফ স্বাভাবিক ভাবে বললেও আশেপাশের মানুষের চোখে নিশ্চিত স্বাভাবিক লাগবে না। বড় চাচা আরো কিছু বলতে চাইলেন কিন্তু হেমন্ত তাকে সেই সুযোগ দিলো না। দ্রুত পা ফেলে নিজের রুমে চলে গেলো। ছোট চাচির এসব নিয়ে মাথা ব্যথা নেই।
তিনি বরং একটু স্বস্তিতে আছেন। ছোট চাচাকে বলেছেন তাকে নিয়ে কাল বাইরে যেতে। ছোট চাচা রাজি হয়েছেন চট করে। বউ নিয়ে ঘুরতে তার বেশ লাগে। সেঝ চাচির কানে এখনও খবর পৌঁছায় নি, পৌঁছালে কোন না কোন কটুবাক্য বলতে তিনি পিছপা হতেন না।
হেমন্ত রুমে এসে নিজের মায়ের কোলে ছেলেকে দেখতে পেলো। পাশে শ্রেয়া অসময়ে ঘুমাচ্ছে। দাদীর কোলে নীরব হয়ে আছে ছোট্ট বাচ্চাটা। চোখ দুটো এদিক ওদিক ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছে। শ্রেয়া বউ হয়ে আসে ঠকে নি। প্রতিটা মানুষ ওকে ভালোবাসে, যত্ন করে আগলে রাখে। প্রয়োজনে সবার আগে হাজির হয়ে যায়। এই বাড়ীতে অবহেলিত তো শুধু মাত্র হেমন্তের পৌষটা ছিলো অথচ কোনদিন কারো খারাপ করে নি পৌষ। বিনাকারণেই ওকে কেন জানি সহ্য করতে পারতো না কেউ।
চুপচাপ ওয়াশরুমে ঢুকে যায় হেমন্ত। মা কথা বলতে চাইছিলো কিন্তু হেমন্ত সুযোগ দেয় নি। মনে হয় মৃত্যু পর্যন্ত হেমন্ত ভুলতে পারবে। আজ হয়তো তৌসিফের ঘরে বলে পৌষ এত ভালো আছে কিন্তু যদি তৌসিফের বদলে অন্য কেউ হতো? এই ‘যদি’ শব্দটা ভাবতে গিয়েই হেমন্তের মাথা অকেজো হয়ে যায়। চোখ দুটো লাল হয়ে উঠে।
রান্নাঘর থেকে সুঘ্রাণ বেরিয়ে আসছে। বৃষ্টিতে মুখোরিত চারপাশ। তালুকদার বাড়ীর আশেপাশে প্রকৃতির ছাপ স্পষ্ট। সবুজে ঘেরা সাদা রঙের বাড়ীটা। একপাশে লাল কৃষ্ণচূড়া গাছ। বারান্দা থেকে চমৎকার চোখ জুড়ানো দৃশ্য লাগে। ভেজা ফ্লোরে দাঁড়িয়ে পৌষ সেই দৃশ্য অবলোকন করছে। শরীরে পাতলা একটা পোশাক। বাসায় মানুষ ভর্তি। ঘুম ভেঙে পৌষ সবগুলো ভাই-বোনকে এখানেই পেয়েছে। পিহা পইপই করে তাকে জানিয়েছে হেমন্ত এসেছিলো। তৌসিফ যেতে দেয় নি। আদিত্য আর অদিতিও এখন এখানেই আছে। রাতে খিচুড়ির আয়োজন হচ্ছে। পৌষ জানিয়েছিলো ও রাঁধবে কিন্তু তৌসিফ রাজি হয় নি। হওয়ার কথাও না। পৌষের দূর্বল শরীর এখনও চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছে সে।
পেছন থেকে কেউ আসছে তা বুঝতে পারে পৌষ। মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে আছে ও ঘাটের পানিতে। এক বৃষ্টিতেই টল-টল করছে। অদ্ভুত ঘ্রাণ আসছে মাটি থেকে। ফুল গাছগুলোর জন্য এখানকার শান্তিটা একেবারে ভিন্ন।
“তুমি কি আমার কথা শুনবেই না?”
প্রশ্নটা অসহায় ভাবে করলো তৌসিফ। উত্তর যে পাবে না সেটাও জানে ও। দোষ কিভাবে দিবে তৌসিফ? সাধারণত যেকোন মানুষ এভাবেই মন খারাপ করবে। আদিত্য আর অদিতি যখন দেখতে এসেছিলো তখন ঘর ভর্তি বাচ্চা দেখে ওরা থেকে গিয়েছে। পৌষ তখনই ঘোষণা দিয়েছে আজ রাতে এখানেই খাবে সবাই। মীরা আর তুরাগ গিয়েছে মীরপুর। ওখান থেকে সরাসরি রাতে এখানেই আসবে। পৌষ শুনেই হাসিমুখে বলেছিলো,
“পলক আপুকেও ডাকুন। সবাই একসাথে খাব।”
তৌসিফ সরাসরি নাকোচ করেছে। সর্বোচ্চ ও তুহিনকে ডাকতে পারে কিন্তু পলককে না। পৌষ ত্যাড়ামি করেছে কিন্তু লাভ হয় নি। তৌসিফ ক্ষুদ্র শ্বাস ফেলে হাতে থাকা চপ্পলটা পৌষের পায়ের কাছে রাখলো। আচমকা এমন হওয়াতে পৌষ দুই কদম পিছিয়ে যায়। ভেজা বারান্দা মোছা হয় নি তখনও। পড়ে যেতে নিলেই তৌসিফ আঁতকে উঠে। এক টানে নিজের বুকে আঁছড়ে ফেলে। এখনই তো বউটা পড়ে গিয়ে মাথা ফাটিয়ে ফেলতো। পৌষ থাকতে চায় না সেখানে। সরে আসতে চাইলেই তৌসিফ চাপা স্বরে ধমকালো,
“অনেক হয়েছে। ঠান্ডায় খালি পায়ে কি করছো?”
“নাচছি।”
“তাই নাকি? আমার বউ আমাকে ছাড়া নাচতে পারে? এতদিনে একবারও তো নাচ দেখালে না।”
“কেন? আমি কি বান্দর যে আপনি ডুগডুগি বাজাবেন আর আমি নাচব?”
বলতে বলতে বুক থেকে সরে গেলো পৌষ। তৌসিফ জোর করে চপ্পল পরালো। গায়ে একটা পাতলা চাদর জড়িয়ে দিলো৷ পৌষ মুখ ঘুরিয়ে তাকিয়ে রইলো ঘাটপাড়ে। তৌসিফ বউকে খুশি রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করছে অথচ মুখ থুবড়ে পড়ছে বারবার। এখন পলককে আনলে তুরাগ এখানেই কালবৈশাখী ডেকে আনবে। তৌসিফ বউকে সান্ত্বনা দিতে বললো,
“পলক না আসলেও তুহিন আসবে।”
“হ্যাঁ, বুদবুইদা শয়তানটাকে ডাকুন আমার হাড় চিবিয়ে খেতে।”
রাগে সেখান থেকে চলে চলে যেতে পা বাড়ায় পৌষ তখনই চৈত্র আসে। আপা আপা ডেকে দরজা থেকে বলে,
“আপা, বেয়াই এসেছে। তারাতাড়ি আসো।”
পৌষের মুখেচোখে শক্ত ভাব দৃশ্যমান হয়। তৌসিফের দিকে তাকিয়ে বলে,
“আমার বোনদের থেকে দূরে থাকতে বলবেন।”
তৌসিফ মাথা নাড়ে। পৌষ যদি জানে তুহিন কোন কথা বলেছে তাহলে এখনই ধাক্কা দিয়ে বের করবে ওকে। আজ রাতে অফিসে আসুক একবার। তুহিনের বিগড়ে যাওয়া মাথা ঠিক করবে তৌসিফ। নিজে সুস্থ সবল বউ নিয়ে থেকে তার মাথায় ভুত চেপেছে সন্তান দত্তক নেওয়ার।
তুহিন পৌষকে দেখেই শয়তানি হাসি হাসলো। গা জ্বলে উঠে পৌষের। এসেই ছোঁ মেরে ইনি, মিনিকে নিয়েছে। আলতু-ফালতু কথা বলছে।
“এই নামগুলো কিন্তু বিড়ালের। আমার কাছে থাকলে সুন্দর নাম রাখব।”
তুহিন নিজের বক্তব্য রাখছে। ইনি, মিনি গোল চোখে তাকিয়ে সরল গলায় বললো,
“আমাদের বিল্লির নাম তো ইনি, মিনি না।”
“তোদের বিড়াল আছে?”
“হুঁ। কালো বিল্লি। আপার গলায় কাটা খেয়েচিলো ও।”
তুহিন অবাক হলো পরপর খুশি হলো। পৌষকে জ্বালানোর আরেকটা টপিক পেয়েছে সে৷ ইনি, মিনি এক দৌড়ে পৌষের কাছে রান্নাঘরে এলো। এসেই ঘ্যানঘ্যান শুরু করলো,
“আপা, আমলা কি বিল্লি? বিল্লির নাম কে রাকলো?”
“কে বলেছে তোদের এই কথা?”
“টাটই।”
পৌষ এসেছিলো রান্না কতদূর দেখলো। তুহিনের ফালতু কাজে বিরক্ত হলো। দাঁত চেপে বললো,
“তোদের টাটইয়ের মাথা ফাটিয়ে দিব আজ আমি।”
দুই বোন তাদের আপার রাগী মুখ দেখলো। পৌষ হনহনিয়ে বেরিয়ে যেতে যেতে ধাক্কা খেলো তৌসিফের সাথে। তৌসিফ বউয়ের মুখ দেখলো৷ রেগে আছে বুঝাই যাচ্ছে। তুহিন এসে নিশ্চিত কিছু করেছে। কারণ না জেনেই পৌষকে শান্ত করতে তৌসিফ বললো,
“তোমাকে না এখানে আসতে না করেছিলাম হানি? লেটস গো।”
“ছাড়ুন। আপনার ছোট ভাইকে বিলাই কি জিনিস দেখিয়ে আসি।”
“একদমই না। ও চেনে বিড়াল।”
“না না৷ তাকে আমি বিড়াল না বিলাই চিনাব।”
তৌসিফকে নিয়ে পৌষ গেলো তুহিনের দিকে। তুহিন শয়তানি করে সুর টেনে লম্বা করে ডাকলো,
“আরেহ্ আমার ফুপাতো বোন এসেছে দেখছি। মশার কামড়ের ইফেক্ট শেষ?”
“তুহিন!”
তৌসিফ ধমক দিলেও কাজ হলো না। পৌষ কটমটিয়ে বললো,
“ওদের নাম ইনায়া হক আর মৃনায়া হক। আদর করে আমি ইনি, মিনি রেখেছিলাম।”
“যাহ্, শান্তি পেলাম। আমি আরো বলি কিসব বিড়াল ইঁদুরের নাম।”
“একদম ফালতু কথা বলবেন না।”
তৌসিফ আর চুপ রইলো না। বউ নিয়ে কেটে পড়লো। তুহিনকে চোখ ঘুরাতেও ভুললো না। আদিত্য আর অদিতি এতক্ষণ হা করে ওদের ঝগড়া দেখলেও পৌষ যেতেই ঘর কাঁপিয়ে হাসছে। আদিত্যের চোখে পানি চলে আসছে প্রায়। কোনমতে হাসি চেপে বললো,
“শুকরিয়া যে তুমি বলো নি বাংলা বারো মাসের নাম তাহলে মাথা ফাটিয়ে দিতো তোমার।”
“ওর মাথা বাকি রাখতাম। ন্যাড়া করে দিতাম। এই বেসাইজ পিহা৷ এদিকে এসো। চুল টেনে দাও তো।”
পিহা যেতে চায় না। তুহিন জোর করে কাজে লাগালো ওকে।
তুরাগ আর মীরা আসলো রাত এগারোটা নাগাদ। ওরা আসতেই খেতে বসে সবাই। পৌষ ওর ভাই-বোনদের মুখে তুলে তুলে খাওয়াচ্ছে। তৌসিফ এদিকে বউয়ের হাবভাবপূর্ণ মুখটা দেখছে। মীরার সাথে কথাবার্তা বলতে বলতে পৌষ তুরাগের প্লেটে চিংড়ি তুলে দিলো। তৌসিফ তা দেখা মাত্রই চিংড়ির ডিশ হাতে নিবে তখনই যেন ওর কাজটা পৌষ করে দিলো। তুহিনের প্লেটে বেছে দ্বিতীয় বড় চিংড়ি দিলো। তৌসিফ হেসে ফেললো মনে মনে। সে তো ভুলেই গিয়েছিলো এটা তার পৌষরাত যে রাগ ধরে রাখতে পারে না৷ মুখের উপর সব রাগ উপড়ে দিয়ে পরপরই সব ভুলে যাওয়া পৌষরাত। খাওয়া শেষে তুহিনকে ফিরনীর বাটি দিয়ে পৌষ বললো,
“এটা কিন্তু আমি রেঁধেছি।”
“বিষ দাও নি তো?”
“দিয়েছি।”
“তাহলে ঠিক আছে।”
তুহিন মুখে দিলো। স্বাদ চমৎকার। সে এক বাটি শেষ করে আরো নিলো। যাওয়ার সময় তুহিন আড়ালে তুহিন পৌষকে বললো,
“আমার বউ আছে ঘরে। ফিরনি থাকলে দাও।”
“আপুর জন্য মিনু দিয়ে এসেছে সব।”
“সব?”
“সব।”
তুহিন পকেটে হাত ঢুকিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বললো,
“তোমার বোন তিনটাও দিয়ে দিতে।”
তৌসিফ শুনা মাত্রই তুহিনকে বিদায় করলো। তার বউকে রাগীয়ে লাভ নেই। যা আছে তা ক্ষতি তাও তৌসিফের ক্ষতি।
পৌষ বেশ ফুরফুরে মেজাজে তৌসিফের জন্য বিছানা গোছালো। সবাই চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই বাচ্চারা সব ঘুমিয়েছে। পৌষ নিজ থেকে ঔষধ খেয়ে হাসিমুখে তৌসিফের গলা জড়িয়ে ধরলো। পিটপিট করে তাকালো। তৌসিফ চমকালো। ভড়কালো অতঃপর? অতঃপর তৌসিফ তালুকদার বাকহারা হয়ে গেলো।
“তুহিন? তুহিন?”
পলক ব্যাস্ত হয়ে দরজা ধাক্কাছে। তুহিন এটা নিয়ে চতুর্থ বার বাথরুমে ঢুকেছে। এসেছে দুই ঘন্টা আগে। পলক নিজেও তখন খেয়েদেয়ে ফিরনী খাচ্ছিলো। এতক্ষণ কত সুন্দর কথাবার্তা বললো। হঠাৎই পেট মুচড়ে উঠে তুহিনের। তখন থেকে বাথরুমে দৌড়াচ্ছে। তৃতীয় ডাকের আগেই তুহিন বেরিয়ে এলো। ওর অবস্থা খারাপ। বিছানায় চিৎ হয়ে শুয়ে ক্লান্ত গলায় বললো,
“আমি বাঁচব না পলক। আমি বাঁচব না।”
পলকের ঘাম ছুটে গেলো ভয়ে। কি হয়েছে বুঝতেও পারছে না। কোনমতে সেলাইনের পানি হাতে ধরে এগিয়ে এসে বললো,
“এটা শেষ করো।”
মাথাটা একটু তুলে তুহিন শেষ করলো পানিটুকু। বললো,
“আমি বাঁচব না।”
“পেট খারাপ হলে মানুষ মারা যায় না।”
“কিন্তু আমি মরে যাব।”
“কেন?”
“কারণ আমার খাবারে পৌষ বিষ মিশিয়ে দিয়েছে।”
তুহিন বললো খুব স্বাভাবিক ভাবে। এদিকে হতভম্ব হয়ে পলক আর্তনাদ করে উঠে,
“কিহ! কে বললো তোমাকে?”
“পৌষ বলেছে।”
“ও কেন করবে এটা?”
“কারণ ওর বোনদের তুলে এনেছিলাম আমি গতকাল আর….”
“আর? আর কি তুহিন?”
“ওর পছন্দের বালিশ কুচলে দিয়েছিলাম।”
“এই কারণে কেউ বিষ দিবে না তুহিন।”
“কেউ না দিলেও পৌষ দেয়।”
পলক বোকা বনে গেলো। তুহিন এরপরও প্রায় তিনবার বাথরুমে গিয়েছে। অবশেষে ফার্মেসী থেকে ঔষধ আনিয়ে ওকে খাওয়ায় পলক। রাগে পলকের বিবেক শূন্য হয়ে পড়ে। তুহিনের ঘুমন্ত মুখের দিকে পলক অপ্রকৃতস্থ ভাবে বলতে থাকে,
প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৭০
“তোমাকে আমি শান্তিতে থাকতে দিব না পৌষ। কি ভেবেছো তুমি এভাবেই আমার বোনের ফেলে যাওয়া সংসার করবে? আমি পলক করতে দিব? তোমাকে তোমার আসল ঠিকানা বুঝিয়ে দিব আমি। শুধু অপেক্ষা করো। যেই তৌসিফ নিয়ে এত বাড়াবাড়ি সেই তৌসিফই কারো এঁটোবাসি।”
