Home আসবো ফিরে আবারো আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫০ (২)

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫০ (২)

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫০ (২)
সুরভী আক্তার

শিশিরের ঠান্ডা ক্লান্ত স্বর ।
শাফাহ্’র দিকে তাকায় মেঘা । ঠোঁট ভিজিয়ে গদগদ হয়ে বলতে আসে শাফাহ্…
” আরে বেইবি ,,, তুই এতো আপসেট কেনো বলতো ? আদ্র ভাইয়া কত ভালো তুই জানিস ? ভাইয়াকে যেমন ভাবিস , ও মোটেও তেমন নয় ‌। আদ্র ভাইয়া বেস্ট ,, খুব কেয়ারিং । দেখবি , তুই ঠিক বুঝতে পারবি । তোর তো গুড লাক , ঐ বখাটে আয়ানের জায়গায় আদ্র ভাইয়ার মতো কাউকে পেয়েছিস তুই । বিয়ে হয়েছে তোদের । এখন থেকে আমি,মেঘা , আমাদের সাথে থাকবি তুই ! ভাবতে পারছিস , আমরা তিন ফ্রেন্ড এক বাড়িতে । ইউ নো , আ’ম সো এক্সাইটেড । তুই যে আদ্র ভাইয়ার বউ , এটা ভাবতেই আনন্দ লাগছে আমার । এখনো কেমন অবিশ্বাস্য লাগছে সবটা ।
শিশির নিশ্চুপ । হাঁটু জড়িয়ে এক ধ্যানে বসে আছে । যে পরিস্থিতিতে সবটা হয়েছে , শিশিরের মানতে অসুবিধা হবে এটাই স্বাভাবিক । মেঘা নিজেও এখনো সবটা বুঝে উঠতে পারে নি । আদ্রের হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তের মানে বোঝে নি ।
শাফাহ্ কে চুপ করতে ইশারা করলো সে । উঠে দাঁড়িয়ে শান্ত গলায় বললো…..

” আচ্ছা , তুই রেস্ট কর । আমরা আসছি । পাশেই আমাদের রুম । আদ্র ভাইয়ার সামনে অকোয়ার্ড ফিল আসতেই পারে , তবে যদি কিছু প্রয়োজন হয় অবশ্যই বলবি । ওকে ? গুড নাইট….
মেঘা শাফাহ্ বেরিয়ে আসে রুম থেকে ।
ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে আসছে দুচোখ । বিছানায় গা এলিয়ে দিলেই একবিংশী পাড়ি জমাবে ঘুমের রাজ্যে । কোনো মতে ঘরে ঢুকলো ।
রৌদ্র আসছিলো এদিকেই ‌। মেঘাকে ঘরে ঢুকতে দেখে তড়তড়িয়ে পিছু নিলো । শাফাহ্ ঢুকেছে ওয়াশ রুমে ।
মেঘা ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়ায় । অলসতা আসে ভীষণ । মাথার খোঁপা এলোমেলো । গুছিয়ে বাঁধার ইচ্ছে জাগলো না একটুও । বরং এলোমেলো খোঁপায় একটা কাঁটা গুঁজে দিলো । যাতে খুলে না যায় । টুকটাক খুচরো চুল দুহাতের সাহায্যে কানের পাশে গুজে দিলো ।
অতঃপর হাই তুলে বিছানার দিকে এগোয় রমনী । পিছু ফেরা মাত্রই রৌদ্র কে ঘরের ভেতর দেখে কপাল কুঁচকে আসে । ওষ্ঠপূটে দাঁত চেপে ফিচেল দৃষ্টিতে চেয়ে আছে লোকটা । মুখ বাঁকালো মেঘা ।
রৌদ্র কে পাশ কাটাতে গেলে একটানে ওর চুলে গেঁথে রাখা চিকন কাঁটা টা খুলে নিলো রৌদ্র । বললো একই সাথে,,,,

” লেটস গো MP !
খ্যাট খ্যাটে স্বরে ঝেড়ে ওঠে মেঘা….
” কোথায় ?
” শিকদার বাড়ি !
তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো মেঘা । হিতে বিপরীত বুঝে দাঁত চেপে বললো….
” আপনি যান ,,, আপনার এক্স আর তার বাচ্চার কাছে । আমাকে টানছেন কেনো ? আমি ও বাড়িতে ছিলাম বলে বেশ সুবিধা হয়েছিলো এ কদিন, তাই না ? অসুবিধা যাতে না হয় , তাই আবার যেতে বলছেন আমায় ?
” ইডিয়ট ,,, থাপ্পর খাবি । এসব কি বলছিস ?
” যা বলছি , ঠিক বলছি । খবরদার জ্বালাবেন না আমায় ।
মেঘা ঘুরে গিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দেয় । তুলতুলে কম্ফোর্টার টেনে ঢেকে নেয় মাথা অবধি । চেয়েই রয় রৌদ্র । দৃষ্টিতে কিছুটা বিরক্তি । আঁখি লতা কুঁচকানো । ডাকলো ভরা গলায়….

” ইভারা ?
” ইভা কে ডাকুন গিয়ে । আমাকে নয় । আর একবার আমার নাম উচ্চারণ করলে জানে মেরে ফেলবো একদম ।
বেরিয়ে যান আমার রুম থেকে ।
কম্ফোর্টারের আড়ালে রাগি গলায় জবাব করলো একবিংশী । ক্ষণিকের মধ্যে রৌদ্রের বিরক্তি গায়েব হয় । হাসে নিঃশব্দে । দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকায় , রাত অনেক হয়েছে । এতক্ষণে রমনী ঘুমে কাদা হয় । আজ বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে রমনীর নিকট । এখন বিরক্ত করাটাও ঠিক হবে না । তবে খোঁচানো ঠিক হবে । দুষ্টু বুদ্ধি ভর করে মাথায় । ঘাড় উঁচিয়ে দায় সারা ভাবে বলে রৌদ্র….
” ওকে , চলে যাচ্ছি আমি ।
ক্ষণিকেই ঘর নিস্তব্ধ । ঘাপটি মেরে শুয়ে আছে মেঘা ।
চোখ কান তীক্ষ্ণ । শুয়ে থেকেই পাশে কারোর উপস্থিতি টের পেলো । ধীরে ধীরে কাছে আসছে । এক পর্যায়ে জাপটে ধরলো মেঘা কে । ছ্যাত করে চমকে উঠলো একবিংশী । তৎক্ষণাৎ ভেসে আসলো চিকন মেয়েলি কন্ঠের উচ্ছ্বাস….

” উফফফ মেঘা ,, ইউ নো , এই কদিন তোকে কত্ত বেশি মিস করেছি । অনেক অনেক অনেক বেশি । পুরো শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিলো তোকে ছাড়া । অবশেষে তুই ফিরে এসেছিস । আর ছাড়ছি না তোকে….
মেঘা ছ্যাত করে উঠলেও পরক্ষনে নিজেকে সামলে নেয় ।
মুখের উপর থেকে কম্ফোর্টার সরায় এক ঝটকায় । শাফাহ্ কে দেখে হাঁফ ছাড়ে । মাথা তুলে তাকায় রৌদ্রের অবস্থান অনুযায়ী । লোকটা নেই । চলে গেছে তার মানে ? কেনো জানি তার চলে যাওয়াটা সহ্য হলো না । মুখে চলে যেতে বললেও , মন চাইছিলো ঐ লোকটা থাকুক । একটু জ্বালাতন করুক মেঘা কে । কিন্তু হলো না ।
মুখ কাঁদো কাঁদো হয়ে আসে রমনীর । মৃদুমন্দ ওষ্ঠ উল্টে বিড়বিড় করে….
” চলে গেছে ঐ রাইনো মুখো ?
” হু ?
” কিছু না । আমিও তোকে খুব বেশি মিস করেছি । ঘুমা এখন ।

এতক্ষণে ঘরে ঢোকে আদ্র ।
প্রথমেই চোখ পড়ে বিছানার উপর । গুটিসুটি হয়ে হাঁটু জড়িয়ে বসে আছে শিশির । মাথাটা হাঁটুতে নামিয়ে ডান কাত করে রাখা । দৃষ্টি শূন্যে কোথাও । আদ্র নীরব থেকে কিয়ৎ কাল পরখ করলো ওকে । ধীরে শব্দহীন দরজা আটকালো । বড্ড ঝক্কি গেছে আজ । গা ম্যাজ ম্যাজ করছে । কথা বললো না সে । শ্যামলিনী তার উপস্থিতির আভাস পেয়েছে । তবুও নড়লো না । স্থবির রইলো । নতুন এই ঘরে ঐ গুরুগম্ভীর লোকটার উপস্থিতির শিরশিরে অনুভূতিতে বিরক্ত লাগছে তার । আদ্র পা বাড়িয়ে কাবাড থেকে কাপড় বের করে সোজা ওয়াশ রুমে ঢোকে ।
ফ্রেশ হয়ে বেরোতে বেরোতে পেরোয় মিনিট দশেক ।
পড়নে ট্রাউজার । উদ্যম শরীর । মাথা মুছতে মুছতে বেরোলো । এতক্ষণ স্থির ছিল শিশির । চোখে ঘুম নেই আজ । বড্ড ক্লান্ত , তবে সেই অবসাদ দূরের তাগাদা নেই । বেখেয়ালে ভুলে শিশিরের নজর পড়ে ওর দিকে । লোকটার উদ্যম খোলামেলা শরীর দেখে এক ঝলকেই দৃষ্টি সরিয়ে চোখ বুজে নেয় রমনী । খামচে ধরে শাড়ির কুচি । ঢোক গিলতেও গলায় বাঁধে । কিছু একটা দলা পাকিয়ে আটকায় শ্বাস নালীতে ।
ঠান্ডায় কাঁপে আদ্র । ফুল স্লিভের সয়েটশার্ট পড়ে নেয় একটা । ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে সময় নিয়ে কিছু করলো । ড্রায়ার দিয়ে ভেজা চুল শুকিয়ে অতঃপর ফিরলো রমনীর পানে । নিঃশব্দে শ্বাস ফেললো । সোফার উপর শাড়ি রাখা । আদ্র সেটা হাতে তুলে এগিয়ে যায় । শিশিরের পাশে গিয়ে থামে । কন্ঠ খাদে নামিয়ে বলে….

” চেঞ্জ করে এসো !
” …..
রমনী নির্বিকার । চক্ষু দ্বয় বুজেছে । খোলার চেষ্টাও করলো না । আদ্র আবার বলে , এ বেলায় কন্ঠ উঁচু করে খানিকটা…..
” কি হলো ? কথা কানে যাচ্ছে না ? ওঠো , চেঞ্জ করে এসো গিয়ে ।
তবুও ভাব ভঙ্গিমায় পরিবর্তন নেই । নড়চড় নেই একটুও । তপ্ত শ্বাস ফেললো আদ্র । শাড়িটা রাখলো বালিশের পাশে । কথা বাড়ালো না আর । চুপচাপ ঘুরে এসে শুয়ে পড়লো ডান দিকে । উবু হয়ে শুয়ে চোখ বুজে নেয় সে । অথচ বক্ষ পিঞ্জরে উথাল পাতাল তান্ডব চলছে ।
জোরালো তার শ্বাস প্রশ্বাস । নিজেকে ধাতস্থ দেখালো উপর উপর ।
মিনিট কয়েক পেরোয় । শিশির মাথা তোলে আলগোছে । পাশ ফিরে চায় । নিজের পাশে আদ্র কে শুয়ে থাকতে দেখে গা আনচান করে তার । আচমকা ঠোঁট ভেঙে ফুঁপিয়ে ওঠে । হেঁচকি ওঠে গলা চিরে ।
অগত্যা ঘাড় ফিরিয়ে ধক্ করে চায় আদ্র । উঠে বসে এক লাফে । মেয়েটাকে আকস্মিক কাঁদতে দেখে চোখ কুঁচকায় । ব্যাপারটা কি হলো ? ওর ঘুমানো টা কি পছন্দ হলো না এই মেয়ের ? ঝাড়ি মারে সে…..

” এভাবে কাঁদছো ক্যান, বেয়াদব ? বাসর করবে ?
কান্নার মাঝেই থতমত খায় শিশির । সে কি ভেবে কাঁদলো , আর এই লোকটা বলছে ! কথাটা গায়ে মাখলো না মেয়েটা । চোখে চোখ স্থির করলো ।
” এমনটা কেনো করলেন,, স্যার ?
মেয়েটার শান্ত ভেজা নড়বড়ে কন্ঠ ভেসে আসে । আদ্রের প্রত্যুত্তর সহসা….
” কি করেছি ?
” এই বিয়ে , এটা কেনো করলেন ?
” ইচ্ছে হয়েছে তাই । চেঞ্জ করে এসে শুয়ে পড়ো । নাকি অন্য কিছু চাইছো ?
” ছিঃ ,,, বাজে কথা বলবেন না একদম । ইচ্ছে হয়েছে ? হঠাৎ ইচ্ছে হলো কেনো ? কেনো এভাবে নষ্ট করলেন আমার জীবনটা ?
” নষ্ট করলাম ?
” করলেন তো ! বিষিয়ে দিলেন আমার জীবনটা ‌। বুঝতে পারছেন আপনি কি করেছেন ? স্যার ,, কেনো করলেন এমনটা ? এই অঘটন , এটা কেনো ঘটালেন ? আমি , আমি কি করবো এখন ? কি করে সামলাবো এটা ?
মাথা চেপে ধরে আরো বেশি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো মেয়েটা । ফিকড়ে উঠলো । আদ্রের বক্ষস্থল ধক্ করে ওঠে , বলে নিজেকে সংযত রেখে…

” কিচ্ছু করতে হবে না তোমায় ! শুধু সংসার করবে ,, তাতেই হবে ।
” সংসার ,, কিসের সংসার ? কার সাথে সংসার করবো আমি ? আপনার সাথে ? মাথা খারাপ হয়ে গেছে আপনার ? আরে আপনি আমার টিচার ,, ভুলে গেছেন এটা ? আমি আপনার স্টুডেন্ট । কোন দিক থেকে এটা ভাবতে পারলেন আপনি ? একটুও রুচিতে বাধলো না । সুযোগ পেলেন আর লুফে নিলেন ? ছিঃ,, স্যার । আমার ভাবতেও অস্বস্তি হচ্ছে । কি করলেন আপনি এটা ? আমাকে এভাবে বিয়ে করার কোনো যথাযথ কারন ছিলো না । আপনার কাছে তো আরোও ছিলো না । তবুও কেনো করলেন আপনি এমনটা ? কেনো বিয়ে করলেন আমায় ?
” বয়স হয়েছে , বিয়ে করা প্রয়োজন ছিলো । তাই তোমায় বিয়ে করেছি ।
শিশির তাজ্জব বনে । বিছানা ছেড়ে নামে । কি সরল স্বীকারোক্তি লোকটার । কন্ঠে কৌতুক ,, রসিকতা করছেন হয়তো । অথচ শিশির সিরিয়াস । ভেজা চোখ মুছে আবার বললো….

” মজা করছি না আমি । আর আপনার এসব হেঁয়ালি কথা বার্তা শোনার কোনো আগ্রহ নেই আমার ।
আমি এই বিয়েটা করেছি শুধুমাত্র আমার আপুর জন্য । বাধ্য হয়ে এই বিয়ে করেছি আমি । আপনাকে স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয় আমার পক্ষে । কোনো দিন না । ডিভোর্স চাই আমার ।
” আর আমি এই বিয়েটা করেছি আমার জন্য । অবাধ্য হয়ে বিয়ে করেছি । তোমাকে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয় আমার পক্ষে । তোমাকে চাই আমার ।
” স্যার ?
” বলো ? শুনছি আমি !
” পাগল হয়ে গেছেন আপনি ? মাথা খারাপ হয়ে গেছে ? এতোটা নিচ আপনি ? ছিঃ…. আপনি আমার টিচার ।
” ওওও শাট আপ বেয়াদব । ছিঃ, ছিঃ করবে না একদম । আমি তোমার টিচার কেবলই ভার্সিটিতে । নাউ আ’ম ইউর হাসবেন্ড । লিগ্যাসি হাসবেন্ড ।

” তো কি ? হাসবেন্ড হয়েছেন , বিয়ে করেছেন বলে মাথা কিনে নিয়েছেন ?
” উঁহু , শুধু মাথা নয় ‌। গোটা তুমি টাকে কিনে নিয়েছে আমি !
শিশির অস্বস্তিতে চোখ নামিয়ে নেয় । দুহাতে মুখ চেপে ধরে আওড়ায় ক্রন্দনরত স্বরে….
” আমি থাকবো না এই সম্পর্কে ! কিছুতেই না । আপনাকে আগে যা ভেবেছিলাম , তার থেকেও নিকৃষ্ট আপনি ! আমি থাকবো না । চলে যাবো । আমার আপুর কথা ভেবে এই বিয়ে করেছি আমি । এখন ডিভোর্স চাই আমার । আপনার মতো সুযোগ সন্ধানী লোকের কাছে থাকবো না আমি । কোনো দিন না । শুনুন ,, শুনে রাখুন,,, ডিভোর্স চাই আমার । বুঝেছেন আপনি !
” আপাতত তোমাকে বুঝতে চাইছি না । কারন আমি তোমাকে চাই । তোমাকে বুঝতে গেলে আমার চাওয়া অপূর্ণ রয়ে যাবে ।
শিশির একে একে তাজ্জব বনে । কিছু বুঝে পায় না । কেনো করছেন লোকটা এমন । ওকে আরো তাজ্জব বানিয়ে আদ্র আবার বলে ঠোঁট বাঁকিয়ে…..

” আই নো , ইট’স আওয়ার ফার্স্ট নাইট । ছাড় দিচ্ছি তবে ছেড়ে দিচ্ছি না তোমায় , বেয়াদব । ঘুমাও এসে…..
এই বলে আবার ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে আদ্র । মাথা নামিয়ে শুয়ে পড়ে আগের ন্যায় । ওর এমন নির্লজ্জ কথা গুলো শিশিরের গায়ে সূচের মতো বেধে । বিকৃত হয়ে আসে চোখ মুখ । ফোঁস করে শ্বাস ফেলে সে । মাথার দোপাট্টা এক টানে খুলে মেঝেতে ছুড়ে মারে ।
গজগজ করে ঘর ছেড়ে গিয়ে থামে ব্যালকনিতে । খোলা বাতাস দমকা তালে বাড়ি খায় জীর্ণ কায়ায় । উপর পানে মুখ তোলে মেয়েটা । কিসব হলো ওর সাথে ? কেনো হলো ? এসব মানা যে বড্ড কঠিন । আদ্র কে নিজের স্বামী হিসেবে কল্পনা করতেও কেমন জড়িয়ে যাচ্ছে সবটা ।

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫০

স্থির হয়ে এক কোণের ইজি চেয়ার টায় বসে মেয়েটা । মুখটা উপর পানে করে শ্বাস টানে ঘনঘন । চোখের কার্নিশ ভিজে আসে বারংবার । মাথা ঝাঁকায় দুদিকে । বুজে নেয় চোখের পাপড়ি । আর মেলে রাখা দায় হয়ে পড়ছে ভীষণ । চোখ নিভে আসছে আপনা আপনি । শাড়ি ভেদে শীতের তোপে ঠান্ডা অনুভুত হচ্ছে বড্ড । তবুও পরোয়া নেই । ধীরে ধীরে মিইয়ে যায় শ্যামলিনী ।

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫১