তুমি আমার বিতৃষ্ণা পর্ব ৩
মাশকুরা মায়িশা
যে সকল প্রতিবেশীরা এসেছিল তারা সকলেই চলে গিয়েছে,, আজহারুল আহসান ঐশী, মায়িশা আর মাশফিয়া কে বলেছেন নতুন বউকে যেন ভেতরে নিয়ে যায়,, তারা কথামতো কাজ করলে বাহিরে সবাই বৈঠকে বসে,,
যেখানে সবাই শেষমেষ আব্রাহামের কথায় রাজি হয়,, এবং আবিদ ও আবিদের বউ ওরফে রাবেয়া মুনতাহাকে মেনে নেওয়া হয়,, যতবার আব্রাহাম আবিদের পক্ষে কথা বলেছে ততবার আবিদ অবাক চোখে আব্রাহামের দিকে তাকিয়ে রয়েছে,,
অন্যান্য কাজিনদের মতো সেও আব্রাহাম কে হার্টলেস ভেবে এসেছে,, কিন্তু আজ নিজেই বড্ড পস্তাচ্ছে,, সে যে এতদিন আব্রাহাম কে ভুল ভেবে এসেছে সেটা বারে বারে আব্রাহামের কাজ, কথা তাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে,,
আব্রাহাম যখন সব কথা শেষ করে ওঠে নিজে রুমে যাচ্ছিল তখন আবিদও তার পিছনে যায়,,
আবিদ :- আমি দুঃখিত ভাইয়া আমাকে মাফ করে দিও,,
আব্রাহাম :- মাফ চাচ্ছিস কেন? তুই কি কিছু ভুল করেছিস?
আবিদ :- আজীবন তোমাকে ভুল বুঝে আসা কি ভুল কাজের মধ্যে পড়ে না ভাইয়া?
আবিদের এমন সরল স্বীকারোক্তিতে আব্রাহাম মৃদু হাসে এবং তার মাথায় হাত রেখে বলে,,
আব্রাহাম :- এটাতো এই বাড়ির প্রায় সবাই করে আসছে,,কিন্তু আজকে আমি তোর হয়ে অনেক কথা বলেছি আমার কথাগুলোকে বৃথা যেতে দিস না,,সবাইকে ভুল প্রমাণ করে দিস,,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
আবিদ আব্রাহামের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে এবং মাথা নারায়,,যেন সে বলছে :-“দেবো না ভাইয়া, মন প্রাণ দিয়ে পড়াশোনা করব..!”
এরপর আব্রাহাম নিজের রুমে চলে যায়,,
পরের দিন,,
ভার্সিটির গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে ঐশী আর মায়িশা, মায়িশা অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে আর ঐশী অনার্স ফোর্থ ইয়ারে,, তারা মূলত এখানে ইয়াশ এর জন্য অপেক্ষা করছে,, যে বর্তমানে মাস্টার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়াশোনা করছে,,
তখনই সেখানে ইয়াস আসে,, তার দিকে ঐশী আর মায়িশা রাগী ভাবে তাকালে সে ইনোসেন্টভাবে হাসে,, তারা কিছু না বলে হাঁটা শুরু করে বাড়ির উদ্দেশ্যে,, তখনই কোথা থেকে এক ছেলে আসে,,
ছেলেটি কিছু না বলে ঐ সে হাত ধরে এবং বলা শুরু করে,,
ছেলেটি :- ঐশী,, আর কতদিন এভাবে পিছনে ঘোরাবে,, অনেক ভালোবাসি তোমায়,, তোমাকে ছাড়া-
ছেলেটির পুরো কথা শেষ হওয়ার আগেই ঐশী বলে ওঠে,,
ঐশী :- সমস্যা কি তোর রিফাত? তুই জানিস আমার মনে হয় তোর আমার বদলে খাবারের পিছু করা উচিত,, তোর শরীরের যা অবস্থা আমাকে না পেলে না খাবার না খেলেই তুই আর বাঁচবি না,,
ওই সে কথায় ছেলেটি বেশ লজ্জা পায় অন্যদিকে মায়িশা আর ইয়াস মুখ লুকিয়ে হাসছে,,
এমন সময় সেখানে কোথা থেকে যেন আব্রাহাম চলে আসে,, সেই ইয়াশ আর মায়িশাকে উদ্দেশ্য করে বলে,,
আব্রাহাম :- ইয়াশ মায়িশা? তোরা বাড়ি যা,,
তখন ইয়াস মেকি হেসে বলে,,
ইয়াস :- ঐশী রেও নিয়ে যাই?
আব্রাহাম তার দিকের আগে চোখে তাকালে সে মায়িশাকে নিয়ে ওখান থেকে তাড়াতাড়ি চলে যায়,,
আব্রাহাম ঐশীকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞেস করে,,
আব্রাহাম :- বাসায় আমাদের বিয়ের কথা চলছে ভালোবাসার বয়ফ্রেন্ড নিয়ে ঘুরাঘুরি করার হলে এলাকার বাহিরে গিয়ে করো,,
ঐশী আব্রাহামের কথা বিরক্ত হয়ে বলে ওঠে,,
ঐশী:- রিফাত আমার বয়ফ্রেন্ড ছিল না,,
এরপর আব্রাহামের দিকে তীক্ষ্ণ নজরে তাকিয়ে বলে,,
আর ভালোবাসা? ভালোবাসায় আমি বিশ্বাস করিনা,, ভালোবাসা যা শুধুই একটি শব্দ, যাকে আমরা ঘৃণার বিপরীত শব্দ হিসেবে চিনি,, কিন্তু আসলে এটি শুধুই অল্প সময়ের জন্য আবেগ আর সারা জীবনের জন্য ঘৃণার সৃষ্টি করে..!
ঐশীর কথা শুনে আব্রাহাম কতক্ষণ থমকে ঐশীর দিকে তাকিয়ে থাকে,, মূলত ঐশী কোন ছেলের সাথে ঘুরছে কি ঘুরছে না এটা নিয়ে আব্রাহামের কোন যায় আসে না,, তবে ঐশী হয়তো খেয়াল করেনি কিন্তু তারা এখন বর্তমানে আহসান গ্রুপের ঠিক পিছনে দাঁড়িয়ে আছে,, যেখানে অনেক পরিচিত মানুষের আনাগোনা,,
যেহেতু ঐশী আর আব্রাহামের বিয়ের ব্যাপারে কথা চলছে,, তাই কেউ যদি ঐশী আর ওই ছেলেকে দেখে ফেলতো তবে সমস্যা হতো,, আব্রাহাম এবার এসব কিছু ভুলে ঐশীকে বলে,,
আব্রাহাম :- গাড়িতে ওঠ!
ঐশী :- আমি আপনার সাথে যাব না!
এই বলে ঐ সে চলে যেতে চায়,, এতেই আব্রাহাম প্রচন্ড রেগে যায়,, কোম্পানির অনেকেই তাদেরকে দেখছে,,তাই সে এখানে কোন সিনক্রিয়েট করতে চাচ্ছে না,,তাই সে দ্বিতীয়বার না ডেকে সরাসরি ঐশীর হাত ধরে টেনে তাকে গাড়িতে উঠানোর চেষ্টা করে,, তবে এতে সে প্রচন্ড রেগে আব্রাহাম কে ধাক্কা দেয়,, আব্রাহাম ধাক্কা খেয়ে নিজেকে সামলে ওঠার আগেই পিছন দিয়ে একটি রিকশা তাকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়,,
ফলে আব্রাহাম সেখানেই জ্ঞান হারায়,, যা দেখে এবারে ঐশী ভয় পেয়ে যায়,, সে আব্রাহাম কে দিতে ডাকতে থাকে,,
ঐশী :- এই -এই ভাইয়া,,
এভাবে কয়েক বার ডাকার পরেও যখন আব্রাহাম উঠে না তখন সে চিৎকার করে বলে ওঠে,,
ঐশী :- এই শা””লা ওঠ!! ধুরর শালায়ায়ায়ায়া ওঠঠ!!
এরপর ঐশী কয়েকজনের সাহায্যে আব্রাহামকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়,, আব্রাহামের যখন জ্ঞান ফিরে এসে দেখতে পায় ঐশী কেবিনে দাঁড়িয়েই একজন ডাক্তারের সাথে কথা বলছে,,ডাক্তার টি আর ঐশী দুজনই আব্রাহামের দিকে ঘুরলে সে দ্রুত নিজের চোখ বন্ধ করে আবার অজ্ঞান হওয়ার ভান করতে থাকে,, ঐশী আব্রাহামকে ডাকে,,
ঐশী :- এই শা- ভাইয়া উঠ..
আব্রাহাম মাত্র জ্ঞান ফেরার ভান করে,, চোখ পিটপিট করে তাকিয়ে,, আস্তে আস্তে করে বলে ওঠে,,
আব্রাহাম :- আমি কোথায়?
ঐশী তার অভিনয় বুঝতে পেরে রেগে বলে ওঠে,,
ঐশী :- তোর কব”রের ভিতর!
আব্রাহাম :- ও আপনি কি তাহলে শয়তানের বউ?,, তাই তো বলি আপনি এতো কুৎসিত কেন..!
ঐশী :- হ্যাঁ আর আপনি শয়তান..!
আব্রাহাম :- ছিহহ,, আমি তোকে বিয়ে করতে যাব কেন?!
ঐশী :- ও তাহলে এখন আপনি আমাকে চিনতে পেরেছেন? চেনার জন্য ধন্যবাদ..!
আব্রাহাম শুকনো ঢোক গেলে,, আর বেশ বিরক্ত হয়,,
তুমি আমার বিতৃষ্ণা পর্ব ২
ইয়াশ আর মায়িশা দুজনেই বাড়ির উদ্দেশ্যে হাটছে,, মায়িশার মুখ দেখেই বুঝা যাচ্ছে সে বেশ চিন্তিত,,
ইয়াশ:- কি অত ভাবছিস?
মায়িশা :- তেমন কিছু না,, আচ্ছা ভাইয়া এভাবে আপুকে কই নিয়ে গেল বলতো? এই ইয়াশ ভাই, তোর ভাই যদি আপুর সাথে কোনো গন্ডগোল-
ইয়াশ:- ভাইয়া ঐশীর সাথে কি গন্ডগোল করবে সেটা জানিনা,, কিন্তু কোন গন্ডগোল যে তোর মাথাতে হয়েছে সেটা আমি নিশ্চিত,, না হলে কেউ কাউকে তুই-তোকারি করে আবার ভাই বলে ডাকে?
মায়িশা :- তোর তো নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করা দরকার যে তোকে আমি অ্যাটলিস্ট ভাই বলে ডাকি!
ইয়াশ মৃদু হাসে এবং বলে,,
ইয়াশ :- চল তোকে একটা জায়গায় নিয়ে যাই,,
এই বলে সে মায়িশাকে টেনে নিয়ে যেতে থাকে ,,,
