Home তুমি আমার বিতৃষ্ণা তুমি আমার বিতৃষ্ণা পর্ব ৮

তুমি আমার বিতৃষ্ণা পর্ব ৮

তুমি আমার বিতৃষ্ণা পর্ব ৮
মাশকুরা মায়িশা

“ভালোবাসি” সবার সামনে তখন আব্রাহামের বলা এই একটা শব্দ ঐশীর কানে বারবার ভেসে আসছে,, আব্রাহাম তাকে ভালবাসে এটা কোনমতেই যেন সে বিশ্বাস করতে পারছে না,, অন্যদিকে বুকের মধ্যে এক অন্য রকম ভালোলাগাও কাজ করছে,, এ কেমন অনুভূতি?

[রাতের বেলা]
সবাই একসাথে রাতের খাবার খাচ্ছে,, নিস্তব্ধ পরিবেশ থালাবাসনের টুকটাক আওয়াজ পুরো ডাইনিং হল টাকে ভরে ফেলেছে,, তখনই সবার অগোচরে ইয়াশ নিজের প্লেট থেকে ইলিশ মাছের টুকরোটা সাইডে সরিয়ে রাখে,,
আসলে ইয়াস মাছ বেছে খেতে পারেনা,, এটা তার জন্য বেশ লজ্জা জনক তাই সবার অগোচরে এই কাজ,, অন্য সময় আয়েশা বেগম আর লিপি বেগম তাকে মাছ বেছে দেন,, কিন্তু বর্তমানে তার মামা-মামী ও তার কাজিন রাও উপস্থিত আছে তাই সে মাছ না খাওয়াটাকেই বেছে নিল,,

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

ইয়াশকে মাছ সরিয়ে রাখতে মায়িশা দেখে ফেলে,, সেই ইয়াশের হাত থেকে মাছটা নিয়ে নিজের প্লেটে রাখে,, যা সবার চোখেই পরে,, তবে মায়িশা কিছু না ভেবে ইয়াশকে মাছের কাটা বেছে দিতে থাকে,,
যা দেখে ইয়াশ অবাক চোখে মায়িশার দিকে তাকিয়ে আছে,, এদিকে বাড়ির সবাই হা হয়ে গিয়েছে,, আব্রাহাম একপলক তাকিয়ে নিজের চোখ সরিয়ে নেয়,, অন্যদিকে ঐশী আর মাসফিয়া দুজনই নিজেদের হাসি আটকে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে,,

সবার দিকে তাকিয়ে হঠাৎ করেই আজহারুল আহসান বলে ওঠেন,,
আজহারুল আহসান :- তোমাদের সবার উদ্দেশ্যে আমার কিছু কথা ছিল!
সবাই এখন আজহারুল আহসানের দিকে মনোযোগ নিবেশ করে,, হবার নিজের দিকে বুঝতে পেরে আজহারুল আহসান আবারো বলা শুরু করেন,,
আজহারুল আহসান :- মায়িশা, ইয়াশ আমি জানি তোমাদের বিয়েটা হঠাৎ করে হয়ে গিয়েছে কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না যে তোমরা বর্তমানে স্বামী স্ত্রী তাই আমি চাই আমরা দুজনে একই ঘরে থাকা শুরু করো!
আজহারুল আহসানের কথায় সবাই সম্মতি পোষণ করলেও ইয়াশ আর মায়িশা টাসকি খেয়ে যায়,, অন্যদিকে খাওয়ার প্লেটে অভ্রর হাত থেমে যায়,, বুকের মাঝে বড্ড ব্যথা অনুভূত হচ্ছে তার,,
সে খাওয়া ছেড়ে উঠে পড়তে চাইলে তাকে বসতে বলে আজহারুল আহসান আবার বলে ওঠেন,,

আজহারুল আহসান :- আমার আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে,, মূলত এই কারণেই এখন এই সময় আমিনা আর ইজাজ আমাদের বাসায় এসেছে,,
এবারে সবাই কিছুটা সিরিয়াস ভঙ্গি নিয়েই আজহারুল আহসানের কথায় মনোযোগ দেন,,
আজহারুল আহসান :- আমি চাই অভ্র আর মাশফিয়ার বিয়ে দিতে,, আশা করছি আমার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে এখানে কারোই কোনো আপত্তি নেই ?
মাজহারুল আহসান:- একি বলছেন ভাইজান আপনার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কি আমরা কখনো কিছু বলেছি? যে এবার বলবো? আপনি যা বলবেন তাই হবে!

কিন্তু মাসফিয়ার হাত খাবার প্লেটেই থেমে যায়,, অভ্র যেন থম মেরে যায়,, ভাগ্য কি তাদের জন্য এতটাই নিষ্ঠুর? মাসফিয়া চুপ করে বসে আছে,, নিস্তেজ চোখে সে নিজের প্লেটের দিকে তাকিয়ে আছে,, কিন্তু ভাবনা অনুসরণ করেছে কোনো এক পুরুষের উপর,,

(অভ্রর ঘর)
অভ্র নিজের ঘরে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে আনমনের সিগা”-রেট টানছে,, নিজের ভাগ্যের উপর নিজেরই হাসতে ইচ্ছে করছে অভ্রর,, আজীবন বেখেয়ালি ছন্নছাড়া জীবন পার করেছে সে,, কখনো কোন কাজ করার আগে দু’বার ভাবেনি যে সেটা ভালো হচ্ছে না খারাপ,,এজন্য কোন দিনই আব্রাহামের সাথে তার ভালো সম্পর্ক ছিলনা,, কিন্তু নিজের অজান্তেই পাঁচটা বছর আগে কোন এক রমণীকে নিজের মন দিয়ে দিয়েছে সে,,

কিন্তু ভাগ্যের খেলা নির্মম,, ভাগ্য তাকে নিজের প্রথম ভালোবাসার ছোট বোনকে বিয়ে করার মত এক জায়গায় এনে ফেলেছে,, তার কাছে তো কোন দ্বিতীয় রাস্তা নেই,, আজীবন ধরে মায়ের কথার বিরুদ্ধে একটি কথাও সে বলতে পারেনি,, বলতে গেলে এই কারণেই মায়িশার কথা সে পরিবারের কাউকেই কখনো জানাতে পারেনি,, যা আজও তাকে পস্তাতে বাধ্য করছে,,

সিগা”-রেটের পো-ড়া অংশটা নিচে ফেলে দিয়ে অভ্র আনমনে বিড়বিড়িয়ে ওঠে,,
অভ্র:- আমার ছন্নছাড়া, বেখেয়ালি মনের ইতি ঘটিয়ে,, কোন এক শীতের সকালে আগমন ঘটিয়েছিল আমার একান্ত প্রজাপতি..!
সেই প্রজাপতিটাকে আমি আমার জীবনের সাথে বাধতে চেয়েছিলাম,,কিন্তু বোকা আমি এটাই বুঝতে পারিনি যে,,
সে অনেক আগে থেকেই অন্য কারো,,জীবনের সাথে বাধা ছিল..!

আজকেই আমিনা বেগমরা আহসান বাড়ি থেকে ফিরে যাবেন,, মাশফিয়া আর অভ্রর বিয়েটা আরো ৭ দিন পর শুক্রবারে ঠিক করা হয়,, কিন্তু এখন থেকেই বাড়িতে বিয়ে বিয়ে একটা আমেজ শুরু হয়েছে,,

আব্রাহাম নিজের অফিসে কাজ করছিল,, তখনই সেখানে রেয়ান আসে কিছু ফাইল নিয়ে,, রেয়ানকে দেখেই আব্রাহাম মুচকি হাসে,, আব্রাহামকে হাসতে দেখে রেয়ান ভ্রু কুচকে তাকিয়ে বলে,,
রেয়ান:- এভাবে হাসছিস কেন? ভুতে ধরেছে নাকি?
আব্রাহাম :- আরে ছোট বোনের বিয়ে ঠিক হয়েছে হাসবো না?
ছোট বোন শুনে রেয়ানের ভ্রু কুঁচকে যায়,, কারণ সবারই তো বিয়ে হয়ে গিয়েছে,, সে বুঝতে না পেরে জিজ্ঞেস করে,,

রেয়ান:- ছোট বোন মানে?
আব্রাহাম :- আরে গাধা মাশফিয়ার কথা বলছি!
রেয়ান: ওহহ আচ্ছা- কিহহহ!
রেয়ানের হঠাৎ এমন চিল্লানিতে আব্রাহাম তার থেকে ভ্রু কুচকে তাকালে রেয়ান নিজেকে ঠিক দেখানোর চেষ্টা করে,, এবং শুধু হালকা হেসে সেখান থেকে বের হয়ে যায়,,

ঐশী আর আলিশা একসাথে ঘরে বসে আছে,, আলিশা নিজের ব্যাগ গুছাচ্ছে বাড়ি যাওয়ার জন্য,, তখনই আলিশা চোখ যায় হাস্যোজ্জ্বল ঐশীর দিকে,, সে কতক্ষণ ঐশীর দিকে তাকিয়ে থেকে হঠাৎ সে বলে ওঠে,,
আলিশা:- তুমি অনেক ভাগ্যবতী ঐশী!
ঐশী:- কেন বলতো আপু?
আলিশা :- কারণ.. তুমি ভাগ্যের এই নির্মম পরিহাসে অনেক বাজে ভাবে জিতে গিয়েছো, ঐশী,, আর আমি ঠিক ততটাই বাজে ভাবে হেরে গিয়েছি,, যাকে আমি প্রতিটা মোনাজাতে চেয়েও পাইনি,, তুমি তাকে না চাইতেও পেয়ে গিয়েছো,,
এই বলে আলিশা ঘর থেকে বের হয়ে যায় ,, কিন্তু ঐশী সেখানে চুপ হয়ে বসে থাকে,, কারণ সে বুঝতেই পারেনি আলিশা কিসের কথা বলে গেল,,

মাসফিয়া নিজের ঘরে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে আছে,, যেখানে বর্তমানে পুরো আহসান বাড়ি তার বিয়ের খুশিতে মেতে উঠেছে,, সেখানে সে নিজেই বিষন্ন হয়ে সারাদিন ঘরে কাটিয়েছে,,
তার মতে,,ভাগ্য অনেক নিষ্ঠুর,, কিন্তু এর থেকেও নিষ্ঠুর ও নির্মম মেয়েদের জীবন,, মেয়েদের যে ভালবাসতে নেই,, তাদের ভালোবাসা সর্বদা একতর্ফাই থেকে যায়,,,
কিন্তু তাকে কি বোঝাবে? যে রিফাত ও অভ্রর মত পুরুষও একপাক্ষিক ভালবেসে হেরে গিয়েছে..!

রেয়ান নিজের ঘরে বসে আছে,, বুকের ভিতরে দহন হচ্ছে তার,, মন বলছে সে হয়তো তার “নীলাঞ্জনা”কে হারিয়ে ফেলতে চলেছে,, কিন্তু তাহলে তো সে বাঁচ-বে না,,
যখন সে প্রথমবার মাশফিয়াকে দেখে তখন মাশফিয়া মাত্র এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে,, মায়িশা আর মাসফিয়ার জন্মদিনএকদিন আগে পরে,, মাশফিয়ার জন্মদিন জুন মাসে ৪ তারিখ, আর মাহেশের জন্মদিন জুন মাসের ৫ তারিখ (এটা কিন্তু আসলেই) তাই ৫ তারিখ আহসান বাড়িতে বড় করে অনুষ্ঠান করে তাতে জন্মদিন পালন করা হবে বলে ঠিক করা হয়,,

তুমি আমার বিতৃষ্ণা পর্ব ৭

সেদিন মাশফিয়া একটি নীল রঙের শাড়ি পড়েছিল,, তাকে প্রথমবার নীল রঙের শাড়ি পরিহিত অবস্থায় দেখেই রেয়ান তাকে ভালোবেসে ফেলে,, এবং তখনই তার নাম দেয় “নীলাঞ্জনা”,, রেয়ানের নীলাঞ্জনা..!

তুমি আমার বিতৃষ্ণা পর্ব ৯