Home মিহি মিহি পর্ব ২৭

মিহি পর্ব ২৭

মিহি পর্ব ২৭
রুপন্তী সরকার

মিহি ঘুম থেকে উঠে দেখে রিদ ঘুম ঘুম চোখে ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। রিদের চোখ টকটকে লাল হয়ে আছে। মিহি বুঝতে পারলো রিদ সারারাত ঘুমায় নি। রিদ মিহির উদ্দেশ্যে বললো।
“এখন কেমন লাগছে প্রিন্সেস? পেটে ব্যথা কমেছে?”
মিহি বললো
“হ্যাঁ কমেছে। কিন্তু তুমি কি সারারাত ঘুমাও নি কেন?”
রিদ কোনো উত্তর না দিয়ে মিহির কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়লো। মিহি রিদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো

“তোমার ডিল ফাইনাল হলো?”
রিদ নেশালো কন্ঠে বললো
“ঘুমাবো আমি”
মিহি বললো
“আমি তো ভার্সিটিতে যাবো”
রিদ বললো
“যেতেই হবে?”
“হ্যাঁ আজকে একটা এক্সাম আছে।”
রিদ উঠে দাঁড়িয়ে বললো
“আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি”
মিহি বললো

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“তুমি তো সারারাত ঘুমাওনি তুমি ঘুমাও।আমি অভর সাথে চলে যাবো”
রিদ বললো
“এতো অভ অভ করবা না তো বা*ল ভালো লাগে না। আমিই নিয়ে যাবো।”
কথা বলার মাঝেই অভ্র এন্ট্রি নেই। অভ্র এসেই মিহির কাঁধে হেলান দিয়ে বলে
“কি নিয়ে কথা হচ্ছে গাইস?”
রিদ অভ্রর উদ্দেশ্যে বলে
“এই যে তুই কিভাবে আমার বউকে মায়ের চোখে দেখিস সেটা নিয়েই আলোচনা করছিলাম”
অভ্র অবাক হয়ে বললো
” ওকে মায়ের চোখে কেনো দেখবো? মেয়ের চোখে দেখি এটা বললেও পারতি”
রিদ বলে

“ওই একই হলো। তুই ওকে মায়ের চোখে দেখবি আর তোকে বাপের চোখে সিম্পল”
অভ্র রিদের কথা শুনে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো, রিদ ফ্রেস হতে চলে গেলো। এইদিকে মিহি লাফিয়ে অভ্রর কাছে এসে বলে
“কি বস ভালো তো? ভালোই তো তিথী আপুর সাথে প্রেম করছো, খোঁজ খবর নেই তোমার”
অভ্র মিহির কান টেনে বললো
“আমার টুইংকেটা এতো পেকেছে কিভাবে? আর তুমি যেমন আমার স্টুডেন্ট তিথী ও আমার স্টুডেন্ট, সেরকম কোনো ব্যাপার নেই”
মিহি বললো

“উম আমি সব জানি তুমি..
মিহি আর কিছু বলার আগেই
রিদ এসে হুট করেই মিহিকে কোলে নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়ে। এইদিকে অভ্র টাসকি খেয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে আছে।
এইদিকে রিদ মিহির গলায় মাথা ঠেকিয়ে দাড়িয়ে থাকে। মিহি রিদ কে বলে
” আরে এটা কি হলো? ওভাবে নিয়ে আসলে কেনো?”
রিদ মিহির গলায় চুমু খেয়ে বললো
“জামাতে দাগ লেগে আছে। তারাতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নাও। আর হ্যাঁ ভেজা কাপড়ে বাহিরে আসবে না আমি ড্রেস দিয়ে যাচ্ছি”

এই বলেই রিদ ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে গেলো
মিহির খুব লজ্জা লাগছে। তাড়াতাড়ি করে গোসল করে বেরিয়ে আসে।
ওরা তিন জন ভার্সিটির উদ্দেশ্যে চলে যায়। অভ্র এখন মিহির ভার্সিটির প্রফেসর।
অভ্র এখন আর আগের মতো মিহির সাথে দেখা করতে আসে না।কাজের চাপ থাকে। তবে যখনি সুযোগ পায় তখনি চলে আসে।

ভার্সিটির গেটে এসে গাড়ি দাড় করায়। অভ্র আর মিহি গাড়ি থেকে নেমে পরে। রিদ অভ্রর উদ্দেশ্যে বলে
“শোন ওকে একটু সময় করে খাইয়ে দিস। কালকে রাত থেকে না খেয়ে আছে। আর ওর পেট ব্যাথা করলে সঙ্গে সঙ্গে আমায় ফোন করবি”
অভ্র মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বলে, এরপর মিহি কে নিয়ে চলে যেতে নেয় পেছন থেকে রিদ বলে,
❝আপাতত তুই যা ওর সাথে কথা আছে।❞
অভ্র চলে যায়, রিদ মিহির ঠোঁটে আলতো ভাবে চুমু দিয়ে বলে
“ছুটির পর অপেক্ষা করো প্রিন্সেস।নিতে আসবো।”
মিহি ঠোঁট মুছতে মুছতে বলে

“আচ্ছা”
রিদ আবার মিহির ঠোঁটে গভীর ভাবে চুমু দিয়ে বলে
“এরপর মুছলে টানা ২ ঘন্টা ধরে কিস করবো।”
মিহি রিদের কাছে এসে কানে কানে বলে
“আস্তে কথা বলো পঁচালোক মানুষজন আছে”
রিদ ও মিহির কানে কানে বলে
“আমি কি করবো বলো? তোমার কাছে থাকলে তো মাথা ঠিক থাকে না।”
মিহি কিছু না বলে ভার্সিটিতে চলে যায়।
মিহি যাওয়ার পর রিদের কাছে কল আসে। রিদ কল রিসিভ করে। ওই পাশ থেকে বলে

“স্যার আপনার কন্ট্রাক্টটা আপনার বাবা আরাফ রায়ান চৌধুরী সাইন করে দিয়েছে। তাই ডিল ফাইনাল করা হয়েছে”
রিদ বলে
“আর পাপার ডিল?”
“উনার ডিল তো ক্যান্সেল করেছেন”
রিদ বলে
“হোয়াই? আমার ডিল ক্যানসেল করে ওনার ডিউ ফাইনাল করতে বলো”
“স্যার এখন আর ক্যানসেল করা যাবে না”
রিদ কিছু না বলেই ফোন কেটে দেয়।

এইদিকে অভ্র মিহির ক্লাসরুমে ডুকে। সবাই অভ্রকে সালাম দিলো। এরপর অভ্র ক্লাস নেওয়া শুরু করলো। অভ্রর ক্লাসে মিহি খুব দুষ্টুমি করে। ইচ্ছা করে ভুল ভাল প্রশ্ন করে। অভ্র ও মিহির প্রশ্নের ভুল ভাল উত্তর দেয়। অভ্র খুব হাসায় সবাইকে। যার কারণে সবাই অভ্রকে পছন্দ করে। ক্লাসের অনেক মেয়েরই ক্রাশ অভ্র। তিথি নামের একটা মেয়ে অভ্রকে অনেক পছন্দ করে। অভ্র অবশ্য ওতো পাত্তা দেয় না।
ক্লাস করানোর মধ্যে রিদ অভ্র কে কল দেয়। অভ্র ফোন রিসিভ করা মাত্র অভ্রকে কিছু বলতে না দিয়ে রিদ বললো
“ক্লাস করানো হয় নি তোর ? এক সেকেন্ডের মধ্য প্রিন্সেস কে নিয়ে গিয়ে খাওয়া। বললাম না ও রাত থেকে না খেয়ে আছে? কথা কানে যায় না তোর?”
অভ্র বলে

“আরে ইয়ার এখন তো আমি ক্লাস করাচ্ছি কিভাবে নিয়ে যাবো? ক্লাস করানো শেষ হোক তারপর নিয়ে যাচ্ছি”
রিদ বললো
“ওকে আগে খাবার খাওয়া তারপর ক্লাস করাস। এখনি যাবি নাকি আমি আসবো তোর সাথে দেখা করতে?”
অভ্র বললো
“আরে মামা রাগ করিস কেনো। তোরে আসতে হবে না আমি এখনি যাচ্ছি”
অভ্র ফোন কেটে মিহির উদ্দেশ্যে বলে।
“টুইংকেল উঠে আসো”

ক্লাসের সবাই মিহির দিকে তাকিয়ে আছে। মিহি গুটি গুটি পায়ে অভ্রর কাছে যায়। অভ্র শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলে
“সোনা- মুনিরা আমি একটু টুইংকেলকে খাইয়ে নিয়ে আসি। তারপর ক্লাস করাবো, তোমরা আপাতত পড়া মুখস্ত করো আমি এসে ধরবো”
এই বলেই অভ্র মিহি কে নিয়ে ক্যান্টিনে চলে গেলো। এইদিকে তিথির খুব কান্না পাচ্ছে। তিথি খেয়াল করেছে অভ্র সব সময় মিহির সাথে থাকে। ওর মনে হয় মিহির সাথে অভ্রর প্রেম আছে।
ভার্সিটি ছুটির পর…
মিহি রিদের জন্য অপেক্ষা করছে এমন সময় মিহির ক্লাসের একটা ছেলে ওর কাছে আসে।
“মিহু তোরে আজকে জোস লাগছে ট্রাস্ট মি ”
মিহি হেসে বলে

“থ্যাংক ইউ রে”
দূর থেকে রিদ দেখে মিহি একটা ছেলের সাথে হেসে কথা বলছে। দেখা মাত্র রিদের মাথায় রক্ত উঠে গেলো। রাগে গজগজ করতে করতে বলে
“ফার্স্ট টাইম এমন ভুল করলে বলে কিছু বললাম না প্রিন্সেস। বাট নেক্সট টাইম যদি সেইম ভুল হয়। তাহলে আমার হাত তোমার গাল অব্দি পৌঁছাতে বেশি টাইম লাগবে না।”
কথাটা বলেই হাঁটতে হাঁটতে মিহির কাছে যায়। মিহি রিদ কে আসতে দেখে ছেলেটার থেকে দূরে সরে যায়। রিদ এসে মিহির হাত শক্ত করে ধরে বলে

“পাঞ্চ মারো”
মিহি বললো
“কাকে মারবো?”
রিদ শান্ত কন্ঠে বলে
“একটু আগেই যার সাথে কথা বললা তাকে”
মিহি বললো
“কেনো? ও তো শুধু বললো আমাকে সুন্দর লাগছে”
এই কথা শুনে রিদের মাথা আরো গরম হয়ে যায়। রিদ গর্জে উঠে বলে
“যাও গুনে গুনে ৫০ বার ওর নাক বরাবর পাঞ্চ মারবা”
মিহি বলে আমি পারবো না
রিদ ওর দিকে রাগি চোখে তাকাতেই মিহি ভয়ে ভয়ে ওই ছেলেটার দিকে এগিয়ে গেলো। ছেলেটা মিহি কে ওর কাছে আসতে দেখে বললো

“কি হয়েছে মিহু?”
ছেলেটার মুখে “মিহু” নাম শুনে রিদের মাথা আরো গরম হয়ে গেলো। পাশে থাকা দেওয়ালে জোরে ঘুষি মেরে বললো
“তোমাকে বলছি না ওর নাকে পাঞ্চ মারতে? কথা কানে যাচ্ছে না?এর ফল কিন্তু খারাপ হবে মিহি”
রিদের এমন আচরণে ছেলে টা অবাক হয়ে যায় ও বুঝতে পারছে না কি হচ্ছে। ছেলেটা কিছু বুঝে উঠার আগেই মিহি ছেলেটার নাকে একটা পাঞ্চ মারে। আচমকা আক্রমণে হবদম্বের মতো মিহির দিকে তাকিয়ে থাকে।
রিদ বললো

“গুড সবে একটা হলো”
মিহি আবারো ছেলেটার নাকে পাঞ্চ মারলো। ছেলেটা ভয়ে কান্না করে বলে
“মারছিস কেনো? কি করেছি আমি?”
মিহি ফিসফিস করে বললো
“এ ভাই কষ্ট করে একটু মার খেয়ে নে। এখন পচাঁলোক সেইরকম রেগে আছে। বেশি কিছু বলিস না নহলে পরে তোকে আবার মেরে তক্তা বানিয়ে ফেলবে”
এই বলেই আরো একটা পাঞ্চ মারে। মিহি চেষ্টা করছে পাঞ্চগুলো আস্তে মারার, কিন্তু শক্ত হাত আস্তে মারলেও জোরে লাগছে। ছেলেটার নাক থেকে গলগল করে রক্ত পড়ছে। ছেলেটা বলে

মিহি পর্ব ২৫+২৬

“আমি আর কখনো তোর সাথে কথা বলবো না প্লিজ আর মারিস না। আমার আর সহ্য হচ্ছে না”
রিদ বললো
“চুপ আমার বউকে ডিস্টার্ব করো না। ভদ্র ছেলের মত পাঞ্চগুলো সহ্য কর। নাহলে এরপর আরো শাস্তি আছে।”
রিদ মিহির দিকে তাকাতেই মিহি আবারো পাঞ্চ মারে।
৫০ টা পাঞ্চ মারার পর ছেলেটা অজ্ঞান হয়ে যায়। রিদ অ্যাম্বুলেন্সে ফোন দেয়। ভার্সিটির প্রায় সকলেই জড়ো হয়ে গেছে।একটা বাজে পরিস্থিতি হয়ে গেছে।

মিহি পর্ব ২৮

1 COMMENT

  1. Apo tomi koydin por por golpo deo. Janai o. Taile r kisokkhon por por dekha lagbe na. Tomar deoya time onojai ase porbo. Ami Google e porito tai

Comments are closed.