মিহি পর্ব ৭+৮
রুপন্তী সরকার
রিদ মিহিকে নিয়ে একটা মার্কেটে গেলো ওইখানে থেকে টুকটাক কিছু কেনাকাটা করলো আর মিহি কে কয়েকটা বেবি শার্ট কিনে দিলো! মিহি কে বেবি শার্ট গুলোতে সুন্দর লাগে একটা ছোট্ট পুতুলের মতো লাগে!
কেনাকাটা শেষ হয়ে গেলে রিদ মিহি কে নিয়ে বাহিরে আসে! মিহির চোখ একটা বড়ো চুড়ির দোকানে পড়লো!
রিদের হাত টেনে বললো
_”আমাকে ওতা কিনে দিবা?”
রিদ লক্ষ্য করলো মিহি চুড়ির দিকে তাকিয়ে আছে!
রিদ মিহি কে নিয়ে ওই দোকানে গেলো!
মিহির চোখ একটা সাদা রঙের চুড়ির দিকে পরে যেটা রূপার ছিলো! মিহি আবদার করে বসে
_”আমি ওতা নিবো আমাকে ওতা কিনে দাও”
রিদ দেখলো চুড়িটা রুপোর , এখন রিদের কাছে ওই চুড়ি কিনে দেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই! রিদ চুড়িটার দিকে তাকিয়ে মনে মনে বললো
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
_”ওই চুড়িটা এখন কিনে দেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই আমার প্রিন্সেস! তবে তুমি চিন্তা করো না কোনো একদিন এমন লক্ষ্য লক্ষ চুড়ি তোমার সামনে এনে হাজির করবো”
রিদ মিহি কে কোলে নিয়ে বলে
_”ওই চুড়ি তোমাকে পরে নিয়ে দিবো! এখন দেখো ওইখানে কি সুন্দর কাচের চুড়ি! তুমি নিতে চাও প্রিন্সেস?”
মিহি বললো
_”হ্যাঁ চাই তো”
রিদ মিহি কে চুমু দিয়ে মনে মনে বললো
_”আমার পাখিটার কোনো জেদ নেই! যা বলি তাই শুনে! তুমি কবে বড়ো হবা প্রিন্সেস?”
রিদ মিহি কে এক জোড়া কাচের চুড়ি কিনে দিলো সেটা পেয়ে মিহির খুশি দেখে কে
রিদ মিহি কে বললো _”চুড়ি কিনে দিলাম চুমু কে দিবে শুনি?”
মিহি খুশিতে আত্মহারা হয়ে রিদ কে অনেক গুলো চুমু দেই!
রিদের কাছে খুব ভালো লাগছে ওর ছোট্ট পাখিটা একটুতেই কতো খুশি!
রিদ নিজের উপর খুব অবাক হচ্ছে! অচেনা একটা মেয়ে যার বয়স মাত্র ৫ বছর সেই মেয়ের জন্য রিদের কত্ত মায়া! সেই বাচ্চা মেয়ের জন্য নিজের বাড়ি ও ত্যাগ করলো! কি আছে এই বাচ্চা মেয়ের মধ্যে?
রিদ মিহি কে নিয়ে অভ্রর মেসে চলে যায়! মিহি অভ্রর কাছে দৌড়ে কাছে যায়! অভ্র মিহি কে কোলে তুলে নেয়! মিহি ওকে ওর কাচের চুড়ি গুলো দেখায়
_”দেখো এতা আমাকে পঁচা লোক কিনে দিয়েছে”
_”কি সুন্দর লাগছে আমার টুইংকেল কে মাশাআল্লাহ! তুমি খুশি তো টুইংকেল?”
_”হুম খুশি”
রিদ চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে! অভ্র কে বাকি টাকা ফেরত দিলো , কিন্তু অভ্র ওর হাত ধরে বলে
_” এটা তোর কাছেই রাখ কাজে লাগবে”
_”আরে রাখ আমার লাগলে সেটা পরে দেখা যাবে”
_”রাখতে বললাম রাখ”
রিদ বলে
_”প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেছে , থাক তাহলে! নতুন বাড়িতে যায়”
হঠাৎ অভ্রর বুক টা কেঁপে উঠলো! তাহলে কি শেষমেষ ওর টুইংকেল ওকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে? কি করে থাকবে অভ্র ? অজান্তেই চোখ ছলছল করে উঠলো অভ্রর!
রিদ মিহি কে অভ্রর কোল থেকে নিজের কোলে নিলো
মিহি অভ্রর গালে একটা চুমু দিলো
_”থাকো অভ আমি আবার আসবো”
অভ্র অসহায়ের মতো রিদ আর মিহির দিকে তাকিয়ে আছে! রিদ বুজতে পেরেও কিছু বলে না! অভ্রর থেকে বিদায় নিয়ে চলে যায়…!
রিদের যাওয়ার পানে অসহায়ের মতো তাকিয়ে আছে অভ্র!
অভ্রর মনে হতে থাকে
একটা বাচ্চার প্রতি হুট করে এত্ত মায়া কেনো হচ্ছে? কি আছে ঐ বাচ্চার মধ্যে? ২ দিন আগেও তো ওই বাচ্চা কে ভালো ভাবে চিন্ত না! এতো কষ্ট কেনো হচ্ছে? কেনো এতো অসহায় লাগছে ওর? কেনো মনে হচ্ছে কেও ওর কলিজা ছিঁড়ে নিয়ে যাচ্ছে! খুব কান্না পাচ্ছে কি করে থাকবে টুইংকেল কে ছাড়া?”
অভ্র একভাবে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে! কিছু ভালো লাগছে না ওর!
এইদিকে….
মিহি নতুন বাড়িতে এসে খুব খুশি! বাড়ির মালিকের একটা মেয়ে আছে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিল মেয়েটার নাম মিষ্টি, মেয়েটা দেখতেও ভীষণ মিষ্টি!
মিহির সাথে ওই দুইজনার ভালোই ভাব জমেছে! বাড়িতে আসার পর থেকেই ওদের সাথে খেলছে!
বাড়ীওয়ালার নাম রামপ্রসাদ উনি হিন্দু ধর্মের! উনি ভীষণ ভালো মানুষ উনার ঘরে আসবাব পত্র দিয়ে রিদের ছোট্ট ঘর টা সাজিয়ে দিয়েছে
একটা ছোট্ট পুরোনো খাট দিয়েছে ঘরে!
রিদ এসেই খাটের উপর সুয়ে পরে!
মিহি মিষ্টর সাথে বারান্দায় খেলছে!
মিষ্টি মিহি কে জিজ্ঞেস করলো
_”আচ্ছা বুনু ওইটা তোমার দাদা হয়?”
_”ওতা আমার পঁচা লোক হয়”
মিষ্টি মিহির কথা বুজতে পারে না! মিষ্টি আবারো বললো
_”মানে? পঁচা বলছো কেনো বনু? উনি কি খারাপ লোক?”
_”না না তারাপ না আমি তো পঁচা লোক বলেই ডাকি এই দেখো আমাকে এতা কিনে দিয়েছে!”
মিষ্টি আরো কিছু বলতে যাবে তার আগেই রিদ আসে!
মিহি কে কোলে তুলে নেয়! আর মিষ্টির দিকে তাকিয়ে একটা হালকা হাসি দেই! মিষ্টি রিদ কে প্রথম দেখায় ক্রাশ খাই! মিষ্টি রিদ কে কিছু বলতে যাবে এর আগেই রিদ মিহি কে নিয়ে চলে যায়!
ঘরে এসে
রিদ মিহির জামা চেঞ্জ করিয়ে দেই একটা ছোট গেঞ্জি পরিয়ে দেয় , চুল গুলো খুব সুন্দর করে বেনি করে দেই! এর পর রিদ মিহি কে বলে
_”চলো খাবার কিনে নিয়ে আনি”
মিহি বলে
_”চলো”
রিদ মিহি কে নিয়ে বাহিরে বের হতে নিবে এর মধ্যেই রামপ্রসাদ আসেন হাতে খাবারের প্লেট
_”বাবা এখন আর তোমাদের বাহিরে যেতে হবে না এই খাবার টুকু খেয়ে নাও”
_”আঙ্কেল এসবের কোনো দরকার ছিলো না”
_”দরকার ছিলো বাবা”
এই বলেই উনি মিহি কে একটু আদর করলো
এর পর চলে গেলো! রিদ খাবার নিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলো!
এর পর মিহি কে খাইয়ে দিলো! রিদ মিহি কে বললো
_”আমি তোমাকে খাইয়ে দিচ্ছি তুমি আমাকে খাইয়ে দিবে না?”
মিহি মুখে হাত দিয়ে বলে
_”দিবো তো”
_”তাহলে খাইয়ে দাও”
মিহি ওর ছোট ছোট হাতে রিদের মুখে খাবার তুলে দিলো! রিদের কাছে এই মূহর্ত টা খুব ভালো লাগছে! পরম তৃপ্তি নিয়ে রিদ খাবার খাচ্ছে! মিহির হাত এতই নরম রিদ ভুল করে হতে কামড় দিয়ে দেই
মিহি হালকা চিল্লিয়ে বলে
_”আহ থামড়াচ্ছ কেনো! খাবার খাও আমার হাত থাচ্ছ কেনো?”
রিদ মিহির কথা তে হেসে বলে
_”সব খাবো খাবার খাবো , তোমার হাত খাবো তোমাকেও খেয়ে ফেলবো!”
_”তুমি কি রাক্ষস?”
রিদ হেসে উঠলো… রিদের ফোনে কল আসে রিদ কল টা ধরে, অভ্র ফোন করেছে
অভ্র কাতর কণ্ঠে বলে উঠলো
_”রিদ টুইংকেল কই রে?”
_”এই যে বসে আছে”
_”ওরে একটু দি নাহলে দম আটকিয়ে মারা যাবো”
রিদ মিহি কে ফোন দিলো
মিহি অভ্রর সাথে কথা বলে
_”অভ তান্না করো না আমি আছি তো”
_” আমি যে তোমাকে খুব মিস করছি টুইংকেল মনে হচ্ছে এখনি ছুটে তোমার কাছে চলে যায়! তুমি আমাকে মিস করছো না?”
_”তরছি তো”
এভাবেই অনেকক্ষন বকবক করে অভ্রর সাথে…
মিহির সাথে কথা বলার পর অভ্রর ভালো লাগছে ঠিক করলো সকাল হওয়ার সাথে সাথে মিহির কাছে যাবে…
এইদিকে রিদ মিহি কে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে! মিহি ঘুমিয়ে পড়েছে কিন্তু রিদের চোখে ঘুম আসছে না আজকে হঠাৎ করে মা এর কথা মনে পড়ছে!
রিদের মা অনেক আগেই মারা গেছেন! তখন রিদের বয়স ছিলো ১০ বছর , প্রথম প্রথম খুব মনে পড়তো মা কে এখনো খুব মনে পড়ে !
রিদ ভাবলো মিহির ও তো মা নেই তাহলে মিহির কি হয়? রিদ মিহির নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকালো! ওর কপালে গভীর চুমু দিলো….!
সকাল হতে না হতেই অভ্র এসে হাজির! সারারাত টুইংকেলের কথা মনে পড়েছে…!
এসেই মিহি কে আদর করে মিহি ও অভ্র কে জড়িয়ে ধরে!
অভ্র মিহি কে বলে
_”কত গুলো মিস করেছি তোমাকে”
রিদ কিছুটা বিরক্ত হয়ে বললো
_”ভালো করেছিস মহাভারত শুদ্ধ হয়ে গেছে তোর মিস করা দেখে”
অভ্র রিদ কে বলে
_”তোর কিরে শালা হিংসা হয় নাকি?!”
রিদ বলে
_”তুই ভালো করেই জানিস যে আমার মুখের ভাষা কেমন বাচ্চাটার সামনে গালি খাইতে না চাইলে চুপ কর”
রিদ মিহি কে বলে
_”প্রিন্সেস আসো রেডি করিয়ে দেই বাহিরে যাবো!”
রিদ মিহি কে রেডি করিয়ে দিলো! এর পর ওরা ৩জন বের হয়ে গেলো!
রিদ অভ্র কে বললো
_”এখন কই যাবো? কাজ ও তো খুজতে হবে”
অভ্র বললো
_” তোকে চিন্তা করতে হবে না আমি ভেবে রেখেছি! শোন আমার চাচার একটা রেস্টুরেন্ট আছে ওইখানে আপাতত একটু কাজ কর পার্ট টাইম জব! তোর কি কোনো সমস্যা হবে?
রিদ বলে
_”না কোনো সমস্যা নাই আমি রাজি!”
অভ্র রিদ কে নিয়ে রেস্টুরেন্ট গেলো! ওইখানে সব কথাবার্তা বললো সব কিছু ঠিক করে ওরা চলে গেলো!
অভ্র রিদ কে বললো
_”তুই যেই টাইম টা কাজ করবি ওই সময় টুইংকেল কে আমার কাছে রাখিস”
_”কেনো আমি ওকে নিয়েই কাজ করবো!”
_”পাগল হয়ে গেছিস? বাচ্চা টা বোরিং ফীল করবে তুই ওইখানে কাজ করতে যাবি ওই গিয়ে কি করবে!”
রিদ চিন্তা করলো অভ্র ঠিক বলেছে
তাই ও অভ্রর কথাই রাজি হলো! এর পর ওরা ভার্সিটি তে গেলো….
এইদিকে…
নিশি আজকে হুট করেই রিদের বাড়িতে গেলো!
নিশি গিয়ে রিদের বাবা কে সালাম দিলো! রিদের বাবা আরাফ রায়ান চৌধুরী বললো
_”কি চাই মা?”
_”আঙ্কেল আসলে রিদ কোথায়? ও কি ভার্সিটিতে চলে গেছে? ভাবলাম যে আজকে একসাথে ভার্সিটি যাবো তাই আর কি আসলাম!”
_”রিদ তো এই বাড়িতে থাকে না মা! কেনো তুমি জানো না? ও অন্য জায়গায় থাকে!”
_”মানে কি আঙ্কেল এইখানে থাকে না মানে তো কই থাকে?”
রিদের বাবা এক এক করে সব কাহিনী বললো ! সব কিছু শুনার পর নিশির মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো! ওর সব স্বপ্ন এক নিমিষেই শেষ হয়ে গেলো! নিশি বুজতে পারলো সেদিনের ওই বাচ্চা টাই রিদের বউ!
নিশি রিদের বাবা কে বললো
_”এটা কি করে সম্ভব আঙ্কেল ওর সাথে তো আমার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে”
_”জানি তো মা কিন্তু এখন আর কিছু করার নেই! আমার ছেলে আর আমার নেই মা ও হাতের বাহিরে চল গেছে! এখন কোনো উপায় নেই!”
_”আমার কাছে উপায় আছে আঙ্কেল আমি রিদ কে আপনার কাছে ফিরিয়ে দিবো! আর ওকে আমি ই বিয়ে করবো! কিন্তু এর জন্য আপনার সাহায্যের প্রয়োজন”
_”হুম বলো তুমি যা বলবে তাই করবো! আমি চাই না আমার রিদ একটা অজাত এর মেয়ে কে সারাজীবন পেলে পুষে বড় করুক! ওর একটা ক্যারিয়ার আছে! ওই মেয়ে কে নিয়ে ও বাড়িতে থেকে বের হয়ে গেছে এসব মানা যাচ্ছে না আর”
এইদিকে…
ভার্সিটি শেষে মিহি কে নিয়ে ওরা ক্যান্টিনে গেলো!
মিহি বসে বসে আইসক্রিম খাচ্ছিলো! এর মধ্যেই নিশি আসে ওদের কাছে!
রিদের পাশে বসলো! রিদ নিশি কে দেখেই মনে মনে বললো
_”এই বাল টা সব সময় চলে আসে মেজাজ গরম হয়ে যায়! এর সাথে কোন দুঃখে রিলেশনে গিয়েছিলাম!”
রিদ কিছুটা বিরক্ত নিয়ে বললো
_”কি চাই?”
নিশি বললো
_”জান রাগ করছো কেনো? আমি তো শুধু তোমার সাথে দেখা করতে এলাম”
মিহি আইসক্রিম খাওয়া নিয়ে বেস্ত ওর কোনো দিকে হুস নেই!
নিশি মিহির দিকে তাকিয়ে বললো
_”পিচ্ছি কেমন আছো?”
মিহি আইসক্রিম খেতে খেতে বললো
মিহি পর্ব ৫+৬
_”ভালো আছি,”
নিশি মনে মনে বললো
_” আর বেশি দিন ভালো থাকবি না”
ভার্সিটি শেষে রিদ অভ্রর মেসে গেলো! আজকে থেকেই কাজে লাগবে ! মিহি অভ্রর কাছে থাকবে! রিদ কাজ থেকে ফিরলে মিহি কে নিয়ে চলে যাবে!”
