নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮৬
সুরাইয়া জিয়াসমিন
_ তোমার কি মনে হয়,, তোমার ওই অমানুষ ছেলের সাথে আমি নুবার মতো নিষ্পাপ ফুলটাকে বেঁধে দিবো,,কখনোই না,,
আমিনা বেগম ভুরু কুঁচকে রাগি কন্ঠে বললেন
_ তাহলে কালকে রাতে ওই সব কি ছিলো,,আপনি এভাবে ওদের ধোঁকা কেনো দিলেন,,ওরা দুজন দুজনকে ভালোবাসে,,আপনারা কেনো বুঝতে পারছেন না,,,
হারুন মির্জা রেগে স্ত্রীর গালে স্বজোরে একটা চড় বসিয়ে দিলেন,,,আমিনা বেগম স্তব হয়ে গেলেন,, হারুন মির্জা রেগে হাঁসফাঁস করে বললেন
_ তুই কি চাস তোর ছেলে ওই বাচ্চা মেয়েটা,,,যে এখনো বাস্তবতা ধরতে পারেনি তাকে পিষে ফেলুক,,,
_ আরহাম এমন কিছুই করবে না আপনি,,,,
_ চুপ,,আর একটা কথাও আমি শুনতে চাইছি না,,,যদি মুখ ফুটে একটা কথাও বলিস বা তোর ছেলেকে খবর দেওয়ার চেষ্টা করিস তবে আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না,,,
বলেই হারুন মির্জা রুম থেকে গটগট করে বেড় হয়ে গেলেন,,,আমিনা বেগম ফুঁপিয়ে উঠলেন,,, আনন্দ যেনো এক মূহুর্তেই শেষ হয়ে গেলো
সকাল থেকে ফুরফুরে মেজাজটা দুপুর হতেই যেনো চুপসে গেলো,,,নুবা ভুরু কুঁচকে মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো,,
_ উনারা কেন এসেছেন মা,,
হাজেরা গম্ভীর কন্ঠে বললো
_ পরি কে দেখার জন্য,,,
কথাটা শুনে নুবার অস্থির মন শান্ত হলো,,,সে আয়রাকে বুকে জরিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,,সে তো ভেবেছিলো আবার কোন ঝামেলা হয় ,,
হারুন মির্জা সাব্বিরের বাবার সাথে হাত মিলিয়ে বললো
_ এতো তাড়াতাড়ি করে কিছুই তেমন করতে পারিনি,, ছোট্ট করে একটা আয়োজন করেছি,,আশা রাখছি আপনারা দুপুরের লাঞ্চ করার পড়েই বিষয়টা এগিয়ে নি,,,
সাব্বিরের পিতা সালমান আহমেদ মাথা ঝুঁকিয়ে বললেন
_ অবশ্যই,,
হারুন মির্জা একটু অপ্রস্তুত কন্ঠে বললেন
_ আসলে মোবাইলে তো এতো কথা বলা যায় না তবে একটা আবদার ছিলো আপনার কাছে,,,
সালমান আহমেদ হেসে বললেন
_ আমার মতো মানুষের কাছে কি আবার আবদার,,আমি কি পূর্ন করতে পারবো,,,তবু বলুন,,,
হারুন মির্জা চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে বললেন
_ আমি চাচ্ছিলাম আজি কাবিনটা হয়ে যাক,,পড়ে না হয় অনুষ্ঠান করে মেয়ে উঠিয়ে নিয়ে যাবেন,,,
কথাটা শুনে সালমান আহমেদ একটু বিব্রত হয়ে বললেন
_ কিন্তু আপনি তো শুধু engagement এর কথা বলেছিলেন,,আমরা তো সেটার জন্যই এসেছি,,
হারুন মির্জা জোরপূর্বক হেঁসে বললেন
_ হ্যাঁ,,তবে আমার মনে হলো রেজিস্ট্রি করিয়ে রাখলে ভালো হয়,,
সালমান আহমেদ কিছু সময় ভেবে বললেন
_ আসলে আপনি কথাটা ঠিক বলেছেন তবে আজকালকার বাচ্চারা একটু আপডেট এটা তো আপনাকে আর বলতে হবে না,,,তাই আমি চাচ্ছিলাম এখন মেয়েকে আন্টি পড়িয়ে দেখে যাই পড়ে না হয় বিয়ের কথা বার্তা এগোবে,,, engagement টা হোক দুই জন দুইজনকে জানুক,, তাদের ভিতরে একটা ভালো সম্পর্ক তৈরি হোক তার পর না হয়,,,আসলে আজকালর বাচ্চারা হঠাৎ বিয়েটা ওদের উপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না তাই না,,
হারুন মির্জা কথা শুনে মনে মনে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললেন পরপর বললেন
_ আচ্ছা,, সমস্যা নেই আমি তো মুখের কথা বললাম,,
_ আপনি কিছু মনে করবেন না ভাই,,আমি আমার ছেলেকে চিনি,, হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারবে না,,মানিয়ে নিতে সমস্যা হবে,,
হারুন মির্জা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ হ্যাঁ হ্যাঁ,,আমি বিষয়টা বুঝতে পেরেছি,, হঠাৎ চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত তাদের উপর ভারি পড়ে যাবে,,,তবে আপনার কথাই রইলো,,দুই জন দুইজনকে আগে জানুক,,তার পর না হয়,,,,তাহলে বিয়ের পর সম্পর্কটা ভালো থাকবে,,,
বলেই হারুন মির্জা উঠে দাঁড়ালো,,একটু রাগ হলো তার,,আজি বিয়েটা সারতে চেয়েছিলো সে,, কারণ আরহামকে বেশি দিন এই সব কিছু থেকে দূরে রাখা সম্ভব না,,কোনো ভাবেই না,,,তবে এখন বেশি জোর দিতে পারলো না এই বিষয়ে কারন এতে করে তারা ভাববে মেয়ের ভিতরে কোনো খুঁত আছে,,না হলে কোনো ঝামেলা,,,না হলে কেন এতো তাড়াতাড়ি হঠাৎ করেই বিয়ে দিতে চাচ্ছে জোর করে,,,
তাই হারুন মির্জা চুপ রইলেন,, যেহেতু তারা এখন মেয়ের পক্ষ তাই একটু ডেবে থাকতে হবে,,,
নুবার চোখের পাপড়ি গুলো ভিজে এসেছে,,সে তার মায়ের চাহনি দেখে বারবরা কেঁপে উঠছে,,,হাজেরা আয়ারকে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিলো নুবার মাথায় ওরনা টেনে দিয়ে বললো
_ চুপচাপ যা বলছি তাই কর,,
নুবা ফুঁপিয়ে উঠলো,, অভিমানী কন্ঠে বললো
_ এতো বড় ধোঁকা দিলে মা, আমি ওই মানুষ টার সাথেই সুখে থাকবো তুমি কেনো,,,,
বাকি কথা বলার আগেই হাজেরা মেয়ের এক হাত তুলে নিজের মাথায় রেখে বললো
_ আর একটা শব্দ মুখ দিয়ে বেড় করবি না,, তোকে এই মরন ফাঁদে পা দিতে দেখার আগে আমার মৃত্যু যথার্থ,,,, আমার মেয়েকে আমি ভুল রাস্তায় যেতে দিবো না,,,
নুবার ঠোঁট দুটো কেঁপে উঠলো,,,হাজেরা নিজের ওরনা দিয়ে মেয়ের চোখ মুছে বললেন
_ বিয়ে হলে এই সাময়ীক আবেগ ভুলে যাবি,,, এগুলো তেমন কিছুই না,,, মানুষের মানুষকেই ভালো লাগবে,,এটাই স্বাভাবিক,,,তবে দেখবি বিয়ের পর সব মন থেকে সরে যাবে,,, বাচ্চা টাচ্চা হলে এই সব আর মনে থাকবে না বুঝলি,,,
নুবার রাগ হলো,, শরীর জ্বলে উঠলো তবে কন্ঠ কাঁপার দারুন মুখ দিয়ে আর শব্দ বেড় করতে পারলো না,,,
এমন সময় হারুন মির্জা ব্যস্ত পায়ে রুমে প্রবেশ করলেন,,,নুবা ছলছল চোখে হারুন মির্জার পানে তাকালো ,, হারুন মির্জা এক পলক নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ ওকে নিয়ে চলো খাওয়া দাওয়া শেষে তার পর বাকি কাজ,,
নুবার কষ্টে বুকটা ফেটে গেলো,, কান্ত দৃষ্টিতে হারুন মির্জার দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_ তোমার ছেলের সাথে আমার বিয়ে হলে তোমার মান সম্মান থাকবে না চাচা,,এই কথাটা আগে বললেই পারতে এতো নাটক না করে,,,
নুবার ভাঙ্গা কন্ঠ হারুন মির্জার বুকে যেএ লাগলো,,,, হারুন মির্জা কান্না রত নুবার দিকে তাকিয়ে চাঁপা নিঃশ্বাস ফেললো,,,ডান হাত এগিয়ে দিয়ে নুবার মাথয় রাখলো,,নুবা সাথে সাথে সরে গেলো,, হারুন মির্জার বুকটা কেমন খচ করে উঠলো,,,নুবা মাথা নিচু করে নাক টানলো,,,
হারুন মির্জা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে আবারো নুবার মাথায় হাত দিলো,, কান্ত নুবা এবার সরে গেলো না,, হারুন মির্জা কম্পিত কন্ঠে বললো
_ আরহাম যদি ভালো হতো তবে আমি নিজ দায়িত্বে তোর বিয়ে ওর সাথে দিতাম,,ও ভালো না,,, তুই বোঝার চেষ্টা কর,, এগুলো আবেগ,,সব ধুলোয় মিশে যাবে,,সাব্বির অনেক ভালো,,, তুই ভালো থাকবি,,সুখে থাকবি,,, তুই সাব্বিরের মতো কাউকে ডিজার্ভ করিস নাকি আরহামের মতো,,,
নুবা মৃদু ফুঁপিয়ে উঠে বললো
_ মিথ্যা বলছো,,আমার মতো আশ্রয়ীতা তোমার ছেলের বউ হবে,, তোমার মান সম্মান যাবে তা,,,,
হারুন মির্জা নুবাকে ধমকে উঠে বললেন
_ এই সব কিরকম কথা নুবা,, তুই আমার ছোটো মেয়ে,, একদম উল্টা পাল্টা বলবি না,,,আমি তোর ভালো টাই চাইবো,,এখন ভদ্র মেয়ের মতো মা যাবে বলছে তাই কর,,আমরা তোর খারাপ চাই না,,
নুবা কিছু বলার জন্য আর শব্দ পেলো না,,, শুধু এক রাশ রাগ আর অভিমান নিয়ে মায়ের দিকে তাকালো,,,
আর মনে মনে কিছু শব্দ উচ্চারণ করলো নুবা যা কেউ টের পেলো না ,,
হারুন মির্জা হাজেরার দিকে তাকিয়ে বললো
_ আজ engagement হবে,,বিয়ের জন্য এতো চাপাচাপি করার দরকার নেই,,,পড়ে এই বিষয় নিয়ে কথা বলবো,,,আগে ওঁদের ভিতরে ভালো একটা সম্পর্ক তৈরি হোক
হাজেরা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললেন,,তবে সন্তুষ্ট হতে পারলেন না,, আজ বিয়েটা হলেই ভালো হতো,,,
আরহাম হতভম্ব,,, এতো গুলো ফাইল দেখে,, যেগুলো শেষ হয়ে গেছে সেগুলোও ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাকে,, আরহাম শুধু কান্ত তার মনটা খচখচ করছে,,মনে হচ্ছে তার কোথাও একটা ভুল হয়েছে,,,,যেই ভুল সে ধরতে পারছে না ,, কেমন অস্থির লাগতে শুরু করলো আরহামের,,,
দুপুরের লাঞ্চ করতে বসেছে সবাই,,,ইশিতা আর পরি একটু অবাক কারন এই বিষয়ে তারা তেমন কিছুই জানে না,, তবে বুঝতে পারলো কোনো কিছু ভালো ভাবে পেচ লেগেছে,,,
নুবা এক পলক সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মায়ের দিকে তাকিয়ে কম্পিত হাতে সাব্বিরের প্লেটে ভাত তুলে দিলো,, অবশ্য মালা বেগম উরফে সাব্বিরের মা বলেছেন সার্ভ করতে না কারণ এটা কেমন দেখা যায় তবু হারুন মির্জা বলায় কেই তেমন কিছু বলেনি,,
নুবার হাত কাঁপছে,,সে কোনো মতে নিজের কান্না আঁটকে সাব্বিরকে খাবার সার্ভ করছে,,, এদিকে আমিনা বেগমের শরীর জ্বলে যাচ্ছে,,কেনো যে এরা বুঝতে পারছে না এভাবে জোর করে সবকিছু হয় না,,
পরি নিরপেক্ষ,,সে তেমন কিছুই চায় না কারন সে অনুমান করতে পেরেছে আরহাম সুবিধার না,,,পরি তো শুধু নাবিলের ভয়ে এখানে বসে আছে না হলে কবে এখান থেকে চলে যেতো,,,
নুবার হাত কাঁপতে দেখে সাব্বির অনুভব করলো নুবা প্রচন্ড নার্ভাস,,,তবে সে তো জানে না বেচারি নুবা আরসামের ভয়ে কাঁপছে,,সাথে বিচ্ছেদ যন্ত্রণায় তার বুক ফেটে যাচ্ছে,
সাব্বির শ্যামবর্ণের পুরুষ,,,দেখতে সুদর্শন,,, লম্বা মুখে চাপ দাঁড়ি,,চুল গুলো ছোটো তবে হালকা আঁকা বাঁকা,,,ভালোই,,নুবার সাথে মানাবে,,,,
_ ওই খানির মাইয়ারে না পাইলে তোরে কবর দিমুরে জব্বার,,,
নাবিল জেল থেকে এই তো কয়দিন,,,জেল থেকে ছুটেও আগে পরির খোঁজ করেছে সে,, অবশ্যই লোক লাগিয়ে রেখেছিলো তবে তার বাপ সেই লোকদের টাকা দিয়ে সরিয়ে দিয়েছে,,, জব্বার খান চান না যে এই বিষয় নিয়ে নাবিল আর ঝামেলা করুক,,তবে আফসোস ছেলে যে তার এখনো ওই মেয়ের তারনায় ডুবে আছে,,,
জব্বার দুপুরের খাবার শেষ করে স্ত্রীর আঁচলে হাত মুখ মুছে পান গালে নিয়ে চিবাতে চিবাতে নাজমা কে বললেন
_ তোর পোলারে মুখ সামাল দিতে ক,,না হইলে কুপাইয়া মাইরা ফালামু,,,
নাজমা মাথা নিচু করে নিলো,,,আর দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো কি আর বলবে,,
নাবিল খাবার টেবিল থেকে উঠে এক লাথি মেরে চেয়ার সরিয়ে গর্জে উঠে বললো
_ ওই বাই”*নচোদরে আগে আমি খুঁইজা লোই তার পর তোর লোগে হিসাব করমু,,
জব্বার পানের ছিপি গিলে দাঁতে দাঁত চেপে বললেন
_ যা মন চায় তাই কর তুই,, কিন্তু তোর লাইগা যদি আমার ইলেকশনে কোনো রকম সমস্যা হয়,,তোরে আমি মাটিতে ঘাথমু,,,
নাবিল কথা শুনলো না,,,বাড়ি থেকে বেড় হয়ে গেলো,,, সুঠামদেহী নাবিল,,গায়ের রং ঝাঁপসা,,না কালো না ফর্সা না শ্যামলা,,, কেমন হলুদ সাথে বাদামী মিশ্রণ,,,চোখ গুলো বিলাই চক্ষু,,,ঘোলা,,,চুল গুলো বড় তবে আঁকা বাঁকা,,,চোখ গুলো খুবি ভয়ংকর,,,রাগি দৃষ্টিতে তাকালে মানুষ ওখানেই ঝলসে যাবে,, বয়স ৩৪ এর কোঠায়,,,মাইয়া মানুষ মানেই তার কাছে বিপদ তবে পরিকে তার অনেক ভালো লেগেছে,, সৌন্দর্যের কারনে,,বউ বানাতে চেয়েছিলো তাকে,,,,তবে কাহিনিটা উল্টে গেছে,,
নাবিল বাইরে এসে গাড়িতে বসলো পরপর কাউকে কল দিয়ে সুধালো
_ ওই মাগিরে খুঁইজা বাইর কর,,ওরে কবর দিমু আমি,,,
নুবার হাত পা অনাবরতো কাঁপছে,,, সাব্বির আর সে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে,,দুই জনের হাতেই আন্টি,,,তবে আশ্চর্যের ব্যপার নুবা সবার সামনেই শব্দ বিহীন কাঁদছে,,,কেউ কিছু মনে করছে না কারণ এমন টা স্বাভাবিক,,একটা মেয়ের জিবনে এটা হয়েই থাকে,,,
নুবা আন্টি পড়ানোর জন্য হাত দিতে চাইলো না,,হাজেরা এগিয়ে এসে মেয়ের হাত চেপে ধরলেন,,এই দৃশ্য আমিনা বেগম সহ্য করতে পারলেন না চুপচাপ অন্য দিকে ফিরে দাঁড়ালেন,,,পরির চোখে আশা,,একটু আশার আলো যে নুবা রাস্তা থেকে সরে গেলে সে যদি জাগা পায়,,
হাজেরা জোর করে নুবার হাত বাড়িয়ে দিলো,,নুবা প্রচন্ড কাপতে লাগলো,,,ভিতর থেকে ভেঙ্গে আসছে সবকিছু,,, সাব্বির এক পলক নুবার দিকে তাকিয়ে আলতো করে নুবার হাতটা ধরলো,,,পরপর কম্পিত হাতে Ring পড়িয়ে দিলো,,,,
এবার নুবার পালা তবে নুবা পারলো না,,, হাজেরা পাশে দাঁড়িয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_ নুবাইরা,,,
মায়ের শব্দে নুবার হুস ফিরলো,,, কম্পিত হাতে সাব্বিরের আঙ্গুলে আন্টি পড়িয়ে দিলো,,তবে পুরটা না,,, অর্ধেকেরো কম,,, সাব্বির নুবার কাঁপাকাপি দেখে নিজেই আন্টি হাতে পুরে নিলো,,, আন্টি পড়ানো শেষ হতেই সবাই মিষ্টি হেসে আলহামদুলিল্লাহ বলে মিষ্টি মুখ করলো,,,সেই মিষ্টি নুবা আর আমিনার রুহ পর্যন্ত যেতে পারলো না,,
সবাই কথা বার্তা বলতে লাগলো,,, সাব্বির চোখ তুলে নুবার দিকে তাকালো,,,একটু হাসলো সে এই মেয়েটা তার বউ হবে,,,
পরপর সাব্বির সবার সামনেই নুবার নাম্বার চাইলো,,,নুবা চোখ তুলে সাব্বিরের দিকে তাকিয়ে আবার চোখ সরিয়ে নিলো মৃদু কন্ঠে বললো
_ আমি মোবাইল ব্যবহার করি না,,,
সাব্বির নুবার কথায় অসন্তুষ্ট হয়ে বললো
_ এই যুগে এসে মোবাইল ব্যবহার করো না,,
হাজেরা এগিয়ে এসে বললো
_ বাবা তুমি আমার নাম্বার নেও,,, আমার মোবাইল ওকে দিয়ে দিবো,,,
সাব্বির মাথা ঝুকালো,,,পরপর হাজেরা নুবার নাম্বার সাব্বির কে দিলো,,মেয়েটা কত বড় অভদ্র,,,সে নাকি মোবাইল চালায় না মিথ্যা যেনো জিভের আগায় থাকে,,,
পরপর সাব্বিররা আরো কিছু সময় কথা বলে চলে গেলো,,,তারা যেতেই হারুন মির্জা সবার দিকে এক বার তাকিয়ে কঠিন কন্ঠে বললো
_ যতদিন বিয়ে না হচ্ছে ততদিন এই বিষয়টা যাতে আরহামের কানে না যায়,,,যদি কেউ বলে তবে তাকে জেন্ত কবর দিবো আমি,,
কথাটা আমিনা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললেন,, অতঃপর নুবার দিকে তাকিয়ে বললেন
_ বিশেষ করে নুবা তোকে বলছি,,,যা হয়েছে ভুলে যা,,,ছেলেটা অনেক ভালো নিজের ভবিষ্যতর কথা ভাব,,আর আমিনা তুমি ভুলেও তোমার ছেলের আশে পাশে যাবে না বলে দিলাম,,
আরো কিছু কথা বললেন হারুন মির্জা সবাইকে ভালো মতো এই ব্যপারে শাসিয়ে দিলেন,,,
এদিকে এতো টেনশন নুবা নিতে পারলো না,,,ভিতরে ভিতরে আগুন জ্বলছে তার,,, মস্তিষ্ক এতো চাপ পড়ায় নুবা চোখের পানি ফেলে বসা থেকে ঠাস করে সোফায় পড়ে গেলো,,,নুবার হঠাৎ এরকম পড়ে যাওয়া দেখায় সবাই এগিয়ে আসলো,,
নুবার চোখের কার্নিশ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে ,,,নীরবে সিলিং এর দিকে তাকিয়ে আছে,,,কোলের ভিতরে আয়রা,, অবশ্য হাজেরা চাইছিলো আয়রাকে নুবার থেকে দূরে রাখতে তবে বাচ্চাটা ক্ষুধায় ছটফট করছিলো সেই জন্য এতো পাষান হতে পারেনি,,,
জ্ঞান ফিরার পর থেকেই নুবাকে এভাবে কাঁদতে দেখে হাজেরা একটু রেগে বললেন
_ কোন মরা কান্না শুরু করেছিস তুই,,, হ্যাঁ,,কোনো মরা কান্না,, আমাকে একটু বলবি,,,
নুবা নাক টেনে বিরবির করে সুধালো
_আমি আয়রার পাপার সাথে ভালো থাকবো,,,
মেয়ের কথায় হাজেরা বেগম তেতে উঠলেন,, এগিয়ে এসে মেয়ের চোখ চোখ রেখে বললেন
_ এতো বুঝানোর পড়েও বুঝতে পারছিস না তুই,, হ্যাঁ বুঝতে পারছিস না,,,
নুবার বুক ফেটে আসলো মায়ের দিকে তাকিয়ে অস্পষ্ট কন্ঠে বললো
_ এতো নিষ্ঠুর কবে থেকে হলে মা,,
_ যবে থেকে তুই ভুল পথে চলতে শুরু করেছিস,,
_ ভুল পথেই চলতে দিতে,,,
_ সব জেনে শুনে আমার মেয়েকে আমি কেনো ভুল পথে যেতে দিবো,,, জন্ম কি আমি দেইনি,,,নাকি,,না তোর বাপ আমাকে বলে গিয়েছিলো মেয়েকে তার মতো ছেড়ে দিবে হাজেরা,, হ্যাঁ,,তোর বাপতো আগলে রাখতে বলেছিলো,,,এখন সব জেনে পায়ে ঠেলে ওই ছেলের হাতে তুলে দিবো,,তার পর মরার পর তোর বাপের কাছে কি জবাব দিবো,,,সে যদি সুধায় “আমি কেন তোকে সঠিক পথে আনলাম না” তখন,,তখন কি উত্তর দিবো আমি,,,,
নুবা ফুঁপিয়ে উঠলো,,,আয়রাকে বুকের সাথে জরিয়ে ধরে বললো
_ ওই মানুষ টা ওমন না মা তুমি যতটা ভাবো,,
হাজেরা মেয়ের কথায় রেগে উঠে বললেন
_ না না আমি ছাড়া তোর কাছে সবাই ভালো,,দুটো মিষ্টি কথা বলেছে গলে গেছিস,,আর আমি যে গত ১৯/২০ বছর ধরে তোকে পেলে এতো বড় করলাম কই আমার জন্য তো তোর খারাপ লাগে না,,,”মা যেএ মরুক,,,এটাই না,,,আর তুই শুনে রাখ ওই ছেলের নাম একবারো মুখে নিলে বা ওকে কিছু বলার চেষ্টা করলে তুই আমার মরা মুখ দেখবি,,, ভেবে রাখিস”মা আগে,না ওই দুই দিনের ছেলে”
বলেই হাজেরা ছাদ থেকে আনা কাপড় গুলো ভাঁজ করতে লাগলো,, এমন সময় আমিনা বেগম রুমে প্রবেশ করলো,,,,
হাজেরা আমিনা বেগম কে দেখে শান্ত কন্ঠে বললেন
_ বসেন আপা,,
আমিনা বেগম যেএ নুবার মাথার কাছে বসে হাজেরার দিকে তাকালো,,হাজেরা কাজ করতে করতে বললেন
_ কিছু বলবেন,,,
আমিনা বেগম শুকনো ঢোক গিলে সুধালেন
_ আরহাম নুবাকে অনেক ভালোবাসে হা,,,,,
হাজেরা আমিনা বেগমের কথা শেষ হওয়ার আগেই বললেন
_ আরশি কে আপনি আপনার ছেলের মতো কোনো পুরুষের হাতে তুলে দিতেন নাকি দুটো থাপ্পর মেরে সোজা রাস্তায় নিয়ে আসতেন,,,,
আমিনা বেগমের মুখ চুপসে গেলো,,আসলেই তো,, এমন ছেলের হাতে সে কেন তার মেয়েকে তুলে দিতে যাবে,,হাজেরা হাজেরার জায়গায় ঠিক আছে তবে আমিনার বুক পুড়ছে,,যতোই হোক ছেলের মা তো সে,,
এই সব কিছুর ভিতরে আমিনা বেড় রেজিস্ট্রি marriage এর কথা ভুলেই গেলেন,,,পরপর মৃদু কন্ঠে বললেন
_ তুমি তোমার জায়গায় ঠিক আছো হাজেরা,,আমিও তোমার জায়গায় হলে এমনি করতাম,,তবু,,,,
হাজেরা একটু হেসে আমিনা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললেন
_ কাল রাতে আমার মেয়েটার শাড়িতে আগুন ধরিয়েছে,,, আল্লাহ না করুক যদি আজ আমার মেয়েটা সেই আগুনে ঝলসে যেতো,,,এর আগেও এমন অনেক কাহিনি করেছে আপনার ছেলে,,,সে যদি ভালো হতো তবে আমার কোনো আপত্তি ছিলো না তবে জেনে শুনে অর্ধ পাগলের হাতে আমার মেয়েকে আমি দিবো না,, যেহেতু আন্টি পড়িয়ে রেখে গেছে তবে আশা রাখছি এই বিষয় নিয়ে আর কথা বাড়াবেন না,,, হয়তোবা ভাবতে পারেন আপনাদে্যটা খেএ,,আপনাদেরটা পড়ে এখন মেয়েকে নিয়ে অহংকার করছি,,তবে না,, আমার জায়গায় এসে বসে দেখুন,,,আজ জেনে শুনে ওকে আগুন ঠেলে দিলে ওর বাপের কাছে আমি কি জবাব দিবো,,এখন কাঁদছে কাদুক,,,বিয়ের পর সব ঠিক হয়ে যাবে,,,
মায়ের কথায় অসহায় নুবা আরো ফুঁপিয়ে উঠলো,,আমিনা আর কিছু বলতে পারলেন না,,কি আর বলবে হাজেরা একটাও ভুল কথা বলেনি,
সন্ধা পেরিয়ে রাত হলো,,পুরটা সময় নুবা বিছানার সাথে লেগে পড়ে রইলো আর ভাবলো তার সাথে এমন না হলেও পারতো,,
পাশে থাকা মোবাইল টা বেজে উঠে বারবার,,নুবা বিরক্ত হয়,,,তবু মোবাইল টা হাতে তুলে নেয়,,,একটা আননোন নাম্বার আর একটা তৌসিফের মেসেজ,,,
নুবা আননোন নাম্বার টা ignore করে তৌসিফের মেসেজ সিন করে,,যেখানে লিখা ছিলো
” নুবা”
“কোথায় তুমি,,, at list মেসেজ সিন তো করো”
“কেমন আছো তুমি”
“বিয়ের দিন দেখা হলো না,,, তুমি আমার অনেক খারাপ একটা বন্ধু,, খোঁজ খবর নেও না”
আরো অনেক মেসেজ+ কল,,নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,, নিজের প্যরায় বাঁচে না আবার অন্য পেরা,,তাই সুন্দর করে একটা মেসেজের রিপ্লাই দিলো
“প্রথমেই তোমাকে sorry বলছি তৌসিফ ভাই,,এতো গুলো মেসেজ আর কল সিন না করার জন্য,,এতো দেরিতে রিপ্লাই দেওয়ার জন্য,,আসলে বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে,, আমার husband এগুলো পছন্দ করবে না,,আর চাইবেও না আমার কোনো ছেলে বন্ধু থাকুক,,,তাই রিপ্লাই দেই নি,,,আশা রাখছি আর মেসেজ বা কল করবেন না”
মেসেজ টুকু নুবা সেন্ড করে দিলো,, husband হিসাবে এখানে আরহামকে বুঝালো সে,,,
এদিকে মেসেজ যাওয়ার সাথে সাথে সিন হলো,,, তৌসিফ মেসেজ টা পড়ে হতভম্ব হয়ে গেলো,,বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে,,সে যেনো মানতে পারলো না,,সাথে সাথে মেসেজের রিপ্লাই দিয়ে বললো
“বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে মানে”
নুবা মেসেজ দেখলো,, দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো
“হ্যাঁ”
তৌসিফের মনটা টুস করে ভেঙ্গে গেলো,,,এই মাত্র বেচারার মনে একটু একটু অনুভূতি তৈরি হয়েছিলো তবে কথাটা শুনে তৌসিফ নিজের কপাল চাপড়ে নিজেই হাসতে লালগো, পরপর কাঁদো কাঁদো কন্ঠে নিজেকে নিজে সুধালো
_ না মানে আমি যেটার দিকে হাত বাড়াই সেটারি কেন বিয়ে হয়ে যায়,, আমার নসিব খারাপ নাকি কোনো দিন প্রেম ভালোবাসা কপালে নাই
তৌসিফের নিজের উপর হাসি পেলো পরপর মেসেজের রিপ্লাই দিয়ে বললো
” আচ্ছা ঠিক আছে বনু,,,বিয়ের দাওয়াত দিও 🥹”
নুবা মেসেজের রিপ্লাই দিয়ে বললো
” অবশ্যই”
অতঃপর আর কথা হলো না,,,না নুবা রিপ্লাই দিলো না বেচারা তৌসিফ, প্রেম শুরু হতে না হতেই বেচারার মন ভেঙ্গে গেলো,,,
এদিকে নুবা আননোন নাম্বারের দিকে এক পলক তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে নিলো ,, পরপরই নিজের বাম হাতের তালু মুঠো করে ভাবলো,,
_হাতের তালুতে লেখা এক মানুষের নাম, অথচ সেই হাতের অনামিকা আঙ্গুলে শোভা পাচ্ছে অন্য কারও নামের আংটি,, ভাগ্য বোধহয় এর চেয়ে নিষ্ঠুর কোনো খেলা জানত না,, হৃদয় একজনের, আর জীবনের অধিকার অন্যজনের হাতে তুলে দেওয়ার মতো নির্মম পরিহাস আর কী-ই বা হতে পারে!,,,,
রাত ৯ টার দিকে আরহাম কান্ত হয়ে বাড়ি ফিরলো,, বাড়ি ফিরেই আগে আরহাম ফুরফুরে মনে নুবাদের রুমে প্রবেশ করলো,,,তখন হাজেরা রান্না ঘড়ে তবে খেলায় করলো আরহাম এসেছে তাই তাড়াতাড়ি হাতের কাজ সেরে এগিয়ে আসলো
আরহাম রুমে প্রবেশ করেই দেখলো তার নুবু শুয়ে আছে,,,তবে কোলের ভিতরে আয়রা,,,সেও ঘুমাচ্ছে,,, আরহাম মৃদু হাসলো এগিয়ে এসে ঘুমন্ত মা মেয়েকে চুমু খেলো,,, সাথে সাথে নুবা চোখ খুলে তাকালো,,আরহামের শরীরের ঘ্রনা আর হাঁটার শব্দ তার মস্তিষ্কে পৌঁছাতে বেশি সময় লাগলো না,,,,
নুবাকে তাকাতে দেখে আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_ এতো ক্লান্ত লাগছে যে,,, মনে হচ্ছে সারাদিন আমি না আপনি কাজ করেছেন,,,
আরহাম কথা বলতে বলতে কোট খুলে হাতে নিলো,,,নুবা উঠে বসলো,,আশে পাশে তাকালো কেউ আছে কিনা,,,না নেই,,,আরহামের চেহারা দেখে নুবা সব ভুলে গেলো,,,দুই হাত বাড়িয়ে দিলো তার দিকে,,,
হঠাৎ নুবার এরকম ইশারায় আরহাম সন্তুষ্ট হলো,, এগিয়ে গেলো সে,,নুবা দুই হাটুর সাহায্যে উঠে আরহামকে শক্ত করে জরিয়ে ধরলো,,, সারাদিনের ক্লান্তি যেনো এক মূহুর্তেই শেষ হয়ে গেলো,,, আরহাম নুবার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,,
_ আমার আদুরে বিড়ালটার কি হয়েছে,, এরকম দেখাচ্ছে কেন,,,
নুবা কিছু বলতে প্রস্তুত হলো তবে অপ্রত্যাশিত ভাবে হাজেরার পায়ের শব্দ শোনা গেলো,,নুবা আরহামের থেকে দূরে সরে যেতেই হাজেরা রুমে প্রবেশ করলো,,, হঠাৎ হাজেরা রুমে প্রবেশ করতেই আরহাম বিরক্ত হলো,,এই মহিলা আসার সময় পায় না,,,
আরহাম হাজেরার দিকে ফিরে তাকিয়ে বললো
_ আপনি বেসময়ে কেন আসেন বলেন তো,,,,
হঠাৎ আরহামের এরকম কথায় হাজেরা সহ নুবা একটু বিব্রত বোধ করলো,,নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে আরহামের দিকে তাকালো,,এই লোকটার এই ব্যবহারের কারনেই আজ এই অবস্থা,,
আরামের কথায় হাজেরা কাঠ কাঠ কন্ঠে বললো
_ তোমাকে বিয়ের আগ পর্যন্ত নুবার থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছিলো,,,
আরহাম বিরক্তে মুখ দিয়ে চ উচ্চারণ করলো তবে কিছু বললো না,,এক পলক নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ মেয়েকে নিয়ে যাচ্ছি,,, তুমি ঘুমাও,, বিরক্ত করলাম,,,
বলেই আয়রা নিয়ে সে চলে গেলো,,,নুবার কলিজা ধুকধুক করে উঠলো,,হাজেরা মেয়ের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ ওই ছেলে পর পুরুষ তোর জন্য,,,আর ভুলে যাস না সাব্বির কিন্তু তোর হবু স্বামী,,আশা রাখছি অন্ততপক্ষে আমার কথা ভাববি,,
বলেই হাজেরা রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,,,নুবা নীরবে বসে রইলো,,, মস্তিষ্ক যেনো স্তব হয়ে গেছে কি করবে বোঝার উপায় নেই,,,
রাতের ডিনার কোনো মতে শেষ হলো,, কিন্তু নুবার গলা দিয়ে খাবার নামতে চাইলো না,,,নুবা শুধু হাঁসফাঁস করে উঠলো কখন আরহামকে একটু একা পাবে,,,
খাবার শেষে যে যার রুমে চলে গেলো,,, আরহাম খেয়াল করলো নুবা কেমন জেনো মন মরা,,এমনিদিন তো হাসি খুশি থাকে তবে আজ কেমন অগুছালো সবকিছু,,,
লিভিং রুমের এক কোনায় দাঁড়িয়ে নুবা ছটফট করছে,,সামনে আরহাম দাঁড়ানো,,নুবা শব্দ বিহীন কান্না করছে আর বারবার আরহামকে নিজের হাত দেখাচ্ছে,,,নুবা মুখ ফুটে কিছু বলতে পারছে না,,,ওই যে,” তুই আরহামকে কিছু বললে আমার মরা মুখ দেখবি” সেই কারনে,,, অসহায় নুবা সবাইকে চাইছে,,না তার মাকে ছাড়তে পারবে,,না আরহামকে,,,না আয়ারকে,,তবে কি করবে সে,,
নুবাকে এরকম বোবার মতো ছটফট করতে থেকে আরহাম হতভম্ব হয়ে গেলো,,,নুবার সামনে এনে বারবার নাড়াতে থাকা হাতকে আঁকড়ে ধরলো,,,টের পেলো নুবা কেমন কাঁপছে,,,
আরহাম বিচলিত হলো,,, অবাক কন্ঠে বললো
_ কি হয়েছে এরকম করছো কেনো,,,
নুবা নাক টেনে ফুঁপিয়ে উঠলো,, আরহাম বুঝতে পারলো না কি হয়েছে,,,এখন তো সব ঠিক হয়ে যাওয়ার কথা,,,নুবাকে এরকম হাঁসফাঁস করতে দেখে আরহাম দুই হাত দিয়ে জরিয়ে ধরলো তাকে,,,মাথায় থুতনি ঠেকিয়ে চুমু খেএ বললো
_ what happened,,কি হয়েছে তোর,,, এমন করছিস কেন,, কোনো অসুবিধা হলে বল আমাকে,,,নুবা,,,
নুবা হু হু করে কেঁদে উঠে আরহামের শার্ট আঁকড়ে ধরলো,,তার চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করলো,,,
_ আপনি কি আমার হাতের আন্টি টা দেখতে পারছেন না,,,আপনি কি জানেন না আমি কখনো হাতে Ring পরি না,, এতো বড় জিনিস টা আপনার চোখে পড়ছে না,,, আরহাম,,একটু দেখুন,,,আমি যে মুখ ফুটে বলতে পারছি না,,,এই নুবা যে স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছে,,তার মায়ের কথা অমান্য করেছে,,,
আরহামের সান্নিধ্যে নুবা একটু শান্ত হলো,,তবে আরহাম অশান্ত হয়ে রইলো,,, বিচলিত কন্ঠে বললো
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৮৫
_ কি হয়েছে ,,
নুবা আরহামকে আরো শক্ত করে আঁকড়ে ধরলো,,,যেনো তার বক্ষ স্থলে ভেদ করে ভিতরে ডুকে যাবে,,,
নুবার এরকম আচরণ দেখে আরহাম নিজেই অগুছালো আচরণ করতে শুরু করলো,নুবাকে নিজের থেকে আলাদা করে বললো
