Home নেশাক্ত প্রহর (মিহি সিজন ২) নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৪৩

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৪৩

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৪৩
রূপন্তী সরকার

সকাল বেলা…
আজকে ইয়াশফার বিয়ে। সকাল থেকেই চারদিকে এক এলাহী কাণ্ড আর তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। গেটের ফুল আর চেনা সানাইয়ের সুরে গোটা বাড়ি বিয়ের আমেজে একদম মৌ মৌ করছে। মেহমান, আত্মীয়স্বজন আর একঝাঁক বাচ্চার চিল্লাচিল্লিতে নিঝুম রায়ান কুঞ্জ আজকে পুরোপুরি গমগম করছে।
রিদ ওর ব্যস্ততার মাঝেও একটু পর পর সব কাজ ফেলে কেমন যেন চিন্তিত মুখে ইয়ান আর ইয়াশফার ঘরের সামনে এসে দাঁড়াচ্ছে। আসলে গতকাল রাতে ইউভানের ওই আচমকা পজেসিভ রূপ আর ফোনে দেওয়া হুমকির কথাগুলো ইয়াশফা রিদকে এক এক করে সব জানিয়ে দিয়েছিল। রিদ তখন ইয়াশফার মাথায় হাত রেখে ভরসা দিয়ে বলেছিল, “শোনো মা, একদম চিন্তা কোরো না। যা হবে আজকে ওখানেই দেখা যাবে, তুমি মন শক্ত রাখো।”

ইয়াশফা রিদের কথার পিঠে আর কোনো কথা বাড়ায়নি। ওদিকে পুচকে ইয়ানও আজকে চারদিকের এত মানুষের ভিড় আর আলো দেখে বড্ড খুশি। ও বিছানার ওপর নিজের ছোট হাত-পা নেড়ে অনবরত আগু পুগু করে আপন মনেই খেলায় মেতে আছে। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা যতই সামনের দিকে এগোচ্ছে, ইয়াশফার মনের ভেতরের ভয়টা ততই জাঁকিয়ে বসতে শুরু করেছে। ওর বুকের ভেতরটা বারবার কেঁপে উঠছে আর ও ভাবছে আজকে কি তবে সত্যি সত্যিই সব শেষ হয়ে যাবে? ইউভান জবরদস্তি করে ওকে নিজের করে নেবে?
এরই মধ্যে ঘরের দরজা ঠেলে রুহি আর জ্যোতি বার বার ভেতরে এসে ইয়াশফাকে সাজানোর জন্য তাড়া দিতে লাগল। পার্লারের মেয়েরা বাইরে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু ইয়াশফার এক ফোঁটাও সাজার ইচ্ছে হচ্ছিল না। ও উদাসীন মুখে বিছানার কোণায় বসে রইল।
জ্যোতি ওর সামনে এসে খাবারের প্লেটটা এগিয়ে দিয়ে বলল, “একটু খেয়ে নে তো ভাই। একবার বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেলে কিন্তু আর খেতে পারবি না,”

রুহিও জ্যোতির কথায় সায় দিয়ে ইয়াশফার পাশে এসে বসল। ও বড্ড মায়াবী গলায় বলল, “হু ইয়াশফা, জ্যোতি ঠিকই বলেছে। জোর করে হলেও একটু খেয়ে নাও। পরে শরীর খারাপ করবে”
ঠিক রুহির হাতের ফোনটা হঠাৎ শব্দে বেজে উঠল। স্ক্রিনে অদ্রীতের নাম ভেসে উঠতেই রুহি একটু গলা ঝেড়ে বলল, “তোমরা কথা বলো, কল এসেছে। আমি বাইরে গিয়ে কথা বলে আসছি।”
কথাটা বলেই রুহি ঝটপট ঘর ছেড়ে করিডোরের দিকে চলে গেল।
পার্লারের মেয়েরা বেশ অনেকক্ষণ সময় নিয়ে, ইয়াশফাকে একদম পুতুলের মতো করে সাজাল। লাল টুকটুকে বেনারসি, জমকালো গহনা আর আলতো মেকআপে ওকে দেখতে সত্যিই একটা জলজ্যান্ত পুতুলের মতো লাগছিল।এত ঝড়-ঝাপটা যে ওর ওপর দিয়ে গেছে, ওর এই রূপের দিকে তাকালে তা বোঝার কোনো উপায় নেই। ইয়ান তখন জ্যোতির কোলে মাথা রেখে শান্তিতে ঘুমাচ্ছিল, চারপাশের এত চিল্লাচিল্লিও ওর ঘুম ভাঙাতে পারেনি।

ঠিক তখনই মেহমানদের ভিড় ঠেলে মিহি আর তিথি একসাথে ইয়াশফার ঘরে এসে ঢুকল। ইয়াশফাকে এই রাজকীয় সাজে দেখে মিহির চোখ দুটো ছলছল করে উঠল। ও এগিয়ে এসে ইয়াশফার কপালে একটা চুমু দিল। তারপর ওর গাল দুটো আলতো ছুঁয়ে বলল, “আমার এই মিষ্টি মেয়ের ওপর যেন কারো নজর না লাগে! খুব সুন্দর লাগছে তোমাকে, একদম পরীর মতো লাগছে।”
ইয়াশফা মিহির আদর দেখে নিজের ভেতরের সব ভয় ভুলে একটু মলিন হাসল। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তিথিও আর থাকতে পারল না। ও এগিয়ে এসে বলল, “মিহি একদম ঠিক বলেছে, সত্যিই খুবই সুন্দর লাগছে মা তোকে। আজ যেন তোকে দেখে আমার চোখই সরছে না!”
কথাটা বলেই তিথি যেই ইয়াশফার গালে একটা আদর করে চুমু দিতে যাবে, অমনি মিহি এক হাত দিয়ে তিথিকে হালকা টেনে সরিয়ে দিয়ে গম্ভীর গলায় বলে উঠল, “এ্যাই না! একদম না! ও শুধু আমার বউমা, আমার ছেলের বউ। তুমি ওকে চুমু দিও না, ওকে শুধু আমিই চুমু দেবো!”

মিহির এই বাচ্চাদের মতো হিংসা দেখে ইয়াশফা নিজের মুখে হাত দিয়ে শব্দ করে হেসে ফেলল। ওর সাথে সাথে তিথিও মিহির এই পাগলামি দেখে খিলখিল করে হেসে উঠল। ঘরের ভেতরের এতক্ষণের থমথমে আর গুমোট পরিবেশটা এক সেকেন্ডে এই তিন নারীর হাসিতে হালকা আর মিষ্টি হয়ে গেল।
কিছুক্ষণ পর নিচ থেকে বিয়ের লগ্ন আর আকদের সময় ঘনিয়ে আসার তাড়া এলো। রুহি আর বাড়ির আরও কয়েকজন মেহমান মেয়ে মিলে ইয়াশফাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে আলতো করে ধরে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামাতে লাগল। ইয়াশফা যখন বেনারসির আঁচল লুটিয়ে ধীরপায়ে নিচে নামছিল, তখন ড্রয়িংরুমের সব মানুষের নজর ওর দিকে গিয়ে আটকে গেল।
নিচে ড্রয়িংরুমে ততক্ষণে ওহিদুল সাহেবের পুরো পরিবারসহ বর ড. রোহান ইউভানও চলে এসেছে। ইউভান বরের রাজকীয় শেরওয়ানি আর পাগড়ি পরে সোফায় বসে ছিল। ইয়াশফাকে সিঁড়ি দিয়ে নামতে দেখে ও নিজের চশমাটা সোজা করে এক দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে রইল। ইউভানের বাড়ির বাকি সব মেহমান আর আত্মীয়স্বজনরা তখন পুরো ড্রয়িংরুম বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা করছিল। ইয়াশফা নিচে নেমে এসে সোফায় বসার সময় আড়চোখে একবার মেইন গেটের দিকে তাকাল।

ঠিক তখনই রায়ান কুঞ্জের মেইন গেটের বাইরে টায়ার ঘষার একটা বিকট শব্দ হলো। ঝড়ের গতিতে একটা কুচকুচে কালো বাইক এসে লনের মাঝখানে ব্রেক কষল। এক সেকেন্ডের মধ্যে পুরো বাড়ির চারদিকের আলো-বাতাস যেন থমথমে হয়ে গেল। বাইকের পেছন পেছন কয়েকটা কালো কাচের গাড়ি এসে থামল এবং চোখের পলকে বেশ কয়েকজন বডিগার্ড নেমে পুরো বাড়িটাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলল। ওনাদের প্রত্যেকের পরনে কালো স্যুট এবং বডিল্যাঙ্গুয়েজ এক আস্ত মাফিয়া গ্যাংয়ের মতো।
করিডোরের খোলা দরজা দিয়ে ইয়াশফা সোজা বাইরের দিকে তাকিয়ে দেখল বাইক থেকে জ্যাকেট পরা এক দীর্ঘ অবয়ব হেলমেটটা খুলে ধীরপায়ে নামছে। লোকটা আর কেউ নয়, স্বয়ং ঋষভ রায়ান চৌধুরী! তিনটে বছর পর আজ প্রথমবার ঋষভকে নিজের চোখের সামনে এভাবে জ্যান্ত দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল ও। ঋষভকে দেখামাত্রই ইয়াশফার বুকের ভেতরটা এক মুহূর্তে ওলটপালট হয়ে গেল, হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে এলো ওর।

ঋষভ কোনো দিকে না তাকিয়ে,সোজা ড্রয়িংরুমের ভেতরে ঢুকে পড়ল। ওর এন্ট্রি দেখে ভেতরে থাকা মেহমান থেকে শুরু করে রিদ, মিহি সবাই নিজের জায়গা থেকে সোজা উঠে দাঁড়াল। পুরো ঘরের ভেতর এমন এক হাড়হিম করা নীরবতা নেমে এলো যে কারো মুখ দিয়ে একটা টু শব্দ পর্যন্ত বের হচ্ছিল না।
ঋষভ সটান এগিয়ে এলো সোফায় বসে থাকা ইয়াশফার একদম কাছে। ও এক ঝটকায় ইয়াশফার হাতটা নিজের শক্ত মুঠোয় খামচে ধরল। ঋষভের ওই দানবীয় স্পর্শ পেয়ে ইয়াশফা একদম স্তব্ধ হয়ে পাথরের মতো জমে গেল।

ঠিক তখনই পাশে বসা ইউভান এক ঝটকায় উঠে দাঁড়াল। ও ইয়াশফার একদম পাশে এসে নিজের বুক টানটান করে ঋষভের চোখের দিকে তাকিয়ে কড়া গলায় চেঁচিয়ে বলল, “ছাড়! ছাড় আমার বউয়ের হাত!”
ওই বউয়ের হাত শব্দটা ঋষভের কান পর্যন্ত পৌঁছানো মাত্রই ওর মগজে যেনো আগুন জ্বলে গেলো। ওর চোখ দুটো রাগে এক সেকেন্ডে লাল হয়ে উঠল। ও আর কোনো কথা বলল না, নিজের ডান পা উঁচিয়ে সজোরে এক লাথি বসিয়ে দিল সোজা ইউভানের মেইন পয়েন্ট বরাবর! লাথিটা এতটাই ভয়ানক ছিল যে ইউভান ওই তীব্র ব্যথায় এক সেকেন্ডও তাল সামলাতে পারল না, ও নিজের দুই হাত দিয়ে জায়গাটা চেপে ধরে কুঁকড়ে মেঝের ওপর ধপাস করে বসে পড়ল।

ওনার মুখ দিয়ে শুধু একটা যন্ত্রণার গোঙানি বের হলো।ইউভানের এই দশা দেখে ইয়াশফার মাথায় আগুন জ্বলে উঠল। ও নিজের হাতটা ঋষভের মুঠো থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে কড়া গলায় বলল, “ছাড়ুন আমার হাত! আজকে আমার বিয়ে, আপনার কোনো অধিকার নেই আমার…”
ওকে নিজের পুরো কথা শেষ করার বিন্দুমাত্র সুযোগ দিল না ঋষভ। ও মাঝপথেই নিজের এক হাত দিয়ে ইয়াশফার মুখটা শক্ত করে চেপে ধরল। ওর চোখ দুটো তখন রাগে ব জ্বলজ্বল করছে। ও ইয়াশফার কানের কাছে নিজের গরম নিশ্বাস ফেলে বরফশীতল কণ্ঠে হিসহিসিয়ে হুংকার দিয়ে বলল, “আর একটা ফালতু কথা যদি তোর এই মুখ থেকে বের হয় তবে আই সোয়ার তোর গলার রগ আমি ছিঁড়ে ফেলবোছ
কথাটা শেষ করতে না করতেই ঋষভ আর কোনো কথা শুনল না।

ও নিজের দুই হাত বাড়িয়ে পাঁজাকোলা করে কোলে তুলে নিল লাল বেনারসি পরা ইয়াশফাকে। পুরো মেহমান আর রায়ান কুঞ্জের সবাইকে এক জ্যান্ত লাশের মতো দাঁড় করিয়ে রেখে ও ইয়াশফাকে কোলে নিয়ে হনহন করে মেইন গেটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু গেটের একদম সামনে গিয়ে ও হঠাৎ থমকে দাঁড়াল। ওর ঠোঁটের কোণে এক ক্রূর আর পৈশাচিক হাসি ফুটে উঠল। ও ওখান থেকেই আবার ঘুরে ড্রয়িংরুমের সেই রাজকীয় স্টেজের দিকে ফিরে তাকাল। কোলে থাকা ইয়াশফার লাল টুকটুকে রাগী মুখটার দিকে চেয়ে ও গম্ভীর আর ধারালো গলায় বলে উঠল, “বিয়ের স্টেজ? ওয়াও! ভেরি নাইস! বাট সো সরি সুইটহার্ট… যেই বিয়ের স্টেজে তুই আমার না হয়ে অন্য কারো হওয়ার জন্য এত সুন্দর প্রস্তুতি নিচ্ছিস, সেই বিয়ের স্টেজ তো আমি রাখবো না।”

কথাটা শেষ করার সাথে সাথেই ঋষভ ইয়াশফাকে নিজের বুকের সাথে শক্ত করে চেপে ধরে ওখান থেকেই ওর গার্ডদের দিকে তাকিয়ে কড়া গলায় হুকুম দিল, “বার্ন ইট ডাউন!”
বসের কড়া আদেশ পাওয়া মাত্রই বডিগার্ডদের দুজন পকেট থেকে বিশেষ লাইটার বের করে বিয়ের মেইন স্টেজে পর্দা আর ফুলগুলোর ওপর আগুন জ্বালিয়ে দিল। দাউদাউ করে আগুন জ্বলতেই পুরো ড্রয়িংরুম জুড়ে ধোঁয়া আর আলোয় এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির তৈরি হলো। ঋষভ চারপাশের ভয় পাওয়া মেহমানদের দিকে তাকিয়ে বড্ড রাশভারী গলায় হাত তালি দিয়ে ঘোষণা করল, “লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান! কোনো বিয়ে হবে না এখানে। চলে যান আপনারা, শো ইজ ওভার!”
ঋশের এই হাড়হিম করা রূপ আর চারদিকের আগুন দেখে আমন্ত্রিত মেহমানদের মধ্যে এক মস্ত বড় হুড়োহুড়ি আর ছোটাছুটি লেগে গেল। সবাই যে যেদিকে পারল নিজের জান বাঁচাতে দৌড়াতে লাগল। ওদিকে সোফার পাশে ইউভান তখনো প্রচণ্ড যন্ত্রণায় কুঁকড়ে মেঝের ওপর বসে ছটফট করছিল। মিহি আর এক সেকেন্ডও নিচে থাকা নিরাপদ মনে করল না। ও জলদি গিয়ে জ্যোতি আর রুহির পাশ থেকে ঘুমন্ত ইয়ানকে এক হ্যাঁচকা টানে নিজের বুকের ভেতর আগলে নিল, মিহি কিছু বলতে চেয়েও বললো না। এতো বছর পর ছেলেকে দেখছে কিন্তু এখন কিছু বললে গন্ডগোল হয়ে যাবে।

পুরো ড্রয়িংরুমে যখন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তখন রিদ নিজের জায়গায় একদম বাঘের মতো শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। ওনর চোখে ঋষভকে দেখে রাগ নয়, বরং নিজের চাল সফল হওয়ার জেদ কাজ করছিল। রিদ নিজের ঘরের সিকিউরিটি হেড রায়ান আর কয়েকজন বিশ্বস্ত গার্ডকে ইশারা করে কড়া গলায় বলল, “ফায়ার এক্সটিংগুইশারগুলো অন করো! জলদি এই আগুন নেভাও!”
আগুনটা কেবল স্টেজ কাপড়ে লেগেছিল, খুব একটা বেশি ছড়াতে পারেনি। রিদের গার্ডরা জলদি পানি আর ফায়ার সিলিন্ডার দিয়ে মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে ড্রয়িংরুমের আগুন এক্কেবারে নিয়ন্ত্রণে এনে নিভিয়ে ফেলল। চারদিকের ধোঁয়া একটু পরিষ্কার হতেই রিদ ধীরপায়ে এগিয়ে গেল ঋষভের দিকে। ও সরাসরি ঋষভের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ওরর চোখ দুটো বড় বড় করে কড়া গলায় বলল, “হয়েছে তোমার মাফিয়াগিরি দেখানো? এবার আমার মেয়েকে নিচে নামাও!”

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৪২

রিদ আর কোনো কথার সুযোগ না দিয়ে নিজের দুই হাত বাড়িয়ে ঋষভের কোল থেকে একপ্রকার জোর করেই ইয়াশফাকে নিজের জিম্মায় কেড়ে নিল। লাল বেনারসি পরা ইয়াশফার পুরো শরীর তখন রাগে কাঁপছে। রিদ ওরে সাবধানে ধরে এনে ড্রয়িংরুমের মাঝখানের সোফার ওপর ধীরপায়ে বসিয়ে দিল। বাবা-ছেলের মাঝখানে এবার এক অলিখিত আর হাড়হিম করা যুদ্ধের প্রহর শুরু হলো।

নেশাক্ত প্রহর পর্ব ৪৪