এক মুঠো চাঁদের আলো পর্ব ৩৩
নুসরাত ফারিয়া
কেটেছে মাসের পর মাস! পাল্টেছে সবকিছুই। তবুও কাছের মানুষদের ভুলতে পারেনি কেউ-ই৷ অনাকাঙ্ক্ষিত এক্সিডেন্টে রহিত, মেঘলার মৃ’ত্যু ও আলোর কোমায় চলে যাওয়ার প্রভাব ভালোই পড়েছে দুই পরিবারে। মেঘলার বাবা মেয়ের মৃ’ত্যু সইতে না পেরে তিনিও ইন্তেকাল করেছেন বহু আগেই। মাহিন কোনোমতে নিজের মাকে নিয়ে অন্য শহরে গিয়ে থাকছে। নয়তো স্বামী, মেয়ের স্মৃতিতে তিনিও শেষ হয়ে যাবেন। ওইদিনের এক্সিডেন্টের পর আধার পুলিশের সাহায্য নিয়ে মাতাল ট্রাকচালক-কে ধরে জেলে ভরেছে। সাথে তিনজন মানুষের জীবন নষ্ট করার জন্য কঠিন শাস্তির ব্যবস্থাও করেছে। এদের মতো কিছু কিছু লোক নেশাগ্রস্ত হয়ে যানবাহন চালিয়ে, অন্যকে মৃ’ত্যুর দুয়ারে পাঠিয়ে দেয়। এমন মানুষদেরকে তো ওই যানবাহন দিয়েই চাপা দেওয়া উচিত। শুধু শুধু নিজেদের গাফিলতির কারনে অন্যের প্রাণ কেঁড়ে নেয়!
মাহবুব রহমান ও নীলিমা রহমান বুকে পাথর চেপে রেখে নিজেদের ভাগ্যকে মেনে নিয়েছেন। তবে ছেলেকে হারিয়ে উনারাও ভালো নেই। ছায়া, মায়া চেষ্টা করছে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার! কিন্তু পারছে না৷ খারাপ মূহুর্তগুলো বারবার মনে এসে হানা দিয়ে, ক্ষতস্থান তাজা করে দেয়। তারা কতদিন যে স্কুল-কলেজে যায়নি, সেটার হিসাব নেই। এইতো গত তিন মাস আগে থেকে যেতে শুরু করেছে। মতিউর রহমান ও আলেয়া রহমান কোনোমতে নিজেদেরকে শক্ত করে রেখেছেন। নয়তো পরিবারকে সামলাবে কিভাবে? সবাই যদি এইভাবে ভেঙে পড়ে, তাহলে কি করে চলবে?
হাসপাতালে সবাই মিলে সপ্তাহে একবার করে আলোকে দেখতে যায়। সময়ের সাথে সাথে মেয়েটার শরীরের সব ক্ষতস্থান মিশে গেলেও কখনো চোখ মেলে তাকায়নি। আর না একটু নড়াচড়া করেছে। কেমন পুতুলের ন্যায় সারাক্ষণ শুয়ে থাকে৷ মাঝেমধ্যে চোখের কার্নিশ বেয়ে অশ্রুও পড়তে দেখা যায়। বিশেষ করে যখন তার কাছে পঁচা আধার স্যার থাকে, তখন! মানুষটা দিনের বেলা না থাকতে পারলেও সারারাত থাকে। এই কয়েক মাসের মধ্যে একবারের জন্যও খান বাড়িতে রাত কাটায়নি। সবসময় হাসপাতালে অর্ধাঙ্গিনীর পাশের বেডে থেকেছে। কখনো কখনো মেয়েটাকে দেখতে দেখতে পুরো রাতও পার করে দেয়। খুব ইচ্ছে করলে, মেয়েটার বুকে মাথা রেখে চুপটি করে থাকে।
আধারের মধ্যে বেশ পরিবর্তন এসেছে। সে আগের থেকেও বেশি গম্ভীর হয়ে গেছে, সাথে ক্ষিপ্তও হয়েছে। কেউ কিছু বললেই সে ছাৎ করে উঠে। দাদাজান ও শশুর বাড়ির লোক ব্যতীত কারোর সাথেই ঠিকমতো কথা বলে না। এমনকি ভার্সিটিতেও সে অনেক স্ট্রিট হয়ে গেছে! কেউ পড়ায় অমনোযোগী হলে বা পরীক্ষার সময় উঁকিঝুঁকি মে’রে দেখার চেষ্টা করলে, সোজা ফেল করে দেয়৷ সাথে কঠিন কঠিন বাক্য তো রয়েছেই। আগের থেকেও বেশি এখন সকল স্টুডেন্ট স্যারকে ভীষণ ভয় পায়। আলোর বন্ধুমহলদের কিছু জানানো হয়নি। তারা খোঁজ নিলে বলা হয়েছে, আলো তার স্বামীর কাছে গিয়েছে কয়েকমাসের জন্য। শুধু শুধু ছেলে-মেয়েদের কষ্ট দিয়ে লাভ নেই। এতে পড়ালেখার ক্ষতি হবে।
আজকাল ভার্সিটিতেও থাকতে ইচ্ছে করে না আধারের। কারণ যেখানেই তাকায়, সেখানেই মেয়েটার স্মৃতি মনে পড়ে। এই যে, প্রতিদিন ক্লাসে প্রবেশ করা মাত্রই সে লাস্ট বেঞ্চের দিকে তাকায়। মেয়েটা ওখানে বসে থেকে বান্ধবীদের সাথে ফাসুরফুসুর করত, আর তার বকা শুনত। বাগানে গেলে মনে হয়, মেয়েটা তার চোখের সামনে ফুল চুরি করার চেষ্টা করছে। ক্যাম্পাসের দিকে তাকালে শুনতে পায়, মেয়েটা গিটার নিয়ে গান গাইছে। সে কতবার যে আড়াল থেকে মেয়েটার মিষ্টি কণ্ঠের গান শুনেছে, তার কোনো হিসেব নেই। কফি খেতে খেতে পাঁচ তলা থেকে আর মেয়েটাকে খিলখিল করে হাসতে দেখা যায় না। এই পুরো ভার্সিটিতে মেয়েটার কতশত স্মৃতি রয়েছে। অথচ আজ সেই উড়ন্ত পাখিটাই নেই!
আধার দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে চোখে চশমা পড়ে করিডোর দিয়ে হাঁটতে শুরু করল। হঠাৎই কিছু একটা দেখে পা জোড়া শ্লথ হয়ে গেল। একটা মেয়ের চুলের বিনুনি চেপে ধরে আছে এক ছেলে। মেয়েটা নিজের বিনুনি ধরে টানাটানি করছে, আর ছেলেটাকে বকছে। এই দৃশ্যটা দেখে আধার আনমনে হাসল। সেও তো তার বউয়ের মাথার চুল ধরে টানাটানি করত। মেয়েটাকে বিরক্ত করতে, তার আলাদাই মজা লাগত। আর এখন সে প্রতিটা মূহুর্তে সবকিছু মিস করে! হয়তো একটু বেশিই।
ভার্সিটি শেষে সন্ধ্যার দিকে একগুচ্ছ লাল গোলাপ নিয়ে হাসপাতালে যায় আধার। সোবহান খানও মাঝেমধ্যে তার নাতবউকে দেখতে আসেন এবং গল্প করে যান। উনার সাথে কয়েকবার তাহমিনা খানও এসেছিলেন। তিথি বাড়িতে আসলেই আগে হাসপাতালে আসে। তারপর ভাবীর সাথে একা একা বকবক করে সময় কাটায়। রাত কয়েকবার এসেছিল, তবে বড় ভাইয়ের অবর্তমানে! এই খবরটা একদিন কানে যাওয়ার পর আধার নার্সের সাথে রাগারাগি করেছিল। কারণ সে সাফসাফ জানিয়ে দিয়েছিল, আলোর কেবিনে সে ব্যতীত অন্য পুরুষ যেন না প্রবেশ করে। এমনকি সে লেডি ডক্টরের অধীনে মেয়েটাকে রেখেছে।
ভিআইপি ডাবল বেডের কেবিনসহ দুজন নার্সকে নিয়েছে। যেন তারা সারাদিন মেয়েটার পাশে থেকে দেখাশোনা করে। এর জন্য প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকাও দেয়! অথচ তার কথায় খেলাপ করেছে। নার্সরা নিজেদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে, পরবর্তীতে আর এমন হবে না বলে জানায়! আধার তখন শেষ বারের মতো একটা সুযোগ দেয়। তারপর থেকে শুধু আলোর বাবা, চাচা ও দাদাজান ব্যতীত কোনো পুরুষকে ঢুকতে দেয়নি।
আধার কেবিনের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করল। দুজন নার্স তাকে দেখে চুপচাপ বেড়িয়ে গেল। আধার এগিয়ে এসে বেডের পাশে টি-টেবিলের ওপর রাখা, ফুলদানি থেকে আগের ফুল বের করে তাজা গোলাপগুলো রেখে দেয়। তারপর অর্ধাঙ্গিনীর কাছে বসে, ঝুঁকে এসে পুরো চেহারায় ঠোঁট ছুঁয়ে দিয়ে দিল এবং শুকিয়ে যাওয়া ঠোঁটের কোণে শব্দ করে চুমু খেয়ে বলল,
-“আমাকে মিস করছিলে? উমম…আমি তোমাকে বড্ড মিস করছিলাম।”
মেয়েটার কোনো সাড়াশব্দ নেই। সে তো নিথর হয়ে শুয়ে আছে বেডে। পরণের হাসপাতালের পোশাক, কোমর পর্যন্ত পাতলা চাদরটা টেনে দেওয়া! একহাতে স্যালাইন চলছে। পুরো নিস্তব্ধ রুমের মধ্যে শুধু হার্টবিট মাপার মেশিন থেকে বিপ..বিপ.. শব্দ ভেসে বেড়াচ্ছে। আধার মেয়েটার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে ধীর কণ্ঠে বলল,
-“আর কত মাস এইভাবে শুয়ে থাকবে? পাঁচটা মাস কি বেশি নয়? এইবার তো উঠে পড়ো মিস. কালো। আমাকে অনেক শাস্তি দিয়েছো, আর দিও না! আমি যে আর সইতে পারছি না। আমাদের এই অনাকাঙ্ক্ষিত দূরত্ব আমাকে একটু একটু করে শেষ করে দিচ্ছে। আমি তোমাকে চাই, খুব করে তোমাকে চাই!”
আধার কিছুক্ষণ আলোর দিকে তাকিয়ে থেকে বুকের ওপর মাথা রাখল। তারপর আলতো হাতে জড়িয়ে ধরে, শব্দ করে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। চোখদুটো বুঁজে অস্ফুটস্বরে বিরবির করে বলল,
-“আপনার স্বামী আপনাকে ছাড়া ভালো নেই, মিসেস খান! একটুও ভালো নেই। এই পঁচা আমিটার জন্য হলেও ফিরে আসুন। নয়তো দেখা যাবে, আপনার বিরহে আমি-ই দম আঁটকে ম’রে যাবো। তখন আপনি আবার বলবেন, নিজের বউকে ছেড়ে পালিয়ে গেছি। অথচ এই আপনিটাই আমাকে ছেড়ে এখানে দিব্যি ঘুমিয়ে আছেন। এতে যে আমার কষ্ট হয়, বড্ড বেশি কষ্ট হয়, মিসেস খান! আপনার কী কষ্ট হচ্ছে না?”
একটু থেমে পুনরায় আওরাল,
-“জান? তুমি কি আমাকে অনুভব করতে পারছো? নাকি ভুলে গেছো?”
আধার কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবারো ডেকে উঠল,
-“জান…? আমার ডাকে সাড়া দিবে না?”
প্রতিত্তোরে কিছু শুনতে পেল না আধার। শুধু বুক চিঁড়ে বেরিয়ে এল এক দীর্ঘশ্বাস! একই সাথে আলোর বন্ধ চোখের কার্নিশ বেয়ে কয়েক ফোঁটা নোনা অশ্রুজল গড়িয়ে পড়ল।
আজ শুক্রবার হওয়ায় আধার বাড়িতে এল। সে প্রতি সপ্তাহে একবার করে আসে, দাদাজানের জন্য। আবার বিকেলে নয়তো সন্ধ্যায় ফিরে যায় হাসপাতালে। আলোর টুনা, টুনি ছায়াকে দিয়েছে। কারণ এখানে তাদের খেয়াল রাখার মানুষ নেই। শেফালি চাচি রান্নাঘর নিয়ে ব্যস্ত থাকে, আবার তিনি রাতে চলে যান। একবার তো খবর পেয়েছিল, তাহমিনা খান বাচ্চাদের মে’রেছে। উনার রুমে ঢুকে নাকি বিরক্ত করছিল। এটা শোনা মাত্রই দু’জনকে রহমান বাড়িতে রেখে এসেছে। কারণ সে চায় না, তার প্রিয় মানুষটির শখের জিনিসের কিছু হোক। আর তার বিশ্বাস আছে, ছায়া কখনোই তার আপুর শখের জিনিসকে অবহেলা করবে না। তার আর মায়ার কাছেও দুটো খরগোশের ছানা রয়েছে। ওদের সাথেই থাকছে আর সময়ের সাথে সাথে বড় হচ্ছে।
আধার ড্রয়িংরুমে প্রবেশ করে দেখল, সোফায় তাহমিনা খান, সোবহান খান ও একজন ঘটক বসে আছে। আধার বেশি মাথা ঘামাল না, হতে পারে তাহমিনা উনার ছেলের জন্য মেয়ে দেখছে। নয়তো মেয়ের জন্য পাত্র দেখছে। সে এখন আর খুব বেশি এই পরিবারের মধ্যে নাক গলায় না। নিজেকে বড্ড দূরে সরিয়ে নিয়েছে! কারণ আজকাল তার সবকিছুই অসহ্য লাগে৷ ইচ্ছে করে সারাক্ষণ ওই মেয়েটার কাছে গিয়ে বসে থাকতে। দিনশেষে ওইটাই তার শান্তির জায়গা।
-“দাদুভাই? নাতবউ কেমন আছে?”
দাদাজানের কথায় আধার মাথার এলোমেলো চুলগুলো ঠিক করতে করতে বিরবির করে বলল,
-“হু, আমাকে ছেড়ে তোমার নাতবউ ভালোই আছে।”
সোবহান খান দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। বড় নাতির মলিন মুখটা দেখলে তার খুব কষ্ট হয়। ছেলেটা কি খায়, না খায় কিচ্ছুটি জানে না। সপ্তাহে একবার করে এখানে এলে সে কোনোমতে একটু খাবার নিজ হাতে জোর করে খাইয়ে দেয়। এই কয়েকমাসে আধার অনেকটাই শুকিয়েছে। কত রাত যে নির্ঘুম কাটিয়েছে, সেটারও হিসেব নেই। হৃদয়টা ক্ষতবিক্ষত হলেও বাহিরে ঠিকই নিজেকে শক্ত দেখানোর চেষ্টা করে। অথচ ছেলেটা আগের থেকেও বেশি ছন্নছাড়া হয়ে গেছে।
আধার শার্টের দুটো বোতাম খুলে সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠার সময় পিছন থেকে তাহমিনা খান ডেকে উঠলেন,
-“তোমার সঙ্গে আমার কিছু কথা রয়েছে।”
আধার পিছনে না তাকিয়েই বলল,
-“বলুন!”
-“আর কতদিন এইভাবে থাকবে? নিজের ভবিষ্যতের কথা একবার চিন্তা করছো?”
-“আমি এইভাবেই ঠিক আছি।”
-“তুমি ঠিক থাকলেও এই সংসার ঠিক নেই। এ বাড়িতে বউমাদের প্রয়োজন।”
-“আপনার ছেলেকে বিয়ে দিয়ে বউ নিয়ে আসুন। এতে বাঁধা দিয়েছে কে?”
-“রাত সবে নিজের ক্যারিয়ারের দিকে মন দিয়েছে, আর ও এখন বিয়ে করতে চায় না। তাই তোমার জন্য মেয়ে দেখছি!”
আধার ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে কপাল কুঁচকে বলল,
-“আমার জন্য মেয়ে দেখছেন মানে? আপনি কী ভুলে গিয়েছেন, আমি একজন বিবাহিত পুরুষ?”
-“ওই জীবন্ত লা’শের জন্য আর কত অপেক্ষা করবে? যদি কখনো ফিরে না আসে, তখন?”
আধারের চোয়াল শক্ত হলো৷ সে এগিয়ে এসে কাঁচের টি-টেবিল তুলে ফ্লোরের মাঝে এক আছাড় মা’রল। সঙ্গে সঙ্গে কাঁচগুলো ভেঙে চারপাশে ছড়িয়ে, ছিটিয়ে পড়ল। তাহমিনা খান ও ঘটক সাহেব চমকে উঠে দাঁড়ালেও সোবহান খান চুপচাপ বসে থাকল। কারণ তিনি আগে থেকেই জানতেন এমন কিছু হবে।
-“আমার বউ শুধু কোমায় আছে, ও ম’রে যায়নি! আর এতই যদি বিয়ের শখ, তাহলে আপনি বিয়ে করুন না? আপনার সো কোল্ড স্বামী তো কবেই মা’রা গেছে।”
আধার দাঁতে দাঁত চেপে কথাগুলো বলে উঠল। তাহমিনা খান চিল্লিয়ে উঠে বললেন,
-“তুমি কী বলছো, একবার ভেবে বলছো? আমি কেন বিয়ে করব? আমি তোমার বাবাকে ভালোবাসি। উনাকে ছাড়া আমি অন্য কাউকে ভাবতেই পারি না।”
-“তাহলে আমাকে কোন মুখে বিয়ে করতে বলছেন? একটুও বিবেকে বাঁধল না? আপনি যেমন আপনার স্বামীকে ভালোবাসেন, তেমন আমিও আমার বউকে ভালোবাসি। তার জন্য শুধু এই ক’টা মাস কেন? বছরের পর বছরও আমি অপেক্ষা করতে প্রস্তুত। এই অপেক্ষা করতে করতে যদি বুড়োও হতে হয়, তাহলেও আই ডোন্ট কেয়ার! নেক্সট টাইম আমাকে কিছু বলার আগে দশবার ভেবে নিবেন।”
কথাগুলো বলে আধার হনহনিয়ে দোতলায় উঠে গেল। কিছু একটা ভেবে হঠাৎই থেমে গিয়ে, নিচে তাকিয়ে ঘটকের উদ্দেশ্যে বলল,
-“এই যে ঘটক মশাই? আপনি এখান থেকে যাবেন নাকি ডাইনিং টেবিল আপনার মাথায় ভাঙব?”
এহেন কথা শুনে ঘটক সাহেব শুকনো ঢোক গিলে তড়িঘড়ি করে ছবিগুলো নিজের পোটলার মধ্যে ঢুকিয়ে চলে গেল।
-“আপনি দেখলেন বাবা? আপনার বড় নাতি দিনদিন কতটা বেয়াদব হচ্ছে?”
সোবহান খান শান্ত গলায় বললেন,
-“আমি তোমাকে আগেই মানা করেছিলাম এমনটা না করতে। ছেলেটা সারাক্ষণ সাপের মতো ফোঁস ফোঁস করে। একটু ভালো কথা বললেও ছাৎ করে উঠে। আর রাগের কথা তো না-ই বললাম। ও আজকাল আমার সাথেও ঠিকমতো কথা বলে না। আমার নাতিটা এখন ভালো নেই ছোট বউমা! ও যে পরিস্থিতিতে রয়েছে সেখানে, এমন অদ্ভুত ব্যবহার করা কী অস্বাভাবিক কিছু? ও আগে থেকেই অদ্ভুত ছিল, শুধু ধৈর্য্য ধরে থাকত। কিন্তু এখন তার ধৈর্য্য নেই বললেই চলে। তাই এমন বদমেজাজির হয়ে গেছে। তুমি সবকিছু জেনেশুনেও যদি ক্ষিপ্ত সাপের লেজ ধরে টানাটানি করো, তাহলে তো ছোবল খেতেই হবে। তাই বলছি, এখনো সময় আছে, নিজেকে শুধরে নাও! নয়তো ভবিষ্যতে অনেক পস্তাবে।”
কথাগুলো বলে সোবহান খান সেখান থেকে চলে যান। আর তাহমিনা খান রাগে ফুঁসতে থাকলেন!
আধার লম্বা শাওয়ার নিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থেকে সিগারেট ফুঁকছে। এটা সাড়ে চারমাস ধরে খাওয়া শুরু করেছে। তবে খুব একটা বেশি খায় না, যখন মন খারাপ বা অতিরিক্ত কষ্ট অনুভব করে, তখন খায়। কিন্তু আজকে কেন জানি সিগারেট টানতেও ভালো লাগছে না। সে নাকমুখ দিয়ে ধোঁয়া বের করে, আগুন নিভিয়ে নিচে ছুঁড়ে মা’রল। তারপর খোলা নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকে বলে উঠল,
এক মুঠো চাঁদের আলো পর্ব ৩২
-“আধার খান যখন একবার কাউকে ভালোবেসে ফেলেছে, তখন শেষ নিঃশ্বাস অবধি তাকেই ভালোবেসে যাবে! তুমি চাইলেও আমি তাকে ছাড়ব না। বরং—আমিও দেখি, তুমি আর কতদিন আমার ভালোবাসার পরীক্ষা নাও।”

Khub khub khub bhalo hoyeche next part er jonno odhir agroho roilo ……. 💙