বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৫৯
shanta moni
“রুহি কান্নায় যেনো কারো মন গলে না, মাটি থেকে টানতে টানতে নিয়ে যায়,রাশেদ। রুহি কাঁদতে কাঁদতে করুন স্বরে বলে উঠে…!”
রুহি: আল্লাহ দোহাই লাগে এতো বড় পাপ করবেন না,প্লিজ। ছাইড়া দেন আমারে।
_রুহি হাজার আকুতি কারো কানে যায়না, রাশেদ রুহিকে টানতে টানতে জঙ্গলের ভেতরে পুড়ানো এক অন্ধকার বাড়ির সামনে নিয়ে আসে। চাঁদের আলোয় পুড়ানো বাড়িটা কেমন যেনো ভুতুরে বাড়ি মতো দেখাচ্ছে। রুহি হাত পিছন থেকে বেঁধে, মুখে কাপড় দিয়ে বেঁধে রেখেছে। আসে পাশে শুনশান নীরবতা রুহির মুখ দিয়ে কোনো শব্দ করতে পারছে না। গলা কাটা মুরগীর মতো ছটফট করছে। চারদিকে জঙ্গলে ঘেরা, পুড়ানো এক অন্ধকার বাড়ি। রুহিকে টানতে টানতে বাড়ির ভিতরে দিকে নিয়ে যায়। পিছনে সেই হুডি পড়া লোকটা আছে। রুহিকে রাশেদ ধরে নিয়ে যায়। অন্ধকার সেই বাড়ির ভিতরে।
রুহি বার বার নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু কোনো ভাবেই নিজেকে ছাড়াতে পারছে না। অন্ধকার একটা রুমে ভিতরে এনে দরজা বন্ধ করে ফেলে রাশেদ। রুহির মুখের বাঁধন খুলে দিয়ে সয়তানি হাঁসি দিয়ে রুহির দিকে তাকায়।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
_রুহির গলা শুকিয়ে গেছে। ভয়ে ছোটাছুটি করছে কিন্তু কোনো ভাবেই নিজেকে ছাড়াতে পারছে না।
_রাশেদ রুহির হাত ধরতেই রুহি ভয়ে কেঁপে ওঠে। কাঁপা কাঁপা স্বরে বলে উঠে।
রুহি: দোহাই লাগে আপনার প্লিজ আমাকে অপবিত্র করবেন না।
_রাশেদের চোখে মুখে হ্রিংসতা, রুহির কোনো কথাই সে কানে নেয় না। রুহি চিৎকার করে কাঁদছে, আর বলছে
রুহি: গায়ক সাহেব কোথায় আপনি! প্লিজ তাড়াতাড়ি আসুন। আমার কষ্ট হচ্ছে। গায়ক সাহেব, এই পশুর হাত থেকে বাঁচান আমায়।
_রুহির এমন চিৎকারে রাশেদ রাগে তেতে উঠে বলে।
রাশেদ: এই শা*লি চুপ থাক।
রাশেদের ধমকে রুহির কান্না বেগ আরো বাড়তে থাকে। রাশেদ দিকে তাকিয়ে আকুতি স্বরে বলে।
রুহি: আমাকে ছেড়ে দিন প্লিজ৷ আমাকে অপবিত্র করবেন না। আমার গায়ক সাহেব আমার জন্য অপেক্ষা করছে।
রাশেদ: চুপ থাক তুই, কেউ বাঁচাতে পারবে না তোকে।
রুহি: আমাকে মেরে ফেলুন তাঁরপর আমার গায়ে নোংরা স্পর্শ দিয়েন না। আল্লাহ দোহাই লাগে।
_রুহির কোনো কথাই রাশেদের মনে মায়া হয় না। রুহি কাঁদছে আর বিড়বিড় করে বলছে।
রুহি: আপনার সাথে আর সংসার হলো না, গায়ক সাহেব।
_এই নিষ্ঠুর পৃথিবী আমাদের ভালোবাসা পূর্নতা পেতে দিলনা গায়ক সাহেব ।
_রুহি কাঁধের কাপড় অনেকটাই ছিড়ে গেছে। রাশেদ রুহিকে ধরতে আসলেই রুহি রাশেদের পুরুষ অঙ্গ বরাবর লাথি মারে। রাশেদ গগন ফাটানো চিৎকার দিয়ে বসে পড়ে রুহি দৌড়ে রুমে দরজা খুলে বেড়িয়ে আসে। কিন্তু তখনি হুডি পড়া লোকটা এসে রুহিকে ধরে ফেলে।
রাশেদ ব্যথায় চিৎকার করে বলে উঠে।
রাশেদ: ধরো শা*লিরে পালাতে যেনো না পারে। ওরে আজকে আমি শেষ করে ফেলবো।
_হুডি পড়া লোকটা রুহিকে টানতে টানতে রুমের ভিতরে নিয়ে আসে।
_শেষ আশা টুকু হারিয়ে ফেলে রুহি।
_নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে, আর বার বার বলছে।
_রুহি: আল্লাহ আল্লাহ গো বাঁচাও তুমি আমায় এই জা*নোয়ারের হাত থেকে। আল্লাহ আল্লাহ বাঁচাও আমায়।
_রুহি কান্নায় যেনো চারপাশে জীম মেরে আছে।
রুহি: ভাই ভাই কই তুই, ভাই, ভাই আমাকে বাঁচা ভাই। এই পশু গুলোর হাত থেকে বাঁচা আমাকে।
_রুহিকে রুমের মধ্যে আটকে রেখে বাহির থেকে দরজা লক করে চলে যায়, হুডি পড়া লোকটা।
_রাশেদ রাগে ক্ষোভে ঝাঁপিয়ে পড়ে রুহির উপর। পুড়ো রুমে রুহির গলা ফাঁটা চিৎকার।
_রুহি: আল্লাহ দোহাই লাগে তোরা আমায় মেরে ফেল। তাঁরপর এতো বড় পাপ করিস না।
_ভাই, ভাইরে কই তুই, তোর বোনটাকে বাঁচা ভাই।
বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৫৮ (৪)
_আল্লাহ ও আল্লাহ তুমি আমায় মৃত্যু দাও। মৃত্যু দাও মাবুদ।
_আল্লাহ আমাকে কলঙ্কের দাগ নিয়ে মৃত্যু দিও না। মাবুদ তুমি আমারে মৃত্যু দাও।
_গায়ক সাহেব আপনার লাল টুকটুকে বউ সাজা হলো না। আপনার সাথে সংসার হলোনা আমার।
_এই নিষ্ঠুর পৃথিবী আমাদের মিল হতে দিল না।
