Home অস্তরাগের রঙ অস্তরাগের রঙ পর্ব ১৮ (২)

অস্তরাগের রঙ পর্ব ১৮ (২)

অস্তরাগের রঙ পর্ব ১৮ (২)
তেজরিন উম্মীদ

কোমরে আঁচল জড়িয়ে, হাতে তপ্ত খুন্তির নাচন তুলে আজ যেন এক পুরোদস্তুর পাকা গিন্নি হয়ে উঠেছে রুশদী। রান্নাঘরের উত্তাপে আর মশলার সুবাসে তার ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। গৃহপরিচারিকারা পাশে থেকে হাত বাড়ালেও, প্রতিটি পদের নিখুঁত স্বাদের তদারকি সে নিজেই করেছে। ওদিকে ঘড়ির কাঁটা বারোটা পেরোতেই শেহজাদ খান, শারফারাজ আর শের শুভ্র পাঞ্জাবিতে সজ্জিত হয়ে রওনা দিয়েছেন মসজিদের পানে—জুম্মার নামাজ আদায় করতে।
রান্না শেষ করে যখন সে নিজের ঘরে ফিরল, তখন ক্লান্তিতে শরীর নুইয়ে আসছে।চুলার তাপে আর ঘেমে-নেয়ে তার একাকার অবস্থা; মনে হচ্ছে এখনই শীতল পানিতে গোসল না সারলে দম আটকে যাবে। আলমারি থেকে নিজের পছন্দের সিল্কের শাড়িটা বের করে সে দ্রুত ওয়াশরুমে ঢুকে গেল।

খানিক বাদে যখন রুশদী গোসল শেষ করে বের হলো, ঘরের নিস্তব্ধতা ভেঙে অন্য কারোর উপস্থিতির অস্তিত্ব টের পেল সে। ঘরের বাতাসে মিশে থাকা পরিচিত পারফিউমের ঘ্রাণ জানান দিচ্ছে—ফারাজ ফিরেছে। আলমারি থেকে কিছু একটা বের করে ফারাজ সবেমাত্র তা লক করছিল। শের আর শেহজাদ খান হয়তো এখনো মসজিদেই আছেন, কিন্তু ফারাজ আগে নামাজ শেষ করে ঘরে ফিরে এসেছে।কোনো কাজে শেহজাদ খান রয়ে গিয়েছেন, সাথে শের।

ফারাজ ঘুরে দাঁড়াতেই তার দৃষ্টি স্থির হয়ে গেল সামনের দৃশ্যপটে। দুধে-আলতা গায়ের বরণের এক মায়াবী প্রতিমা যেন তার সামনে দাঁড়িয়ে। ড্রেসিং টেবিলের আয়নার সামনে কিছুটা হেলে দাঁড়িয়ে রুশদী তোয়ালে দিয়ে তার ভেজা চুলগুলো মুছছে। সদ্য স্নান সেরে আসায় তার ললাটে আর গ্রীবায় জমে আছে স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ কয়েক ফোঁটা জলবিন্দু, যা জানালার রোদে মুক্তোর দানার মতো চিকচিক করছে। পরনের নিকষ কালো সিল্কের শাড়িটা তার ফর্সা শরীরে যেন এক অন্ধকারের আভিজাত্য লেপে দিয়েছে।
ড্রেসিং টেবিলের পাশের জানালা দিয়ে দুপুরের তপ্ত সূর্যের একফালি তির্যক আলো এসে পড়েছে রুশদীর শরীরের ওপর। ফারাজ আলমিরার সাথে হেলান দিয়ে, দু’হাতে বুক বেঁধে মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে রইল। রুশদী যখন ভেজা চুলে আলতো ঝাড়া দিয়ে সেগুলো পিঠের ওপর মেলে দিল, তখন কয়েক ফোঁটা জলছটা ফারাজের মনেও যেন ঢেউ তুলে গেল। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে রুশদী যখন মুখে ক্রিম মাখছিল, ফারাজের নজর কাড়ল তার ফর্সা কবজিতে থাকা সেই স্বর্ণের বালা দুটি। বিয়ের রাতে উপহার দেওয়া সেই বালাজোড়া রুশদীর ধবধবে হাতে আজ যেন দ্বিগুণ উজ্জ্বলতায় ভাস্বর হয়ে উঠেছে।
ফারাজ ভাবছে, এটাই কি তবে নেশার সর্বোচ্চ স্তর? এ নেশা তো কাটার নয়, বরং প্রতি মুহূর্তে আরও আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরছে তাকে। কালো শাড়িতে মোড়ানো রুশদীর এই রূপ যেন এক জীবন্ত কবিতা। ফারাজ হঠাৎ হৃদপিণ্ডের বাঁ পাজরে হাত চেপে ধরে, তীব্র যন্ত্রণার অভিনয় করে চোখ-মুখ কুঁচকে আর্তনাদের স্বরে ফারাজ বলে উঠল,

“ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন!”ফারাজ যেন
কোনো এক অদৃশ্য মায়াজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। তার চোখে আজ গভীর নেশা—সে নেশা মদের নয়, বরং তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রমণীর অপরূপ সৌন্দর্যের। সে অপলক দৃষ্টিতে রুশদীকে পায়ের তলা থেকে মাথা অব্দি বারবার পরখ করে নিল। মনে মনে আওড়াল, ‘নিজের বউ বলে কথা, না জানি কার নজর লেগে যায়!’এমনকি নিজের দুষ্টু নজর থেকেও রুশদীকে আড়াল করে রাখতে ইচ্ছে হলো ফারাজের।
রুশদী আয়নায় মগ্ন, সে টেরই পায়নি তার পেছনে এক রোমিওর আবির্ভাব ঘটেছে। সে যখন হাত উঁচিয়ে নিজের অবাধ্য চুলগুলো গোছাতে শুরু করল, শাড়ির আঁচলটা আলগোছে কিছুটা সরে গেল। ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় তার মসৃণ কোমরের কিয়দাংশ ফুটে উঠতেই ফারাজের বুকের ভেতরটা যেন খাঁচায় বন্দি পাখির মতো ধক করে উঠল। উত্তেজনার এক শীতল স্রোত বয়ে গেল তার শিরদাঁড়া দিয়ে; এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসবে।
ফারাজ আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। কিছুটা টালমাটাল পায়ে গিয়ে বিছানায় বসল। কোলে একটা বালিশ টেনে নিয়ে, বাম হাতের আঙুল থুতনিতে ঠেকিয়ে সে তাকিয়ে রইল রুশদীর দিকে। গলার ভেতর জমে থাকা আড়ষ্টতা কাটাতে এক কৃত্রিম কাশি দিল,”উহহু, উহহু!”

হঠাৎ শব্দে রুশদী চমকে পেছনে ফিরল। তবে পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে শান্ত গলায় বলল, “কখন এলেন?” বলেই আবার নিজের সাজগোজের কাজে মন দিল।
খানিক নীরবতা ভেঙে ফারাজের গম্ভীর অথচ মায়াবী কণ্ঠ শোনা গেল, “হঠাৎ শাড়ি পরেছ কেন?”
রুশদী আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে দেখতেই উত্তর দিল, “ইচ্ছে হলো, তাই পরলাম।?”
ফারাজ সোজা হয়ে বসে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, “যাও, শাড়িটা বদলে এসো।”
রুশদী এবার পূর্ণ দৃষ্টিতে ফারাজের দিকে তাকাল। চোখেমুখে তার রাজ্যের উৎকণ্ঠা। একটু আগেই তো মনে হলো লোকটা মুগ্ধ হয়ে দেখছে, তবে এখন এমন বলছে কেন? অভিমানী সুরে সে প্রশ্ন করল, “কেন? আমায় কি সুন্দর লাগছে না?”
ফারাজ এক বাঁকা হাসি দিল, যে হাসিতে মিশে আছে গভীর আকাঙ্ক্ষা। সে ধীরপায়ে উঠে দাঁড়িয়ে রুশদীর কাছে এগিয়ে এসে নিচু স্বরে বলল,

“শাড়ি পরলে পুরুষদের চোখে মেয়েদের দুই ধরণের সৌন্দর্য ধরা পড়ে। এক, শাড়িতে তাকে অসম্ভব মায়াবী আর সুন্দর লাগে। আর দুই, শাড়ি খুললে তাকে আরও সহস্রগুণ বেশি সুন্দর লাগবে,তাই বলছি, বেশি কথা না বলে চুপচাপ শাড়িটা পাল্টে নরমাল কোনো ড্রেস পরে আসো।”
ফারাজের মনের গহীনের আগাম বার্তা বুঝতে পেরে রুশদী কিছুটা শান্ত রইল। সে জেদ ধরে বুক ফুলিয়ে বলল, “দুঃখিত মিস্টার খাম্বা, আমি শাড়ি চেঞ্জ করবো না। নিজেকে বেশ সুন্দর লাগছে আমার কাছে।”
ফারাজ এবার আরও একধাপ কাছে এসে দাঁড়াল। তার তপ্ত নিশ্বাস রুশদীর কপালে আছড়ে পড়ছে। সে শান্ত কিন্তু দৃঢ় গলায় বলল,—”আমার কাছেও লাগছে তাই কথা শুনো,শাড়ি চেঞ্জ করে আসো।তোমার ভালোর জন্য বলছি। ”
রুশদী মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে বলল, “আমার ভালো আপনাকে দেখতে হবে না।”
ফারাজ এবার রুশদীর দু কাঁধ শক্ত করে ধরে নিজের দিকে ঘোরাল। তার চোখের মনিতে এখন গভীর অভিসন্ধি। সে ফিসফিস করে বলল,”দেখো, তোমার কাছে অপশন এখন দুইটা, যেকোনো একটা বেছে নাও:

১. হয় তুমি ভদ্রভাবে নিজে গিয়ে শাড়ি বদলে নরমাল ড্রেস পরে আসবে।
২. নয়তো, আমি নিজ দায়িত্বে তোমার শাড়ি খুলব
এখন সিদ্ধান্ত তোমার—শাড়ি কি তুমি নিজে খুলবে, নাকি আমি খুলে নিব”
ফারাজের গলার স্বরে এক অদ্ভুত মাদকতা আর প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত। কথার গূঢ় অর্থ বুঝতে পেরেই রুশদীর সারা শরীরে একটা মৃদু কম্পন বয়ে গেল, তার শরীরের প্রতিটি রোমকূপ যেন এক অজানা শিহরণে কাঁটা দিয়ে উঠল। লজ্জায় এবং তীব্র জড়তায় মুহূর্তের মধ্যে তার ফরসা মুখটা রক্তিম বর্ণ ধারণ করল। সে বিস্ময় আর বিরক্তি মেশানো চোখে ফারাজের দিকে তাকিয়ে বলে উঠল,
“ছি! এসব কী ধরনের ফালতু কথা বলছেন আপনি?”
ফারাজ যেন একটু অবাক হওয়ার ভান করল। কপালে সামান্য ভাঁজ ফেলে সে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ল, “এটাকে ফালতু কথা মনে হচ্ছে তোমার?”

“নয়তো কি?” রুশদী নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করল।
ফারাজ এক গাল হেসে বিছানারদিকে পা বাড়ায়।বিছানায় বসে তার দিকে তাকিয়ে বলল, “”এটা লুমান্টিক কথা বউ।ছ্যাহ!উ রোমান্টিক কথাও বুঝে না।আচ্ছা আপনার মতে আরেকটা ফালতু কথা বলি?নিজের উন্মুক্ত সাদা ধবধবে পেটটা একটু ঢেকে ঢুকে চলুন আপনার স্বামীর নজর খারাপ।”
ফারাজের মুখে এমন সোজাসাপ্টা মন্তব্য শুনে রুশদী হকচকিয়ে গেল। সে হন্তদন্ত হয়ে নিজের শরীরের দিকে তাকাল এবং তড়িঘড়ি করে আঁচল টেনে নিজের পেটটুকু আড়াল করল। ফারাজের কথায় একদিকে যেমন তার মনের গহীনে এক নাম না জানা এক অনুভূতির জোয়ার বয়ে যাচ্ছিল, অন্যদিকে প্রচণ্ড রাগে তার গা রি রি করে উঠল। কেউ কাউকে এভাবে লজ্জা দিয়ে কথা বলে?
রুশদী এবার কোমরে এক হাত রেখে, অন্য হাতের তর্জনী ফারাজের চোখের সামনে উঁচিয়ে শাসিয়ে উঠল, “শুনুন, আমার সাথে কথা বলার সময় একটু সাবধানতা অবলম্বন করবেন, মাইন্ড ইট!”
ফারাজ বিন্দুমাত্র বিচলিত হলো না। বরং ঠোঁটের কোণে সেই বাঁকা হাসিটা ধরে রেখে বলল, “আর যদি সাবধানতা অবলম্বন না করি? তখন কী করবে?”

“তাহলে একটা হাতুড়ি দিয়ে আপনার মাথায় বাড়ি মারব!” রুশদী রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে উত্তর দিল।
ফারাজের এবার বেশ হাসি পেল, কিন্তু পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সে হাসি চেপে গম্ভীর হওয়ার ভান করল। মাথা চুলকানোর অভিনয় করে বলল, “ওরে বাবা! হাতুড়ির বাড়ি? আচ্ছা ঠিক আছে, তাহলে সাবধানতা বজায় রেখেই বলি?”
নিজের আঙুল দিয়ে ইশারা করে ফারাজ এবার ফিসফিস করে বলল, “সাবধানতা মেনেই বলছি, শাড়ির ওই চিপা দিয়ে কিন্তু তোমার পেটটা এখনো দেখা যাচ্ছে।”
রুশদী এবার চরম রেগে গেল। সম্মানের শেষ সীমায় পৌঁছে সে অগ্নিশর্মা হয়ে তেড়ে গেল ফারাজের দিকে। চিৎকার করে বলল, “ম্যানারলেস! ইউ… ইউ…”

রুশদীর কথা শেষ হওয়ার আগেই ফারাজ মৃদু স্বরে, গভীর এক দৃষ্টি মেলে তার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে উঠল, “লাভ ইউ!”
রুশদী যেন আরও চটে গেল, গলার স্বর সপ্তমে তুলে বলল, “হেট ইউ! আই জাস্ট হেট ইউ!”
ফারাজ যেন এই উত্তরের জন্যই অপেক্ষা করছিল। সে আগের মতোই নির্বিকার মুখে আর এক চিলতে দুষ্টুমিভরা হাসি দিয়ে বলল, “ওকে জান, লাভ ইউ টু!”রুশদী কোনো উত্তর দিল না, শুধু জ্বলন্ত দৃষ্টিতে ফারাজের দিকে তাকিয়ে রইল। ফারাজ অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে নিজের হাতঘড়ির দিকে তাকাল।তারপর নির্লিপ্ত গলায় বলল, “ঠিক পাঁচ মিনিট আগে আপনাকে শাড়ি খোলার দুটো অপশন দিয়েছিলাম। আপনি এখনো শাড়ি বদলাননি, তার মানে ধরে নিচ্ছি আপনি ‘অপশন টু’ অর্থাৎ আমার সাহায্য পাওয়ার অপশনটিই বেছে নিয়েছেন। ওকে জান, তাহলে শাড়িটা খোলা যা…!”
কথাটা শেষ করার আগেই ফারাজ বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। তার শিকারি দৃষ্টি আর ধীর পদক্ষেপ দেখে রুশদী আতঙ্কে কয়েক কদম পিছিয়ে গেল। গলার স্বর উঁচিয়ে ধমক দেওয়ার চেষ্টা করে বলল, “হেহ! দূরে থাকুন বলছি! একদম কাছে ঘেঁষবেন না!”
কিন্তু কার কথা কে শোনে! ফারাজ যেন আজ কোনো বারণ মানার মুডেই নেই। সে চোখের পলকে রুশদীর দূরত্ব ঘুচিয়ে তাকে এক হ্যাঁচকা টানে নিজের তপ্ত বুকের সাথে মিশিয়ে নিল। রুশদী কিছু বুঝে ওঠার আগেই ফারাজ তার দুই হাত পিছমোড়া করে আটকে ধরল। রুশদীর দু’চোখে তখন আতঙ্ক আর বিস্ময়ের খেলা। সে ছটফট করতে করতে নিজেকে ছাড়ানোর বৃথা চেষ্টা করে বলল, “ছাড়ুন আমায়! কী করছেন এসব?”

ফারাজ তার কপালে কপাল ঠেকিয়ে এক চিলতে দুষ্টু হাসি মেখে ফিসফিস করে বলল, “আজব তো! ছাড়ার জন্য কি কেউ এত কষ্ট করে ধরে? তোমাকে কাছে পাওয়ার এই নেশাটুকু কি তুমি বুঝবে না ?”
ফারাজের গায়ের কড়া পারফিউমের ঘ্রাণ আর শরীরের উষ্ণতা রুশদীকে ক্রমশ আচ্ছন্ন করে ফেলছে। সে আমতা আমতা করে বলল, “ছাড়ুন! আম্মি বোধহয় খাওয়ার জন্য ডাকছেন।”
ফারাজ এবার রুশদীর কানের একদম কাছে মুখ নিয়ে গেল। তার তপ্ত নিশ্বাস রুশদীর ঘাড়ের উন্মুক্ত অংশে শিহরণ জাগাচ্ছে। সে আদুরে গলায় বলল, “আম্মিকে ছেড়ে আমাকে টুপ করে একটা চুমু দাও তো সোনা বউ। তাহলেই মুক্তি।তুমি চাইলে তিন-চারটাও দিতে পারো, আমার আপত্তি নেই। ”

“অখাদ্য সব কথাবার্তা! হ্যাৎ, ছাড়ুন তো!”—রুশদী মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করল।
কিন্তু রুশদীর এই অবাধ্যতা ফারাজকে যেন আরও বেশি প্রলুব্ধ করল। রুশদী কিছু বুঝে ওঠার আগেই ফারাজ টুপ করে তার নরম ওষ্ঠে গভীর এক চুমু এঁকে দিল। রুশদী মুহূর্তের জন্য পাথর হয়ে গেল। পরক্ষণেই বউ কষ্টে ফারাজের কাছ থেকে এক হাত ছাড়িয়ে, ওষ্ঠদ্বয় হাত দিয়ে ডলতে ডলতে ছি ছি করে উঠল, “ইশ! ছি!এসব কোন ধরনের অসভ্যতা?”
ফারাজ এবার সমস্ত লোকলজ্জার মায়া ত্যাগ করে আরও সাহসী হয়ে উঠল। সে রুশদীর আপত্তির তোয়াক্কা না করে তার কানের লতিতে ঠোঁট ছোঁয়ালো। ফারাজ অত্যন্ত গাঢ় স্বরে ফিসফিসিয়ে বলল, “অসভ্যতা তো এখনো শুরুই করিনি ডার্লিং। শাড়ির এই প্রতিটি ভাঁজ যেভাবে আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে, তাতে যদি আমি আজ সত্যিই নির্লজ্জ হয়ে যাই, তবে তোমার এই ফর্সা শরীরে আমার অধিকারের দাগ মোছার জায়গা থাকবে না।”

“এই তোমরা কি করছ? তোমরা কি প্রেম করছ?”
ফারাজের পুংটা ছেলে শেহরান খান শের! সে কখন যে রুমের খোলা দরজা দিয়ে উঁকি দিয়েছে কেউ টেরই পায়নি। শেরের কথা শোনা মাত্রই দু’জনে বিদ্যুতস্পৃষ্ট হওয়ার মতো একে অপরের থেকে ছিটকে দূরে সরে গেল। রুশদী লজ্জায় মাথা নিচু করে নিজের শাড়ি ঠিক করতে লাগল, আর ফারাজ অপ্রস্তুত হয়ে দেয়ালের দিকে তাকিয়ে কাশতে শুরু করল।
শের বেশ ফুরফুরে মেজাজে রুমের ভেতর ঢুকে দুই আসামির সামনে এসে হাত বেঁধে দাঁড়াল। তার চোখেমুখে গোয়েন্দাসুলভ হাসি। সে ফারাজের দিকে তাকিয়ে বলল, “তোমরা দরজা খুলে প্রেম করছিলে কেন?তোমাদের কি কমন সেন্সও নেই?”

অস্তরাগের রঙ পর্ব ১৮

ফারাজ নিজেকে সামলে নিয়ে রাগী স্বরে বলল, “তোমার তো খুব সাহস বেড়ে গেছে শের! বড়দের রুমে না বলে ঢুকে পড়লে কেন?”
শের একদম না দমে গিয়ে কাঁধ নাচিয়ে বলল, “আমি তো উঁকি দিয়ে পারমিশন চাইতেই যাচ্ছিলাম, কিন্তু দেখলাম তুৃমি মমকে চুমু খাচ্ছ!”
রুশদী লজ্জায় যেন মাটির সাথে মিশে যাচ্ছিল, আর ফারাজ দাঁত কিড়মিড় করে ভাবছে—এই পিচ্চিটাকে এখন আস্ত চিবিয়ে খাবে নাকি বারান্দায় নিয়ে টুস করে নিচে ফেলে দেবে!

অস্তরাগের রঙ পর্ব ১৯